.. তীয় ৰ$

তত্ব) জ্ঞাল্লভ্ড

প্রীরাধাকমল মুখোপাধ্যায়

কলে মাক, কলিকাতা

প্রকাশক শ্রীকীত্তিচন্দ্র রায়চৌধুরী এম. এ। ইগ্ডিয়ান বুকক্লাব লিমিটেড, কলেজস্্রট মার্কেট, কলিকাতা

সন ১৩৩০ সাল

চল9৩4 2০0৮ মিত০৪5 আপা 0698, উ৫500৪০৪তম 98556 01088,

ভন্মতএ ভ্ডাঞ্ভ্ড

বিংশ শতাব্দীর নব্যহিন্দৃত্‌ বিরাট ব্যর্থতা

পাশ্চাত্য চিন্তায় অবসাদ আলোচন! করিতে যাইয়। আমরা ইউরোপীয় সভাতার অন্তঃস্থলের একটা বিরোধের পরিচয় প্রদান করিয়াছি। খৃষ্টান ভাবুকতার সহিত অধুষ্টান সমাজ, সাম্যতন্ত্ের উচ্চ ভাবের সহিত সাশ্রাজা- নীতির আদর্শ, ব্যটিসর্কন্থ দর্শনের সহিত বিশ্বদর্শন ইউরোপে গাশাগাশি নাথা তুলিয়া দাড়াইয়াছে। কোন মীমাংসা, কোন সামগ্রস্ত এখনও পযন্ত হয় নাই।

পাশ্চাত্য সভ্যতায় বিশ্বধন্ম স্বধন্মে বিরোধ

পাশ্চাত্য সভ্যতার ইতিহাসই এই অনন্ত বিরোধের ইতিহাস; সেখানে হয় আমি সর্কেসব্বা হইয়া উঠিয়া বিশ্বকে গ্রাস করিয়া ফেলে, না হয় বিশ্ব একরাট্‌ হইয়া আমিকে একবারে লুপ্ত করে। হয় আছি একরাটু, না হয় বিশ্ব একরাট্‌। মাঝামাঝি তার কিছু নাই। হয় আমার জন্য বিশ্ব, না হয় বিশ্বের জন্য আমি। হয় আমার জন্য এই সভ্যতা, আমারই তুঙ্টিবিধানের জন্য বিষ্সভ্যতার বিকাশ; না হয় সভ্যতার জন্য আমি, সভ্যতার বিরাট অনন্ত প্রবহমাণ শোতে আমি তৃণের মত ভাসিয়া যাই। হয় এই বিশ্বে আমি একমাত্র লীলাময়, সমগ্র বিশ্ব আমার লীলাঙ্ষেত্র ; না হয় বিশ্বলীলার আমি ক্রীড়নক,_মহাকালের অনন্ত লীলা- আাতে আমি ক্ষণিকের বুদ্ধদের মত লীলা করিয়! ডুবি যাইতেছি।

৯৪২ তরুণ ভারত

হয় [7009101910, না হয় 0%61-300]) হয় 0011611911500, না হম 45105010015 08168011081] 11019618056 হয় আমার জন্য 10%, না হয় 01181581 10এর জন্য আমি সেখানে হয় আমি একরাট্‌ হইয়া বিশ্বকে কিনিব, আমার মূল বিশ্ব বিকাইয়া যাইবে,_না হয় বিশ্ব একরাটু, বিশ্বের মূল্যে আমি বিকাইয়! যাইব, বিশ্বের অর্থে আমার স্বার্থ একেবারে চাপা পড়িবে হয় সেখানে আমার স্বার্থে সমাজের দ্রব্যসামগ্রী বিকাইয়া গেল, না হয় সমাজ আমার স্থার্থকে--আমাকেই তার নিজের তুলাদণ্ডে ওজন করিয়! কিনিয়া লইল। হয় সেখানে ব্যক্ি-কেন্্রতা, ব্যক্তি-সর্বন্থ তা, না হয় সমাজতন্ত্র, সমাজ-সর্ধস্বতা হয় সেখানে অতিমানুষের অমানুষিক প্রভাব, না হয় সাম্য-তন্ত্রে লৌকসাধাঁরণের অন্তঃসারশূন্য সমতা হয় সেখানে প্রাণহীন সাম্যের কল্পনা, না হয় নিষ্ুর অসাম্যের অত্যাচার হয় মানুষ সেখানে সংসারের মধ্যে আপনার জীবন আবদ্ধ রাখে, না হয় সংসা- রকে ছাড়িয়। একবারে পরোক্ষবাদকেই আশ্রয় করিয়া বসে। হয় বাস্তব- কেই একমাত্র সত্য বলিয়া লৌকে অবলম্বন করে, না হয় একটা বস্তৃতন্্হীন ভাবরাজ্যকে সার সত্য বলিয়া গ্রহণ করিয়া বাস্তবকে অপমান করে।

এই অসামঞ্তম্তই হইতেছে পাশ্চাত্য সভ্যতার প্রক্কৃতি। আর এই অসামঙ্জন্তের জন্যই ইউরোপের ভাবসমূহের সহিত ইউরোপের সমাজের অনন্ত কাল ধরিয়া বিরোধ চলিতেছে। তাই খুষ্টান ভাবুকতা সেখানে বস্ততন্থহীন, এবং ইউরোপীয় সমাজের অভ্যন্তরে একটা খাপছাড়া জিনিষ। তাই খৃষ্টান ধর্মের সহিত খৃষ্টান সমাজের একটা নিষ্ঠুর বিরোধ আজ যে এই মহাধুদ্ধের সময়ে প্রকাশ পাইয়াছে, তাহা নহে; ইউরোপীয় জাতীয় জীবনের ইতিহাসে ইহা৷ পুরাতন কথা। তাই গ্রীক-রোমীয়-টিউটন সাধনায় ফরাসী-বিপ্লবের ক্রমবিকাশে সাম্যতন্ত্ররে যে আদর্শ ফুটিয়া উঠিয়াছিল, তাহা সমাজে এখনও অবলস্বিত হয় নাই। তাই সামাজিক সাম্যতন্ত্র এখনও শুধু কল্পনামাত্র রহিয়াছে, 59701091150 18114101500 তাহাকে

বিংশ শতাবীর নব্য-হিন্দত্ব ১৪৩

স্ুদুরপরাহত করিয়াছে এবং বর্তমান যুদ্ধ তাহাকে একবারে স্বপ্নের মত উড়াইয়। দিয়াছে।

এই অসাম্রস্তের জন্যই ইউরোপীয় সভ্যতা এমন ফাকা। ইহা ঠিক সাবানের একটা প্রকাণ্ড বুদ,দের মত হান্কি__ইহা! বিপুল প্রয়াসের ফল, কিন্তু ইহার পরিণামও বিরাটু বার্থতা।

ব্যর্থতার কারণ কি?

যে অসামঞ্জন্তের জন্য পাশ্চাত্য সভ্যতার ইতিহাস একটা বিপুল প্রয়াস বিরাট ব্যর্থতার ইতিহাস, সেই অসামঞ্জন্তেরই বা কারণ কি? এই থে আমার জন্ত বিশ্ব কিংবা বিশ্বের জন্য আমি, হয় আমার কিন্কর বিশ্ব, না হয় বিশ্বের কিশ্কর আমি, হয় আমার স্বার্থসাধনের জন্য সমাজ, না হয় সমাজের অর্থে আমার স্বার্থবিক্র, হয় ব্যক্তি-সর্ববস্বতা, না হয় সমাজ-সর্বস্বতা, হয় ব্যক্তির 40781 1২115, না হয় রাষ্ট্রের 10151761110 হয় 08150- 1150), না হয় £8 50153 011)81)91, হয় আত্ম-কেন্ত্রতা, না হয় বিশ্ব কেন্্রতা। এই যে দুইটা বিরোধী ভাব পাশাপাশি মাথা তুলিয়৷ দঁড়াইয়াছে, তাহাদের মধ্যে একটা সমন্বয় সাধিত হইতেছে না, ইহার কারণ কি?

পাশ্চাত্য চিন্তার বিশেষত্ব-_বিরোধ সৃষ্টি

প্রশ্নের উত্তর দেওয়া একরূপ অসম্ভব। প্রশ্নের উত্তর চাহিলে বলিব, ইউরোপের জাতিসমূহের চিন্তাপদ্ধতির বিশেষত্বই ইহার কারণ। ইউরোপীয় চিন্তার বিশেষত্বই হইতেছে-_-সে একটা বিরোধ সৃষ্ট করিবে) যেটাকে সে ধরিবে, সেইটাকে সে চূড়ান্ত করিয়া জগতের মধ্যে একটা খাপছাড়। জিনিস করিয়! ছাড়িবে, আর কোন দিকে সে চাহিবে না, সে চোখে ঠুলি দিয়া সোজ| পথে বেগে চলিয়া যাইবে”_গণডারের মত, বুনো শূয়রের মত, মটরকারের মত সে চলিবে, তাহার দিগৃবিদিক্‌ জ্ঞান

১৪৪ তরুণ ভারত

একবারেই নাই। যাহার দিগ্বিদিক্‌ জ্ঞান নাই, তাহার বিরোধ অসামগ্রস্ত স্ষ্টি করাই একমাত্র ধর্্ম। ইউরোপীয় চিন্তা,_-বিভাগ বিশ্লেষণের পক্ষপাতী,_সমন্বয় সাধন সামঞ্জস্ত স্থাপনের পক্ষপাতী নহে,_ইউরোপায় চিন্তার ইহাই বিশেষত্ব

হিন্দু-চিন্তার বিশেষত্ব__সমন্য় সাধন

জাতীয় সাধনার ক্রমবিকাশফলে এক একটা বিশেষত্ব জাতিগত হইয়' পড়ে। হিন্দুর চিন্তার বিশেষত্ব হইতেছে, সে বিরোধের মধ্যে শাস্তি আনয়ন করে, অসামঞ্জস্তের ভিতর সমন্বয় আনয়ন করে। সমন্বপ্ সাধনেই হিন্দুর হিনুত্ব। হিন্দু বহুর মধ্যে এককেই অনুসন্ধান করে। শুধু তাই নহে, হিন্দু একেরই বহরূপ দেখে। হিন্দু বলে, একমেবাদ্ধিতীয়ম্‌। হিন্দু ইহাও বলে, যিনি এক, তিনি বহুও হন। নান! বিরোধী ভাবপুঞ্জের সমন্বয়বিধানই হিন্দুধর্মের বিশেষত্ব। হিন্দু সব জিনিষেরই বাহিরের আবরণ ছাড়িয়।৷ আসল সত্তাটুকু পাইতে প্রয়াস করিয়াছে সমস্ত ছাড়িয়া হিন্দু যে সত্যের পথ ধরিয়াছে। হিন্দুধর্ম যে বাঙালীর : ধর্ম বাঁ পাঞ্জাবীর ধশ্ম, হিন্দুধর্ম যে ভারতের ধর্ম বা এসিয়ার ধর্ম তাহা নহে, হিন্দুধর্ম সনাতন ধর্মা। যাহার নিকট সত্য সনাতন, হিন্দুধর্ম তাহারই ধর্মম। হিন্দু আমার নহে, তোমার নহে, ভারতের নহে, এসিগ়ার নহে, প্রাচ্যের নহে, পাশ্চাত্যের নহে,_হিন্দুধর্ম সার্বজনীন, সর্বজাতীয়। হিন্দুধর্ম বিশ্ব- মানবের ধর্ম। হিন্দুধর্ম তাই কোন এক বিশিষ্ট মহাপুরুষের সাধনা হইতে জন্ম লয় নাই। বৌদ্ধ ধর্ম, খৃষ্টান ধর্ম, মহম্মদের ধর্ম বিশেষ বিশেষ মহাপুরুষের জীবনের সাধনার সহিত জড়িত। হিন্দু এমন কোন এক মহাপুরুষ মানে ন! ধাহাকে বাদ দিলে হিন্দুধর্মের মর্য্যাদাহানি হয়। জগতে হিন্দুধর্মছ হইতেছে একমাত্র ধর্ম, যাহার নাম কোন বিশিষ্ট মহাপুরুষের নাম হইতে হয় নাই, যাহার! হিন্দুধন্মকে আশ্রয় করিয়াছে

বিংশ শতাবীর নব্য-হিন্দুত্ব ১৪৫

তাহাদের নাম হইতে ধর্মের জন্য আমর! নহি, আমাদের জন্য ধর্ম বলিয়া হিন্দুধর্ম বিভিন্ন স্থানে হিন্দুধর্মীবলম্বী লোকের প্ররুতিমত বিচিত্র আকার ধরিয়াছে। হিন্দত্ব কিছুই বাদ দেয় না, পাথর পুজা হইতে ষটচক্র ভেদ সবই ইহা স্বীকার করিয়াছে, কিন্তু কখনও একটাকে সর্বেসর্ববা করিয়া তুলে নাই। তাই হিন্দত্বকে বাহির হইতে দেখিতে গেলে মনে হয় ইহার ভিতর কত অনামঞ্জস্য। কিন্তু একটা অসামঞ্জদ্য-মূলক জিনিস লইয়া বিশ্লেষণ করিতে গেলে দেখিবে বাস্তবিক ইহার ভিতর কোন বিরোধী ভাব নাই। হিন্দুর পুতুল পুক্জাকে খুব বিদ্রপ কর, কিন্তু দেখিবে ইহা শুধু পুতুল পুজা নহে। হিন্দুর গার্হস্থ্য জীবনের বিধিনিষেধকে কুসংস্কার বল, কিন্তু দেখিবে ইহা শুধু কুসংস্কার নহে। হিন্দুদর্শনের খুঁটিনাটা করি! দোষ বাহির কর কিন্তু দেখিবে ইহা শুধু দর্শন নহে। হিন্দুর দেবদেবীর রূপবর্ণনাকে 4১100101590501191)190) বল, দেখিবে ইহা শুধু রূপবর্ণনা নহে। হিন্দুদেবীর স্তোত্রকে তোষামোদ বল, দেখিবে ইহা শুধু স্তোত্র নহে। হিন্দুর তীর্থযাত্রাকে প্রকৃতি পৃজা বল দেখিবে ইহা শুধু প্ররুতি পুজ! নহে।

হিন্দুত্বে বিরোধী ভাবের সম্মিলন

হিন্ৃত্ব অত্যন্ত সুস্ম গভীর, অত্যন্ত সরল ব্যাপক। হিন্দুত্বে নানা বিরোধী ভাবের মিলন। নান! ধর্ম নানা সম্প্রদায় হিন্দুত্বের আশ্রয় পাইয়া তাহাদের মধ্যে বিরোধ ভূলিয়। এক্যকে প্রতিষ্ঠিত করিয়াছে।

পন্লীগ্রামের শান্ত সুন্দর সন্ধ্যায় গঙ্গাতীরস্থ দেবমন্দিরে আরতি হইতেছে। কীসর, ঘণ্টা, শক, ঢাক ঢোল সানাই সবই বাজিতেছে। পুরোহিতের হস্তে পঞ্চপ্রদীপ মন্দির আলোকিত করিয়াছে। মন্দির- প্রাঙ্গনে পুরুষ, স্ত্রীলোক, ব্রাহ্মণ, চণ্ডাল, মুচী, মেথর ভক্তিপ্লুত চিত্তে দণ্ডায়মান। হিন্দুত্বকে সরল অকৃত্রিম গল্লীজীবনের এই সুন্দর দৃশ্ঠের

১৩

১৪৩ তরুণ ভারত

সহিত তুলন! করা যাইতে পারে। হিনদুত্বের উর্ধ শাখা প্রশাখা বিস্তৃত হইয়াছে, অন্তররাজ্যের গু রহস্তের মধ্যে। কিন্তু ইহার মূল হইতেছে বাস্তবের অন্তরে দেবমনিরের প্রতিষ্ঠা হইয়াছে পল্লীগ্রামের অন্তঃস্থলে। হিন্দুর উপাসন৷ বাস্তবকে কখনই অগ্রাহ্য করে না, বাস্তবের ভিতরই হিন্দু অনন্তকে খুঁজিয়াছে। মন্দির প্রাঙ্গনের জনতার মধ্যে কেহ নাম করিতেছে, কেহ জপ করিতেছে, কেহ করতালি দিতেছে, কেহ বা স্থির, প্রশান্ত ধ্যানমগ্ন। হিন্দুত্ব সহজ সরল নামগান হইতে হুক্ম গভীর ধ্যান পর্যন্ত সবই বরণ করিয়াছে গাছ পাথর পৃজা হইতে অণোরণী- য়ান মহতো মহীয়ান পধ্যন্ত হিনুত্ব সবই গ্রহণ করিয়াছে, কিছুই ত্যাগ করে নাই। শাক, সানাই, ঘণ্টা, স্ত্রীলোকের উনলুধবনি সকলে মিলিয়া যেমন একটা এঁকাতানের স্থষ্টি করে,__কিছুই বেস্থুরা মনে হয় না, হিন্দুত্ব নান! সম্প্রদায়ের নানাবিধ সাধনার মধ্যে সেরূপ একটা সমন্বয় স্থাপন করিয়াছে। পল্লীমন্দিরের সেই দেবতার মত হিন্দত্ব ভারতের খিভিন্ন উপাসক সম্প্রদায়ের বিচিত্র সাধনাকে একমুখী করিয়াছে_বিরোধী ভাব- সাধনার মধ্যে শান্ত মঙ্গলম় একের প্রতিষ্ঠা করিয়াছে। হিন্দত্ব স্বাধীন অক্কত্রিম ভাবে শুধুই সত্যের পথ ধরিয়াছে,_সত্যের পথ কঠিন পথ, দে পথে পদে পদে বিপদ, ক্ষুরস্ত ধার! মিলিতা ছুরতায়া, কিন্তু হিন্দুত্ব এই আশ্বাসবাণী প্রচার করিয়াছে__যাহ! অন্য কোন ধন্ম কখনই করে নাই__ সত্যে পথ এক নহে, বন্ছ, একনিষ্ঠ হইয়! একপথে যাইতে পারিলেই তুমি সত্যকে পাইবেই পাইবে__ যে যথা মাং প্রপগ্স্তে তাং স্তথৈব ভজাম্যহং

এই একের প্রতি নিষ্ঠা, বিরোধের মধ্যে এরক্যকে প্রতিষ্ঠা করার আকাঙ্ষা, হিন্দুর এই বিশেষত্ব শুধু তাহার আত্মচিস্তা আত্মদর্শনকে যে নিয়ন্ত্রিত করিয়াছে তাহা নহে, হিন্দুর সমাজ-জীবনও গঠন করিয়াছে।

বিংশ শতাব্দীর নব্য-হিন্দত্ ১৪৭

সমাজ-গঠনে ছিন্দুর বিশেষত্ব

সমাজ জীবনে যে মূল প্রশ্নের উদয় হয়, সমাজের জন্য আমি, না৷ আমার জন্য সমাজ, আমরা দেখাইয়াছি পাশ্চাত্য সভ্যতায় প্রশ্নের ঠিক মীমাংস! এখনও হয় নাই। পাশ্চাত্য জগতে হয় আমার মূল্যে সমাজ বিকাইয়! গিয়াছে, না হয় আমি সমাজের মূল্যে একেবারে বিকাইয়৷ গিয়াছি। দেখানে আমির সঙ্গে বিশ্বের যেন দৌকানী খরিদদারের সম্বন্ধ ন্বার্থ- বুদ্ধি যেন সেই আমি বিশ্বের লেনদেনের কড়ি পয়সা আমি বিশ্বের এই দেনা পাওনার সম্বন্ধ হইতে পাশ্চাত্য সভ্যতায় যত কিছু অশান্তি, বিদ্রোহ, মারামারি কাটাকাটি।

স্বধন্ম বিশ্বধন্মের সামঞ্জস্য

হিনদত্ব আমি বিশ্বের লেনদেনের সম্বন্ধ বলিয়া স্বীকার করে নাই। আমি বিশ্বের সম্বন্ধে হিন্দুত্ব প্রাণের যোগ অনুভব করিয়াছে, স্থার্থবদ্ধির পয়সা কড়ির টান দেখে নাই। বিশ্ব আমির সম্বন্ধ হিন্দুর নিকট যেন পিতা পুত্রের সম্বন্ধ, মাতা সন্তানের সম্বন্ধ, যেন স্বামী স্ত্রীর সন্বন্ধ।

ইউরোগীয় নব্য-দর্শনের উপদেশ

বার্গস'র জীববিজ্ঞান-প্রতিষিত লীলাবাদকে আমি পাশ্চাত্য চিন্তার শেষ কথা৷ বলিয়াছি। খুইান ধর্মের সহিত ইউরোপীয় সমাজ-জীবনের ভিতরকার সম্বন্ধ একেবারেই বিচ্ছিন্ন হইয়াছে। সাম্য-তন্তররাষথ্ীয় জীবনে দলাদলির প্রশ্রয় দিয়া শ্রমজীবিগণের আদর্শে সমাজ গঠন করিতে যাইয়! সমাজকে হীন করিয়া ফেলিয়াছে। বৈষয়িক জীবনে সেই সাম্য-তন্ত্ দৈহিক অভাব মোচনের উপর অত্যধিক বেক দিয়া আসল ব্যক্তিত্ব বিকাশের অন্তরায় হইয়াছে। বিজ্ঞান প্রথমে মানুষকে জীব-ক্রমবিকাশ-

১৪৮ তরুণ ভারত

ধারার শ্রেষঠ-্থষ্টি উপলব্ধি করিয়া পরিণামবাদের উপর খুব বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছিল। কিন্তু কিছু পরেই সেই বিজ্ঞানই বলিল মানুষ জগতের শ্রেষ্ঠ জীব হইলেও সে জীব, সে প্রক্কৃতির দাসানুদাস। তবে মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব কোথায়? শ্রেষ্ঠত্ব কি দাসসলভ দুর্বলতায়? মানুষ হীন, দুর্বল, প্রকৃতির কিন্কর প্রমাণিত হইল। ঠিক এই সময়ে নব্য-দর্শন বার্গস'র মুখ দিয়া বলিয়া উঠিল,_-হ*লেই বা তুমি প্রকৃতির দাস, হলেই বা তুমি প্রকৃতির লীলার পুতুল,_প্রক্ৃতিই যে জগতে সার সতা, অনন্ত, জ্ঞানময় আনন্দময়, তুমি প্রকৃতির লীলায় আপনাকে একেবারে ভাদাইয়! দাও, আদল জ্ঞান আনন্দ তুমি পাইবে, তুমি সত্য উপলব্ধি করিবে।

লীলাময় বাস্তবই সারসত্য

ইউরোপ বাস্তবকে চরম সত্য বলিয়া জানিয়াছে। গ্রীকের সৌন্দর্য্য উপাসনা, অষ্টাদশ শতাবীর [:০০/7001510 বর্তমান যুগে 2950৮190 [4000210155115811507 এর ভিতর বাস্তবকে চরম সত্য বলিয়া উপলব্ধির পরিচয় পাই। এবং বাস্তবই যে পরমার্থ ইহাই চুড়ান্ত ভাবে বার্গস'র দর্শনে পরিস্দুট বর্তমান ইউরোপের সর্বশ্রেষ্ঠ 1790০ বাস্তবের ভিতরই অনন্ত জ্ঞান আনন্দকে খুঁজিতেছেন। জগতের সার সত্য হইতেছে অনন্ত পরিবর্তনশীল বাস্তব। এই অনন্ত পরিবর্তনের সন্ভাই হইতেছে ভগবান্। ভগবান অনন্ত লীলাময় অনন্ত ক্রিয়াণীল। তাহার নিক্রিয় অবস্থা নাই। জীব-বিজ্ঞান-প্রতিষ্ঠিত নব্য-দর্শন মানুষকে জড়ের অনস্ত পরিবর্তনের মধ্যে ডুবাইয়া রাখিতে উপদেশ দিল।

উল্টাদিকের চাঞ্চল্যের চরম কথা

পাশ্চাত্য জগৎ বাস্তবকে যে সার সত্য বলিয়া মানিয়া লইল, চঞ্চল বাস্তবের অন্তরে যে এক বিশ্বীপ্রবিষ্ট শক্তির লীলা দেখিয়! তাহাকে বিশ্বের একমাত্র সত্য বলিয়া বুঝিয় লইল, ইহা এক দিককার চরম কথ! সন্দেহ

বিংশ শতাব্দীর নব্যহিন্দত্ ১৪৯

নাই, কিন্তু হিন্দু বলিবে সেটা উপ্টা দিকের, বাস্তবের দিকের, চাঞ্চল্যের দিকের। হিন্দু বলিবে সেটা ইউরোপের চঞ্চল-ভাবাত্বক সভ্যতার বাস্তব পৃজার ফল। হিন্দু বলিবে, তুমি বার্গদ'র মতাবলম্বী হইগ্া যোগাভ্যাস কর, সমাজ ত্যাগ কর, আত্মচিন্তা কর কিন্তু তুমি যদি এই চঞ্চল বাস্তবের অন্তরে তোমার প্রকাশ অনুসন্ধান কর, বা্গস' হাজারবার বলিলেও তুমি কিছুতেই শাস্তি আনন্দ পাইবে না।

বাস্তব লীলাময় নহে, বস্তর লীল! নহে, লীলা! ভগবানের

বাস্তব চির্র-চঞ্চল, অনন্ত-পরিবর্তনশীল। চঞ্চল বাস্তবও সত্য, হিন্দু ইহা মানিয়াছে। কিন্তু হিন্দু ইহাও বলিয়াছে, বস্তৃত সত্ব! নিত্য অব্যয়,_তাহার বিনাশ নাই, বিকৃতি নাই। তাহাই আত্মা বা ভগবান। অনিত্য, চঞ্চল, পরিবর্তনশীল বাস্তব লীলামর ভগবানের প্রকাশ। ফুলের গন্ধ বাযুতে মিশিয়াছে। আমাদের বোধ হয় বাযুই গন্ধযুক্ত, কিন্তু বাস্তবিক বায়ুর গন্ধ নাই, গন্ধ পুষ্পের_ সেরূপ আমাদের বোধ হয় যে বাস্তবই চঞ্চল, লীলাময়, গুণময় কর্মময়, কিন্তু বাস্তবিক বাস্তব লীলাময় নয়, লীল! ভগবানের, গুণ কণ্্ম ভগবানের ভগবান বাস্তবের অন্তরে সাক্ষী বা অন্তর্ধামী থাকিয়া লীলা করিতেছেন।

হিন্দুধন্মের বাস্তব

বাস্তব হইতে বিশুদ্ধ স্বতন্ত্র বলিয়া! ভগবানকে অনুভব করার নামই সাধনা | হিন্দু যে বাস্তবকে অমর্ধ্যাদার সহিত দেখিয়াছে তাহা নহে; বরং তান্ত্রিক বৈষ্ণব-সাধনার ভিতর বাস্তবের প্রতি শ্রদ্ধার চরম আমর! পাইয়াছি। কিন্তু হিন্দুতন্্ব ইহাও বলিয়াছেন, লীলাময়ের শক্তিতেই বাস্তবের প্রকাশ, বৈষ্ণব-সাধন-গ্রস্থ বলিয়াছেন, বাস্তবই মহাপুকুষের লীলা। হিন্দু শুধু লীলাকেই চরম সত্য বলিয়া মানে নাই, সেই লীলাময় পুরুষের সন্ধানে হিন্দু চির-ব্যাপৃত।

১৫০ তরুণ ভারত

যুগে যুগে হিন্দুর ধর্মপ্রাণ সভ্যতা! যখনই নৃতন প্রাণ অনুভব করিয়াছে, তখনই অনিত্য চঞ্চল বাস্তব নিত্য অব্যয় অচঞ্চলের একটা নূতন সম্বন্ধ স্থাপন করিয়াছে। কখনও সেটা পুত্র জনক জননী, কখনও সেটা স্বামী স্ত্রীর সম্ব্ব,_সেটা চিরকালই প্রাণের হৃদয়ের টানের উদ্বেল- আনন্দের সম্বন্ধ

নব্য-হিন্দুত্বের ভিত্তি

বর্তমান যুগে যখন বাস্তব ইউরোপীয় সভ্যতার শাসনদণ্ড হাতে লইয়া আমাদিগকে শঙ্কিত তুস্ত করিয়াছে, ইউরোপীয় সভ্যতার তুলাদণ্ড লইয়া যখন আমাদের সমস্ত ধনৈশর্ধ্য কাড়িয়া লইতেছে, যখন ইউরোপীয় বিজ্ঞান বাস্তবকে আমাদের বিদ্যামন্দিরে পূজার আসনে বসাইয়াছে, তখন আমরা যে বাস্তবকে পরম সতা বলিয়া মনে করিতে আরম্ত করিয়াছি তাহা বিচিত্র নহে) কিন্তু হিন্দত্ব সজীব রহিয়াছে বলিয়া এই লীলাত্মক বাস্তবের সহিত লীলাময় নিত্য পুরুষের আবার নূতন সম্বন্ধ খু'ঁজিতেছে। ইহাই উদীয়মান হিন্দুত্বের বিশেষত্ব __-শক্তি পৃজার দ্বারা বা বৈষ্ঞবীয় সাধনার দ্বারা দেশে যে বাস্তব এখন সর্কেসর্ধা হইয়া উঠিতেছে তাহার সহিত নিত্যবস্তর নৃতন সম্বন্ধ স্থাপন করা। পাশ্চাত্য সভ্যতার যাহা৷ শেষ কথা বার্মর্মর দর্শনে প্রচারিত হইয়াছে, অনিত্য চঞ্চল বাস্তবই সার সতা,_ উদীয়মান হিন্দুত্ব এই তত্বকে:প্রত্যাখ্যান করিয়া স্থষ্ট হইয়াছে। উদীয়মান হিনুত্বের মূল তিত্তি হইতেছে- পাশ্চাত্য সভ্যতা এই যুগে যে বাস্তবকে আমাদের দ্বারে আসিয়া পরমবন্ত বলিয়া উপটৌকন দিয়া গেল, তাহাকে আপনার ভাগারে যেখানে হিন্দু নিত্যবস্তুকে বু সাধনার ফলে যত্রে তুলিয়া রাখিয়াছে তাহার সহিত মিলাইয়৷ দেওয়া ভাণ্ডার খালি করিয়া দিয়া নহে, ভাগ্ার পূর্ণ করিয়া লওয়া।

হিন্দু যুগে যুগে নূতন দর্শনের স্থষ্টি করিয়াছে, নৃতন নূতন অধ্যাত্ম

বিংশ শতাববীর নব্য-হিন্দত্ পু ১৫১

সাধনার পথ উনুক্ত করিয়াছে; হিনদত্ব যে সজীব রহিয়াছে, হিনদুত্ব যে ক্রম- বিকাশমান ক্রমোননতিশীল। হিন্দত্ব অতীতের স্তৃতি নহে, হিন্দৃত্ব মৃত অতীতের শব নহে, কল্পনার জীর্ণ কঙ্কাল নহে, হিন্দৃত্ব বর্তমানের অনুভূতি ক্রমবিকাশমান হিন্দৃত্বের কথা স্মরণ করিলে প্রথমে মহাত্মা রামমোহন ব্রায়ের কথা মনে গড়ে। বিরোধ সামঞীস্তের মধ্যে মহাত্মা রামমোহন হিন্দু মুসলমান খুষ্টান দর্শন মন্থন করিয়া! এক অভিনব তত্বদর্শনের আবিষ্কার করিয়াছিলেন। আধুনিক যুগের বিরোধী পারিপাখিকের মধ্যে হিন্দত্বের সেই প্রথম সাড়। পাওয়া গেল। তাহার পর অনেক ব্তর অতীত হইয়াছে। নূতন নৃতন সাম্প্রদায়িক ধর্ম দর্শনের সৃষ্টি হইল। নৃতন সম্প্রদায়ের বলিল,_হিন্দত্ব অসাড়, অচেতন, ইউরোপের ভাব চিন্তার দ্বারা তাহারা হিন্দুর তত্বদর্শনকে পরিবর্তন করিতে প্রয়াস পাইল। হিন্দুত্ব তখন অতীত মহিমার স্থৃতিতে বর্তমান লজ্জাকে ঢাকিয়। রহিয়াছিল। তাহার কিছু পরেই, এখন হইতে প্রায় কুড়ি বৎসর পূর্ব্রে যখন হিন্দুর দর্শন হিন্দুর অধ্যাত্মসাধনা বিদেশের পরান্থুকরণ পরানুবাদের মোহে লুপ্তপ্রায় হইয়াছিল, তখন একজন তরুণ সন্ন্যাসী পাশ্চাত্য সমাজের বক্ষে দীড়াইয়া সগৌরবে বেদাস্থের মহিমা প্রচার করিয়াছিলেন। তিনি যে শুধু অতীতের গৌরবস্থৃতি বক্ষে করিয়৷ সাহস পাইয়াছিলেন তাহা নহে ; তিনি হিন্দুর দর্শনকে প্রাণময় সত্তা দান করিলেন, যুগোপযোগী নৃতন আকার দিলেন, তাহাকে তুলনামূলক সমালোচনার পর প্রতিষ্টিত করিয়া নবযুগের উপযোগী করিয়া দিলেন। হিন্দুদর্শন বিংশশতাবদীর উপযোগী হইল, মব কলেবরের পূর্ণ মহিমায় প্রাচ্য পাশ্চাত্যে পূজা পাইতে লাগিল। রাম- কৃষ্ণ শিষ্য স্বামী বিবেকানন্দ জিগীষু হিন্দুত্বে (881655155 71770 0150 এর) প্রবর্তক-_ তরুণ সন্যাসী হিন্দৃত্বকে এক অপূর্ব তেজ গরিমায় ভূষিত করিলেন। চিকাগোর ধর্ধ্সভা নব্য হিন্দত্বের প্রথম পরিচয় লাভ করিল। চিকাগোর পর রোম নগরীতে দার্শনিক ব্রজেন্ত্রনাথ বৈষ্ণবধধ্্ম দর্শনের

১৫২ তরুণ ভারত

তুলনামূলক আলোচনা করিয়া বিশ্ববাসীর নিকট প্রচার করিলেন,_বৈষ্ণব রসশাস্ত্রে ভগবানের সহিত জীবের যে সম্বন্ধ নির্ণয় করা হইয়াছে তাহা দর্শন হিসাবেও মহনীয় ভাবের উপর প্রতিষ্ঠিত হিন্দৃত্ব যে শুধু সংসারকে মায়] বলিয়া কল্পনা করিয়াছে তাহা নহে, হিন্দু যে সংসারের মধ্যেও পূর্ণ মুক্তি আনন লাভের জন্ত মধুর সাধন প্রণালী অবলম্বন করিয়াছে ব্রজেন্্রনাথ গাশ্ঠাত্য সমাজকে তুলনামূলক আলোচনার দ্বার তাহাই বুঝাইলেন। বর্তমান ইউরোপের লোকহিতবাদ প্রত্যক্ষবাদ (701091716877811507) 7০6%150) এবং খু্টধর্মে ভগবানের সহিত পুষ্টের পুত্রনবন্ধে যে ব্ক্তি-গত জীবনের সাধনার ইঙ্গিত রহিয়াছে তাহাই মধুর, পূর্ণ বিচিত্র- রূপে বৈষ্ণব সাধনায় বর্তমান,_তাহা অন্তজ্জ্ণাতীয় যুদ্ধবিগ্রহের মধ্যে অহিংস! প্রেমের প্রতিষ্ঠা করিয়া জগতে চির-শান্তি আনিতে পারিবে

বিংশশতাবীর হিন্দুত্বের প্রধান সম্বল এই নব্য দর্শনবাদ।

হিন্ুব্র সমাজ-জীবন বিরোধী শক্তিপুঞ্জের ঘাত গ্রতিঘাতে এখন বিপর্যস্ত হইয়! পড়িয়াছে। বিশ্বজগতে এখন যে আমরা! দিন দিন সভ্যতা সমাজের পূর্ণ বিকারের পরিচয় পাইতেছি আমাদের বিশ্বাস হিন্দুসমাজ হিনদুসভ্যতা সে বিকার হইতে বিশ্বমানবকে রক্ষা করিবে। বিংশশতাবীর ক্রমবিকাশমান হিন্দুর ইহাই জীবনের আশা, হৃদয়ের বল, আত্মার আনন্দ। কিন্তু হিনুসমাজের সহিত তাহার আদর্শের অনেক ব্যবধান হইয়া পড়িয়ছে। আদর্শ বর্তমান অবস্থার এই নিষ্ঠুর ব্যবধান দূর করা হিন্দুসমাজের এখন একমাত্র সমস্তা ওপারে হিন্দুসমাজের সোণালি বং রূপের ছটা, এপারে ঘনতমসাবৃত বর্তমান, বর্তমানের দৈন্ত লঙ্জা। মধ্যে এক ধূসর মহানাগর। মহাসাগরের জীবনস্্োতে পাশ্চাত্য সভ্যতা এখন ভামিয়া চলিতেছে। হিন্দুসমাজের ইহাই যে অনন্ত বিরহ, অনস্ত হাহাকার, --এ ধুসর মহাসাগর সে অতিক্রম করিবে কি করিয়া! সম্মুথের জীবন- স্রোতে কত সমাজ কত সত্যতা ভাসিয়৷ গেল। কত মৃত আদর্শের জীর্ণ

বিংশ শতাবীর নবা-হিন্দুত ১৫৩

কঙ্কাল, কত বাসনার, কত আশার শুভ্র ফেনরাশি উত্তাল তরগমালা! হিন্দু সমাজের সম্মুখ দিয়। বহিয়৷ গেল। সাগরকুলে মে কি চিরকালই শুধু অপরের দিকে চাহিয়। বসিয়া থাকিবে। নিম্নতির ইহাই কি নিদারুণ অভিশাপ, তাহার পক্ষে কি অনন্তকালই বিচ্ছেদ-বেদনার দুঃখ ধুসর মহাসাগর তাহাকে আতক্রম করিতেই হইবে। আদর্শ যে নির্মম পাষাণ, সে কিছুতেই মধুর মিলনের জন্য আমার নিকটে আসিবে না। আমাকেই তাহার নিকট পৌছিতে হইবে আর এই মহাদাগর পার হওয়া ভিন্ন গতি নাই, ইহাই যে কর্মসাগর। কর্মশ্রোতে ন্লান না করিলে, কর্মমহাসাগর অতিক্রম না করিলে, আমার পক্ষে অনন্তকাল বিচ্ছেদ, অনন্ত হাহাকার।

এই ধূসর লাগব্রের ব্যবধান দূর হইবে কি করিয়া?

হিন্দুর দর্শনই এপার ওপারের বাবধান স্ষ্টি করিয়াছে। এবং হিন্দুর দর্শনই এই ব্যবধান দূর করিবে। দর্শনই বাধ তৈয়ারী করিয়াছে, দর্শনই বাধ ভাঙ্গিবে। দর্শনের প্রভাবেই হিন্দু আদর্শের পরিচয় পাইয়াছে এবং দৈন্তের মধ্যেও দর্শনই আদর্শের পূর্ণতা প্রচার করিয়াছে, এবং ইহাও বলিয়াছে বর্তমানের অন্তরেই আদর্শ তাহার পূর্ণ মহিমায় বিরাজিত। দর্শনই বর্তমানকে কন্মবক্মোতে ভাসাইয়া আদর্শের নিকট পৌছাইয়! দিবে।

তাই বলিয়াছি এই হেয় নিনৃষ্ট বর্তমানের মধ্যে হিন্দুত্বের আশ্রয় সম্বল হিন্দু দর্শন। রামমোহন বিবেকানন্দ ব্রজেন্্রনাথ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হিন্দুর নব্যদর্শন হিন্দুত্বের ক্রমবিকাশের পরিচায়ক, হিন্দুসমাজের বর্তমান দৈন্যের অন্ধকারের মধো গ্রব ন্গিগ্ধ জ্যোতি।

অনন্ত পরিবর্তনশীল বাস্তব আমারই লীলা

বর্তমান যুগে হিন্দুর নব্যদর্শনে ইউরোপের নিকট যে আশার বাণী প্রচার করিবে তাহা আমি ইঙ্গিত করিয়াছি। বার্গদ'র দর্শন যেখানে শেষ করিয়াছে সেইথান হইতে হিন্দু আরস্ত করিবে। পাশ্চাত্য দর্শনের

১৫৪ তরুণ ভারত

বাস্তব সম্বন্ধে শেষ কথাকে প্রত্যাথান করিয়াই নব্য হিন্দুত্বের এখন প্রতিষ্ঠা।

উদীয়মান হিন্দৃত্ব তান্ত্রিক বা বৈষ্ণবীয় সাধনার দ্বারা প্রতিষ্ঠিত করিবে, __বাস্তব তা, কারণ সে যে নিত্যপুরুষের ব৷ নিতা-লীলাশক্তির প্রকাশ। সদা চঞ্চল বাস্তব__কিন্তু বার্গপ' যেমন বলিক্াছেন বাস্তবের চাঞ্চল্যের ভিতর আপনাকে ভাসাইয়৷ দিলে মুক্তি আনন পাইবে তাহা নহে, _সদা চঞ্চল বাস্তবের অন্তরে নিত্য পুরুষ বা! নিত্য-লীলাময়ীকে অনুভব করিতে পারিলেই চরম শাস্তি পরম আনন্দ বার্গস' যেমন বলিয়াছেন, বিশ্বের লীলার মধ্যে ডুবাইয়া দিলে চরম আনন্দ পাইবে তাহা নহে আমি যদি বিশ্বের লীলান্রোতে ভাপিয়া গেলাম তবে আমার স্থাতন্ত্য কোথায়? উদীয়- মান হিন্দৃত্ব বিশ্ব আমির সম্বন্ধ নির্ণয় করিয়া! বলিবে, বিশ্বের অন্তরে আমি, আমাতে বিশ্ব রহিয়াছে। বিশ্ব লীলাময়, কিন্তু সেটা বিশ্বের লীলা নহে, সে যে আমারই লীলা আমিই লীল! করিয়া আমার শক্তি অন্গতব করিতেছি, আনন্দ ভোগ করিতেছি

পাশ্চাত্য সভ্যতার বিরোধের মীমাংসা

বিশ্ব আমার মধ্যে এই সঙ্বন্ধ প্রতিষ্ঠিত হইলে, আমিও স্বাধীন রহি- লাম, বিশ্বধর্মেরও মর্যাদা হানি হইল না। স্বধন্মও রহিল, বিশ্বধম্্মও রহিল। পাশ্চাত্য সভ্যতা যে যুগে যুগে হয় স্বধর্্কেই প্রশ্রয় দিয়া বিশ্ব- ধর্শের অমর্যাদা করিয়াছে, অথবা বিশ্বধর্ধের আশ্রয় লইয়া! তাহার নিকট স্বধশ্মীকে বলিপ্রদান করিয়াছে, এই অনন্ত বিরোধের মীমাংসা উদীয়মান হিন্দুত্বে পাওয়া যাইবে

সমাজ-জীবনে নব্য-হিন্দুত্বের দান

নিজ স্বার্থ বিশ্বরাজার অর্থের বিরোধ নিবারণ যে শুধু অধ্যাত্ম জগতে একটা শাস্তি আননের সুচনা করিবে তাহা নহে। সমাজ-জীবনেও

বিংশ শতাববীর নব্য-হিনুত্ ১৫৫

্বধন্্ম বিশ্বধন্ম্ের একত্বানুভৃতি সমস্ত অসামঞ্রস্ত, সমস্ত বিরোধ, সমস্ত অশান্তি দুর করিবে। সামাজিক সাম্যতন্ত্ ব্যক্তিত্ব বিকাশ, সাম্যভাব অধিকারভেদ, ব্াষ্ট্র মহিম1 ব্যক্তিত্বের গৌরব, বৈষয়িক উন্নতি অধ্যাত্বসাধন! সকলের সমন্বয় বিধান, সকলকে আশ্রয় করিয়া সকলেরই সুবিধাবিধান করিয়।৷ নব্য-হিন্দুত্বের প্রতিষ্ঠা। অধ্যাতক্ষেত্রে যেমন নব্য- হিন্দুত্ব পাশ্চাত্য অধ্যাত্ব-দর্শনের অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিবারণ করিয়া যেমন মুক্তির পথ প্রদর্শন করিবে, সমাজ-জীবনেও পাশ্চাত্য সভ্যতার বিরাট বার্থতাকে তাহার ক্রোড়ে টানিয়। লইয়৷ তাহাকে আশ্বাস বারই জন্ত ইহার বিকাশ আর এই নব্য-হিন্দুত্বে হিন্দুর যাহা কিছু পুরাতন তাহা আশ্রয়লাভ করিবে এবং ষুগ-শক্তি যাহা কিছু নূতনের স্থষ্টি করিতেছে তাহার পূর্ণ মহিমা ইহাতে বিরাজিত থাকিবে। পাশ্চাত্য সভাতার বিশ্ব- গ্রাসী প্রয়াসের ব্যর্থতাকে সান্বনা দিয়া, ভারতীয় সভ্যতার বিপুল সাধনার দাফল্যকে আশ্রয় করিয়া নব্য-হিন্দুত্ব বিশ্বমানবের এই প্রলয়ের ছুর্দিনে জন্মগ্রহণ করিয়াছে। যে নবপ্রন্থত শিশু গ্রলয়ের ঘনঘোর মহাষ্টমীতে জন্মগ্রহণ করিয়াছে, সেই শিশুই এই শক্তিমদমত্ত, অতি-মান্ুষের অহঙ্কারে স্বীত বর্তমান ইউরোপ কতৃক অপমানিত বিশ্বমানবদম্পতীর বক্ষ হইতে পাষাণ সন্বাইয়! দিবে, তাহাদিগকে শৃঙ্খল হইতে মুক্ত করিবে,_তাহার জন্মতিথিতে আমরা মহোৎদবে আনন্দে মাতোয়ারা হইয়াছিলাম, এখন আমরা প্রতীক্ষা করিতেছি কবে সে কংসকারাগারের দ্বার খুলিবে, কৰে সে গুরুভার পাষাণ সরিয়! যাইবে, কবে সে ভীষণ শৃঙ্খল খুলিয়া যাইবে।

বিশ্বমানবের শৃঙ্খল মোচন

বিশ্বমানৰকে যে উদ্ধার করিবে তাহার জন্ম হিন্দু-সভ্যতার অন্তস্থলে। তুমি হিন্দু। তুমি আপনার উপর বিশ্বাস স্থাপন কর। অটল অচল বিশ্বাসের শক্তিতে তুমি অনুভব কর তুমিই বিশ্বমানবের ইন্দিয়ের লৌহ-

১৫৬ তরুণ ভারত

শৃঙ্খল মোচন করিবে, তুমিই বিশ্বমানবের হৃদয়ের উপর জড়ের ভীষণ পাথরের চাপ বিদুরিত করিবে। হিন্দুসমাজ তোমারই জন্মের অন্ধকার মথুরা, তোমারি কৈশোরের মধুবন, তোমার সম্পদের দ্বারকা, তোমার ধর্মের কুরুক্ষেত্র, তোমার শেষ শয়নের সাগরসৈকত। বিশ্বের অচল নিগড় তোমারি কংস-কারাগার। আর তুমি সেই কারাগারের দ্বার মোচন করিরা বিশ্বমানব-দম্পত্তীকে উদ্ধার করিবে। বিশ্বের মঙ্গলের জন্য তপস্তাই তোমার হৃদয়। বিশ্বমঙ্গলার্থ নিখিল বিদ্া তোমার অন্পম তন্থ। নিখিল সানুষ্ঠান তোমার অন্পরত্যন্্। বিশ্বের কল্যাণধ্যান তোমার আকৃতি। বিশ্বের কল্যাণের জন্য যাহারা আত্মোৎসর্গ করিবেন তাহারা তোমার প্রাণ- স্বরূপ। "হিন্দু তুমি কি ইহা অনুভব করিতে পারিবে যে, বিশ্বের কল্যাণ- ধর্ম তোমার আত্মা-স্বরূপ। যদি তুমি তাহা অন্ুতব করিতে গার তাহা হইলে জানিও বর্তমান ভীষণ ছুর্য্যোগ, অন্ধকারের মধ্য বিশ্ব-বান্থকী অনন্ত মুখে জলন্ত নিঃশ্বাস ছাড়িয়া তোমাকে সেই কালচক্র হাতে লইয়৷ মোহ মন্ততার ধ্বংস করিবার জন্য তোমার শরণ লইয়াছেন।

সর্ধজাতি-মগুল

আমরা পূর্বে হিন্দুর সমাজের রাষ্ট্রের আদর্শ ব্যাখ্যা করিতে যাইয়া নারায়ণের বিরাট শরীরের তন বিশ্লেষণ করিয়াছি। সমাজদেহের প্রতি অঙ্গে যেরূপ নারায়ণের প্রাণ সঞ্চারিত হইয়৷ সমাজের প্রত্যেক বিভাগকে পরস্পরের সমূহের কল্যাণে নিগ্লেজিত করিয়াছে সেরূপ তহারই বিরাট প্রাণ বিভিন্ন জাতি মণ্লকে আশ্রয় করিয়া! প্রত্যেকের সকলের স্বধর্মের বিশ্বধন্থের বিকাশ সাধনের দ্বার বিশ্বমানবের বিচিত্র জাতি সমূহের কল্যাণ নির্ণয় করিয়াছে। হিন্দুর এই মহত কল্পনা সেই মহীভারতীয় যুগের। সেই কল্পনাকে অবলম্বন করিয়া তাহাকে আধুনিক কাল পাত্রভেদে আবৃত্তি করিয়া- ছিলাম। আমরা এইথানে উহার পুনঃ সম্কলন করিতেছি। মহাভারতের এক পর্ব কাল- বর্তমান স্থান_-পাশ্চাত্য জগৎ অধ্যায়_স্ত্ী-বিলাপ বৈশম্পায়ন কহিলেন, মহারাজ! ব্রহ্মচারিণী পতিপরায়ণা গান্ধারী মহধি কৃষ্দৈপায়ন-গ্রদত্ত বরগ্রভাবে দিব্যচ্ষু দ্বারা রণস্থল অবলোকন করিয়া! করুণ স্বরে বিলাপ করিতে লাগিলেন। ছুঃখার্ভ নারীগণের রোদনশবে ব্যথিত হইয়া তিনি মধুস্দনকে করুণ বচনে কহিলেন, বম, দেখ, আমার বধূগণ অনাথা হইয়া আনুলায়িতকেশে কুররীযুথের ন্যায় রোদন করিতে করিতে তোমার নিকট আগমনপূর্বক স্বন্ব পতি, পুত্র, পিত্‌ ভ্রাতৃগণকে শ্বরণ করিয়া! তাহাদের মৃতদেহের নিকট ধাবমান

১৫৮ তরুণ ভারত

হইতেছে। আহা, পূর্বে পণ্তিতগণ যে সকল বীরের সমীপে সদা সমুপস্থিত থাকিতেন, এক্ষণে গৃ্রসকল তাহাদের সমীপে উপবিষ্ট রহিয়াছে। পূর্বে পরিচারকেরা ধাহাদিগকে হেমদণ্ডমণ্ডিত ব্যজন দ্বারা বীজন করিত, অদ্য বিহঙ্গমেরা! সেই বীরকে পক্ষপুট দ্বারা বীজন করিতেছে এই দেখ, মহিলাগণ বীরগণের মস্তকশূন্য দেহ দেহশূন্য মস্তক নিরীক্ষণ করিয়া মৃচ্ছিত হইতেছে কোন কোন রমণী এক বীরের দেহে অন্য বীরের মস্তক যোজন! করিয়া, “হায় ! কাহার মস্তক কাহার দেহে যোজিত করিলাম” বলিয়া আর্তনাদ করিতেছে। কতকগুলি নারী পশুপক্ষীন্ নখদস্তাঘাতে ক্ষতবিক্ষত ছিন্নমস্তক ততৃণকে সন্দর্শন করিয়াও আপনার পতি জ্ঞাত হইতে সমর্থ হইতেছে নী। হা কি কষ্ট, দেখ, কোন কোন মহিলা বীরগণের দেহের কোন কোন অংশ না দেখিয়া! শোকভয় পরিত্যাগ- পূর্বক ইতস্ততঃ রণভূমিময় দ্রুতপদে বিচরণ করিতেছে।

কাল-_ভবিষ্যৎ

স্থান নূতন ভারত

অধ্যায়-_-অনুগীতা

জনমেজয় কহিলেন, ব্রহ্মন্‌, পাগ্ডবদিগের জয়লাভের পর জগতে ধর্শ- রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হইলে মহাত্মা বাস্থদেব ধনঞ্জয় ইহারা কি করিয়াছিলেন, তাহা কীর্তন করুন। বৈশম্পায়ন কহিলেন, মহারাজ, পাণ্ডবগণের জয়লাভের পর জগতে

ধর্মরাজ্য প্রতিষ্ঠিত হইলে বাসুদেব ধনঞ্জয় কিছুকাল মহাহলাদে জগতের প্রসিদ্ধ নগরী রাজধানীতে এবং যাবতীয় রমণীয় স্থানে বিচরণ করিয়া পরিশেষে ইন্পরস্থ মহাসভায় উপঝিষ্ট হইয়া কথাগ্রসঙ্গে যুদধবৃত্াস্ত এবং খষি দেবতাদিগের বংশ কার্ভন করিতে লাগিলেন। অনন্তর একদা অজ্জুন বাহ্থদেবকে সম্বোধনপূর্ব্বক কহিলেন, মধুনুদন, যুদ্ধকালে আমি তোমার মাহাত্ম্য সম্যক্‌ অবগত হইয়াছি এবং তোমার বিশ্বমৃর্তিও নিরীক্ষণ করিয়াছি।

সর্বজাতি-মণ্ডল ১৫৯

তুমি পূর্বে বনধুত্বনিবন্ধন আমাকে যে সমস্ত উপদেশ প্রদান করিয়া ছিলে, আমি স্বীয় বুদ্ধিদোষে তৎসমুদয় বিস্ৃত হইয়াছি। তুমি অচিরাৎ দ্বারকায় গমন করিবে; অতএব এই সময় আমার নিকট পুনরায় ততসমুদয় ফার্তন কর।

অজ্জুন এই কথ! কহিলে মহাত্মা বাস্থুদেব তাহাকে আলিঙ্গন করিয়া কহিলেন, হে ভারত, তুমি আমার পরম প্রিয়, তোমার সহিত বনুদেশ হইতে আগত বহুজনসমাকীর্ণ সর্জাতীয় সভার মধ্যে বাদ করিবার কথ! দুরে থাকুক, দুতিক্ষে, রাষ্টরিপ্নবে, শ্মশানে অবস্থান করিলেও আমি পরম প্রীত হইয়া থাকি, কারণে আমি তোমার নিগুঢ় ধর্মের বিষয় পুনানর কীর্তন করিতেছি। কিন্তু তুমি অতি নির্ধোধ শ্রদ্ধাশূন্ঠ যাহাই হউক আমি পুনরার তোমার নিকট সেই পরব্রঙ্ের স্বরূপ কীর্তন করিব।

পুর্বে তোমায় আমি লৌকক্ষয়কারী উগ্র কানস্বরূপ দেখাইয়াছি_ এইবার আমার পালনকারী ক্লিগ্ধ বিশ্বাআবক পরম রূপ দেখাইতেছি।

ভগবান্‌ বাসুদেব এই কথা কহিয়া অজ্জুনের নিকট পুনরায় বিশ্বরূপ প্রকাশ করিলেন। কিন্তু এক্ষণে এই বিশ্বরূপ প্রজ্লিত পাবকের ন্যার ভীষণ নহে, শুক্ুবর্ণ অতি সৌম্য মহাসমুদ্রের ন্যায় স্থির প্রশান্ত মনোরম।

ধনগ্রয় সেই বিশ্বরূপ দেখিয়৷ প্রীতমনা হইয়া! তাহার স্তব করিতে লাগিলেন, হে ভগবন্‌, আপনার উদরে স্বন্ধাম, পৃথিবী, রসাতল বর্তমান ক্ষিতি জলাদি পঞ্চভৃত নিখিল স্বামীর একমাত্র আধার, সকলের আদি, সর্বকারণ-কারণ পরমেশ্বর যে আপনি আপনাকে বারবার নমস্কার করি। আপনার দেহে রুদ্র, আদিত্য, বস্থগণ, প্রজাপতিগণ, দেবমাতা৷ অদ্দিতি, নিতি সপ্তধিগণ বর্তমান। আপনি শীত উত্তাপ বৃষ্টিরূপ তিন নাভিযুক্ত সংবৎসরাত্মক কালচক্রকে বহন করিয়। শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষার স্থষ্টি করিতেছেন। আপনি খতু, উৎপত্তি, বিবিধ অদ্ভূত পদার্থ, মেঘ, বিদ্যুৎ, এ্ীরাবৎ স্থাবর- জঙগমাত্মক সমুদয় তৃত।

১৬০ তরুণ ভারত

দণ্ডগ্রহণ করিয়া আপনি সকল জাতির সকল লোককে পাঁলন করিতে- ছেন। আপনি বিশ্বসংসারের একমাত্র রাজা; আপনি একাকী সকল লোককে ধারণ করিয়া রহিয়াছেন। আপনি বিশ্বংসারের একমাত্র রাজ! এবং আপনি একমাত্র প্রজা হইয়া আপনার ধর্মপালন করিতেছেন। আপনি ধনের পুষ্টিকর্তা একমাত্র বিজীগিযু। আপনি সংহারক, আপনি হত। আপনি অস্ত্রধারী, মন্ুযযরূপী ভীমমূর্তি। আবার আপনিই শাস্তিদাতা, শাস্তিরক্ষক, মনুষ্যূপী করণমৃন্তি।

নিখিল জাতির সাহিত্য, বিজ্ঞান, দর্শন আপনার ত্রিলোচন। নিখিল লোকের বিভিন্ন মন্ত্র, স্ততি, কীর্তন, শ্মরণ আপনার শ্রবণ। সর্বলোকের যজ্ঞ নিখিল কল্যাণধন্ন্ম আপনার অনুপম তন্ু। নিখিল লোকের শিষ্টাচার, রীতিনীতি, চারুশিল্পকলা আপনার অঙ্গাভরণ। বিশ্বসংসারের কৃষিশিল্পবা ণিজ্যব্যবসায় আপনার সর্ধদিক্বিস্তৃত হস্তপদ |

আপনি পৃথিবীর যাবতীয় জাতির নিকট বিভিন্ন স্বতন্ত্রূপে আপ- নাকে প্রকটিত করিয়। প্রত্যেকের কার্য অকার্যের হেতু নির্দেশ করিয়াছেন, করিতেছেন করিবেন। আপনি কাহারও নিকট হইতে- ছেন ব্রহ্জ্ঞান, কাহারও নিকট হইতেছেন ক্ষত্রিয়বল, কাহারও নিকট বৈশ্তশক্তি। আপনাকে যে ভাবে যে জাতি ভজন! করে, তাহাকে আপনি সেই ভাবে অনুগ্রহ করেন, যেহেতু আপনাকে ছাড়িয়া অর্থ অথবা সৈন্য- বলের ভজন! করিলেও তাহারা আপনারই ভজনমার্গ অন্ুবর্তন করিয়া থাকে। আবার আপনিই সর্বজাতিম্বরূপ হইয়া স্বতন্ত্র জাতির কার্য্য অকার্ধ্যের মধ্যে বিশ্বে সুষমাসামগ্রস্য আনিতেছেন। যেরূপ সকল দ্বন্দের আপনিই ত্রষ্টা, সেরূপ সকল ছন্দ আপনাকেই সমাশ্রয় করিতেছে।

বনুনদী যেরূপ বিচিত্র পর্বত প্রদেশ, বনতূমি, নগর, গ্রাম অতিক্রম করিয়৷ সাগরসঙ্গমতীর্থে পৌঁছিয়া অনস্ত কল্লোল-গীতিতে আপনাদের হর্ষ জাপন করে, সেরূগ বিভিন্ন জাতি তাহাদিগের বিচিত্র ভাবসম্প্দ আপনাকে

সর্বাজাতি-মগ্ডল ১৬১

অর্পণ করিয়া পরম জ্ঞানানন্দ লাভ করে। আমি আজ আপনার শ্রীমুখ- নিঃসৃত সর্বজাতির সেই মহামিলনের বিপুল হর্ষগীতি শ্রবণ করিয়া ধন্য হইলাম। আপনি সপ্তশ্রের ভিতর দিয়া যেরূপ রাগ- রাগিণীতে প্রকাশিত হন, সেরূপ নব নব বিভিন্ন জাতির বৈচিত্র্য স্বাতস্ত্রোর ভিতর দিয়! বিশ্ববীণায় এক নিত্যমঙ্গল স্থর রচনা! করিতেছেন। আপনি এক একটি বিভিন্ন শব্দ, আপনি গান, আবার আপনিই গায়ক। হে শাহবত গায়ক, আমি মঙ্ঠামিলনের সেই গান শুনিয়া ধন্য হইলাম। কুর্ধারূপে প্রতিদিন নভোমগ্ডলে উদিত হইয়া আপনি যেরূপ কালবিভাগ করেন এবং আপনারই দক্ষিণায়ণ উত্তরায়ণ হইয়া থাকে, সেরূপ জগৎক্ষেত্রে আপনি সভাতারূপে উদ্দিত হন। আপনারই ক্রমবিকাশ অবনতি হইয়া থাকে। ইতিহাস আপনারই তিধ্যগ.ও সরল গতি কীর্তন করিয়! থাকে। আপনিই বর্তমান, ভূত ভবিষ্যৎ

প্রত্যেক সমাজে আপনি যেমন প্রত্যেক বর্ণ হইয়া পরস্পরের সমবায়ে মমাজদেহের পূর্ণ উন্নতির লক্ষ্যে বর্ণগুলিকে পরিচালিত করিতেছেন, সেরূপ বিরাট্‌ সর্ধজাতি-দেহের অন্তরে থাকিয়া আপনি অলক্ষ্যে সমুদয় জাতির স্বতন্ত্র চেষ্টার সাফল্য বিফলতার মধ্য দিয় বিশ্বব্যাপী ধর্মসাআজ্য প্রতিষ্ঠা করিতেছেন। যুদ্ধবিগ্রহ, শাস্তি, স্থশাসন, মাৎস্যনায়ের মধ্য দিয়া আপনি জাতিরূপে ধরাতলে মঙ্গল প্রতিষ্ঠার আয়োজন করিতেছেন। আপনিই জাতিরূপে, মনুষ্যরূপে, বিশ্বসংসাররূপে, বর্তমান ভবিষ্যৎ গঠন করিতেছেন। আপনার বিরাট্‌ বিশ্বদেহের প্রতি অপ্রত্যঙ্স কার্যানির্ধাহে আমি বৃহৎ ক্ষুদ্র জাতিসমুদয়ের পরম্পর সমষ্টির কল্যাণবিধান নিরীক্ষণ করিয়া ধন্য হইলাম।

জগতে যাহা। প্রশস্ত, পবিত্র, শুত, সুন্দর অসীম, আপনি তৎসমূদয়- স্ব্ূপ। সকলের অন্তরে থাকিয়া আপনি প্রত্যেকের সঙ্গে মিলনের প্রত্যাশী। আপনি মিলনের কর্তা এবং আপনিই মিলনের একমাত্র সাক্ষী

১১

১৬২ তরুণ ভারত

আপনি নকল ব্যক্তির ইন্্িয়ের অধিষ্ঠাত! হইয়া সকলকে স্ব স্ব কার্যে নিয়োগ করিতেছেন এবং সকল জাতির শিক্ষা, গঠন শাসনের অধিষ্টাত| হইয়া সকলকে স্বধর্মে নিয়োজিত রাখিয়া! আপনার বিরাট সত্য-শিব-স্থন্দর বক্ষে নিরস্তর টানিয়া লইতেছেন। আপনি বিশ্বকর্মা, বিশ্বরূপ, বিশ্ব- ংহারক। আপনি বিশ্বদেব, আপনি জগন্নিবাস। আপনি অচিস্তনীয়, ইহা অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ কল্পন৷ জল্পনামান্র।

আজ এই কল্পনা বাস্তবে পরিণত হইতে চলিয়াছে। জাতিতে জাতিতে অবিচ্ছিন্ন মৈত্রী স্থাপনের স্থুচেষ্টার সহিত অনুন্তত শিশুজাতি- সমূহের প্রতি কর্তব্য সাধনের যত্ব চলিতেছে।

সর্বজাতিমণ্ডপ একত্রে মিলিয়া অথবা কোন এক বিশিষ্ট জাতি ভার- প্রাপ্ত হইস্। অনুন্নত জাতির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ করিবে ) এই লইয়! বাদ প্রতিবাদের যুদ্ধ চলিতেছে

মরক্ক ইজিপ্টে একাধিক জাতির ভার গ্রহণের বিষময় ফলের উল্লেখ করা হইয়্াছে। অপরদিকে সর্বজাতিমণ্ডল যদি কিছুরই ভার গ্রহণ করিবার অবসর না| পায়, তবে উহা! যে নিক্্িয় ব্রন্মের মত বস্তৃতন্ত্হীন থাকিয়া যাইতে পারে, এই ভয়ও নিতান্ত ভিত্তিহীন নয়।

যিনিই দায়িত্ব লউন না কেন, গোটাকতক বীধাবাধি নিয়ম এই শাস্তি স্থাপনের স্থযোগে স্থষ্ট না হইলে অনুন্নত অর্বাচীন জাতিগণের শোষণ ভয়ানক আকার গ্রহণ করিবে।

বাধিন ক্রশেন্দ কংগ্রেসদ্য় উক্ত অনুচ্চ জাতিসমূহের ব্যবহারে যে নিয়মনূত্রের স্থষ্টি করিয়াছিল, সেইগুলিকে আরও ব্যাপক, বিশুদ্ধ সর্বসাধারণের সম্মতিক্রমে গ্রহণ করিতে হইবে। আরও বিভিম্নদিকে অনুচ্চ জাতিসমূহের রক্ষা করে তাহাদের সমাজের শাস্তি সুব্যবস্থার জন্য কয়েকটা নিয়ম সর্কসন্মতিক্রমে টি পাঁলন করা চাই; এবং দেই নিয়মগ্ডলির লঙ্ঘনে শাস্তির ব্যবস্থা চাই।

সর্বজাতি-মণ্ডল ১৬৩

প্রায় একমাস পূর্বে মাদ্রাজে টিচনপলীতে এই সম্বন্ধে বক্তৃতা করিতে যাইয়। আমি, জগতের গ্রীন্মপ্রধান খণ্ডে অনুন্নত জাতি সমুদয়ের রক্ষা বিকাশসাধনকল্পে যে সকল নিয়ম কানুন অবশ্ত-প্রতিপাল্য তাহাদের সবিশেষ আলোচন! করিয়াছিলাম। এই স্থলে আমি কতকগুলি মাত্র উল্লেথ করিতেছি।

সর্ব-জাতিমণ্ডল বা বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কোন বিশিষ্ট জাতি বা জাঁতি- সংঘ এই সকল নিয়ম কানের মর্যাদা যর্দি এখনও না বুঝে, তবে শাসনের সহিত শোষণের, সভ্যতার সহিত বর্ধরতার, বাণিজ্যের সহিত স্বার্থ সাধনের সম্বন্ধ লুপ্ত হইবে না, এবং বিশ্বজগতে অবিচ্ছিন্ন শাস্তি স্থাপন সুদুরপরাহত হইবে।

যে সকল নিয়ম প্রবর্তন কর! কর্তব্য, আমরা একে একে তাহার উল্লেখ মাত্র করিতেছি

(১) প্রত্যেক অনুন্ূত জাতির পক্ষে মধ্য বিক্রয় এবং মদের ব্যবহার বিশেষরূপে কমাইয় দিতে হইবে | এবং স্থানীয় মগ্ঘব্যবসায়ীরা আস্ত- তিক নিয়ম পালন করিতে বাধ্য হইবেন।

(২) শ্বেত বা কৃষ্ণকায় উভয় প্রকার ব্যক্তির প্রতি যৌন সম্বস্বীয়

' কদ্দাচাবের জন্য আইন সমভাবে কার্য করিবে; এবং জারজ পুত্র-কন্তা- গণের শিক্ষাদীক্ষার রীতিমত ব্যবস্থা, করিতে হইবে

(৩) উপদংশ প্রভৃতি রোগের নিমিত্ত বৈজ্ঞানিক নিয়মানুযায়ী

আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা থাকা উচিত।

(৪) কৃষি এবং খনির কাধ্যের জন্য কেবলমাত্র পুরুষ শ্রমী গ্রহণ * চলিবে না_ স্ত্রীলোক এবং বালকদ্দিগকেও লওয়া চাই। স্ত্রী আমজীবীর : সংখ্যা পুরুষ শ্রমজীবীর সহিত তুলনায় কম হওয়ার জন্যই নীল-কোকো। চা-কফি প্রস্থৃতি চাষের ক্ষেত্রে এবং খনিতে নানারূপ বাভিচার এবং কদাচারের স্ষ্টি হইয়া থাকে।

১৬৪ তরুণ ভারত

(৫) আইনের চশম! চক্ষে দিয়া দেখিলে মনে হয় যে, ক্রীতদাস- গ্রথা জাতি হইতে উঠিয়া গিয়াছে। কিন্ত প্রকৃত পক্ষে দেখিতে গেলে এই হীন প্রথা এখনও সম্পূর্ণ বর্তমান। অনুন্নত জাতিদিগকে শ্থেতকায় মহাজনেরা! যেরূপ নাঁনাভাবে খণের জন্য এবং অন্তান্ত কারণে জোর জবরদস্তি করিয়া এসিয়া আফ্রিকার বিভিন্নখণ্ডে খাটাইয়৷ থাকেন, তাহা ক্রীতদাসপ্রথার নামাস্তর মাত্র। এই দুর্ব্যবহার দূর করিবার নিমিত্ত আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার গ্রয়োজন।

শ্রমজীবীর নিয়োগকালের চুক্তিতে যাহাতে অজ্ঞতা বা জুয়াটুরীর জন্ তাহারা অন্যায়ভাবে বিদেশ হইতে আনীত হইয়া শ্রমআইন লঙ্ঘনের শান্তি ভোগ ন| করে, তাহার প্রতিবিধান চাই। শ্রমজীবীদিগের বস্তি নির্মাণ সম্বন্ধেও সকলের অনুমোদিত আইন কান্ুন চাই।

(৬) গ্রীন্মপ্রধান দেশসমূহে শ্বেতকায়গণ নানা প্রাকৃতিক কারণে চিরকাল বাস করিতে পারেন না। এই সকল স্থানে তদ্দেশবাসীদিগকে স্থানীয় কৃষি শিল্প বাণিজ্য প্রভৃতি বিষয়ে আত্মোন্নতি লাভের সুযোগ এবং শিক্ষার জন্য উপযুক্ত আন্তর্জাতিক বিধান আবগ্তক।

(৭) জমির উপর আধিপত্য স্থাপনের অতৃপ্ত আকাঙ্ষায় এবং জমি বিভাগ বিষয়ে অদুরদর্শিতায় অনেক স্থলে স্থানীয় লোককে বলপূর্ববক স্বদেশ হইতে বহিদ্ভত এবং শ্বাধিকারচ্যুত করা হইয়া থাকে। কিন্তু প্রত্যেক দেশের লোকই স্ব স্ব সভ্যতার আদর্শে এবং দেশের প্রারুতিক শক্তিপুঞ্জ রীতিনীতি অনুসারে বাড়িয়! উঠিয়াছে। তাহাদের সে অবস্থা পরিবর্তন করিলে তাহাদের উন্নতি বাধাপ্রাপ্ত হয়। অবস্থায় জমির উপর অধিকার এবং তাহাদের স্ব স্ব আদর্শের পরিবর্তন বিষয়ে কঠিন আস্তর্জাতিক বিধান থাকা৷ আবশ্যক | বিশেষতঃ যে সকল স্থানে শ্বেতকায়- গণ প্রাকৃতিক কারণে চিরবসতি করিতে পারিবেন না, তথাকার জমিতে তাহাদের চিরন্তন অধিকার থাকিতে পারিবে না। জমি গভর্ণমেন্টের

সর্বজাতি-মগ্ুল ১৩৫

অধীনে থাকিবে। গভর্ণমেণ্ট ইচ্ছ৷ করিলে কোনও শ্বেতকায় মহাজনকে কিছু জমি দিতে পারেন। কিন্তু েই ব্যক্তিকে ছটা সর্ত করিতে হইবে। (১) সে জমিটাকে অকর্ষিত অবস্থায় ফেলিয়৷ রাখিতে পারিবে না। (২) সময়মত বিজ্ঞাপন দিয়া গভরণমেষ্ট তাহার নিকট হইতে যখন ইচ্ছা জমির অধিকার ফিরাইয়া লইতে পারেন। গ্রী্মগ্রধানদেশে এই উপায় অবলম্বন করিলে শ্বেতকায়গণের তথায় চিরবসতি অপস্ভব হইবে অথচ তাহারা স্থানীয় লোকদিগকে কৃষি এবং অন্তান্য বিষয়ে শিক্ষাদান করিতে পারিবেন।

(৭) অনুন্নত জাতিদিগের মধ্যে প্রাথমক শিক্ষার সম্যক্‌ প্রচার হওয়া টাই। সভ্য জাতিগণের মধ্যে যাহারা অনুন্নত জাতির শাসনের তার লইবেন, তাহাদিগকে সার্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষার ভার লইতেই হইবে।

যুগধর্মাবিকাশে নব্যহিন্দৃত

রামমোহন-ভূদেব

এতকাল ধরিয়া যে নৃতন ভারতের স্থাট্টির আয়োজন চলিতেছিল, তাহা অনেকটা অন্ধকার পথে খঞ্জের হাতড়াইয়া যাওয়ার মত, আদর্শের ফব আলোকে নিশ্চিত যাত্রার মত নহে। রামমোহন, বিবেকানন্দ, ভূদেব, ব্রজেন্্রনাথ, রবীন্দ্রনাথ ভারতের বাণী প্রকাশ করিয়াছেন, ব্যক্তিগত সাধনার দ্বারা যুগধর্মববিকাশে হিন্দ্ভ্যতার সাধনার ইঙ্গিত করিয়াছেন। ভারতবর্ষে যে রাষ্ট্রীয় আনোলন আজকালকার সব আন্দোলনকে অতিক্রম করিয়া মাথা তুলিয়াছে, সেখানেও দেখি এক অভিনব ভাবুকতা। রামমোহন তূদেবের বিশেষত্ব এই, তাহারা দেশকাল অনুসারে নৃতন করিয়া সমাজগঠনের এক বিপুল প্রয়াস সাধন করিয়াছেন। রামমোহন-ভূদেবের চিন্তার মধ্যে আমরা জগতে তুলনা মূলক সমাজতত্বের প্রথম প্রকাশ দেখিতে পাই। দুইজনই বর্জনের দিক্‌ দিয় নহে, সম্মিলনের দিক্‌ দিয়া__গঠনের দিক্‌ দিয়া সমাজসংস্কার চাহিয়াছিলেন। একজন হইলেন একটা! অভিনব ধর্মসম্প্রদায়ের নেতা) আর একজন হইলেন, নব্যহিন্দুত্বের নৃতন প্রচারক। আমাদের ছুরদৃষ্ট ইউরোপীয় বর্জনকারী আদর্শের প্রতিপত্তির জন্য ছুইজনকেই আমর! হারাইতে বসিয়াছিলাম। একজন অনুমিত হইয়াছিলেন হিন্দুসমাজের বাহিরে ব্রাঙ্ম নব্যসংস্কারকগণের দলপতি, আর একজন হইয়াছিলেন যুগধর্্বের বাহিরে গড়া সনাতন-গ্থী।

বিবেকানন্দ

রামমোহন ভূদেবের জীবন সম্বন্ধে দেশ যে তুল করিয়াছে, বিবেকা-

নন্দের জীবন তাহার বাণী সম্বন্ধে সে ভুল হয় নাই। তরুণ দন্াসী

যুগধর্শাবিকাশে নব্য-হিন্দত্ ১৬৭

স্পষ্ট ভাবে হিন্দুর প্রকৃত দাধনার প্রতি গভীর বিশ্বাস শ্রদ্ধায় জবস্ত দেশগ্রীতিতে জাতিকে সাবধান করিয়াছিলেন, ডুতমার্ের সহিত প্রকৃত হিন্দুর কিছুমাত্র সংশ্রব নাই__এবং সঙ্গে সঙ্গে তিনি হিন্দুর অধ্যাত্বজীবন সমাজের পুনর্গঠনের বাণীও বজ্‌গস্ভীরকণ্ঠে প্রচার করিয়াছিলেন। শুধু তাহা নহে, তিনি বিশ্বজিগীষু হিনুত্বের প্রবর্তক। পাশ্চাত্যবাসী অনেকে তাহাকে গুরুরূপে বরণ করিয়! ভারতের চিন্তা আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাবান্‌ হইলেন। জগৎ বিশেষতঃ আমাদের দেশ চিরকালই প্ৰাগৃবৈথরী শবাঝরী শাস্তব্যাথান-কৌশল” অপেক্ষা অস্তর্ৃ্টিকেই শ্ন্ধা করে-_রামকৃষ্ণ-শিষ্য বিবেকানন্দের নিকট সে তাহাই পাইয়াছিল। ত্যাগের দণ্ডের উপর বৈরাগ্যের নিশানে যে ততজ্ঞান অস্কিত থাকে, কেবলমাত্র তাহাই আমাদের জাতির একমাত্র নায়ক নিয়ন্তা, চিরকাল তাহাই হইয়াছে হইবে। সন্গ্যাসীর যষ্টি আমাদের জাতির একমাত্র শাসন-দও।

বর্তমান যুগ

তাহার পর আর এক যুগ অতীত হইয়াছে কাব্যে, দর্শনে, বিজ্ঞান- চট্চায় অতীত ভারতের চিন্তার সম্পদ আজ সভ্য জগতে যথোচিত গৌরব অর্জন করিয়াছে ইউরোপের সাহিত্যক্ষেত্রে সেই ভাবুকতার আন্দোলনের যুগে শ্লেগেল সপেনহার, কুঁজা, গেয়েটে, হার্ডারের উপর ভারতীয় চিন্তা কম প্রভাব বিস্তার করে নাই। জার্মানীতে বুলর- কিলহরণ, ফ্রান্সে সিল্ভান্‌ লেভি, আমেরিকায় লান্মান ভারতের অতীত গৌরবের কাহিনী প্রচার করিয়াছেন। [700108/ এখন পাশ্চাত্য বিশ্ববিগ্থালয়ে আদরের সামগ্রী। ভারতের বর্তমান চিন্তাও বিদেশে গৌরব অর্জন করিয়াছে ব্রজেন্্রনাথ বিশ্বমানবসভায় ভারতের চির- পুরাতন-চিরনূতন অহিংসা মৈত্রীর বাণী প্রচার করিয়| বিভিন্ন জাতি-

১৬৮ তরুণ ভারত

সমুদয়ের সম্মুখে বর্তমান সভ্যতার দুরূহ সমস্যাগুলির বৈজ্ঞানিক আলো- চনায় ভারতীয় চিন্তার বিশেষত্ব পরিস্ফুট করিয়াছেন। জগদীশচন্দ্র রবীনত্রনাথ নিজ নিজ সাধনার দ্বার! বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিচিত্র ভাবে ভারতের বাণী প্রকাশ করিয়াছেন। অবণীন্ত্-নন্দলালের সাধনালন্ধ ভারতীয় চিত্রকলা ভারতীয় সভ্যতার স্বাতত্ত্ের আর একটি নৃতন বিকাশ। ভগিনী নিবেদিতার গুরুভক্তি প্রাচ্যের প্রতি শ্রদ্ধা অপূর্বভাবে মিশ্রিত হইয়া ভারতের সমাজ, আর্ট ইতিহাসের ধারাটিকে বিশ্বজগতের সম্মুখে প্রকাশিত করিতেছিল। জগদীশচন্ত্র প্রফুল্লচন্দ্রের আবিফার ভারতের প্রতি শ্রদ্ধা আকর্ষণ করিয়াছে। তাহাদের শিষ্যগণ তাহাদের তাহাদের দেশের সম্মান আরও বৃদ্ধি করিতেছেন। ইতিহাস, দর্শন, বিজ্ঞান, সমাজ-তন্ব সাহিত্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে আরও অনেক লোকের প্রতিভা সত্য সত্যই তাহাদের অগ্রণী ভারতীয় সভ্যতা'প্রচারকগণের জ্ঞানগরিম। ছাড়াইয়। উঠিতে পারিবে।

নৃতন সমস্যা

রামমোহন-ভৃদেব-বিবেকানন্দ যে কার্যে ুত্রপাত করিয়া গিয়াছেন, তাহাকে আজ সফল করিয়া তুলিতে হইবে রাষ্ট্রেঁ সমাজগঠনে, শিল্পে, বিদান্থশীলনে সকল ক্ষেত্রেই জাতীয় আদর্শের ধারাটিকে খুঁজিয়া বাহির করিয়া তাহারই অব্যাহত ক্রমবিকাশের স্থুযোগ বিধান করা-_ ইহাই জাতির প্রধান কর্তব্য দায়িত্ব।

রামমোহন-বিবেকাননদের চিন্তা সাধনা সাফল্য লাভ করিবার পূর্বে বিশ্বজগতে কত ন! চিন্তা, সাধনা, কত না শক্তির খেলা হইয়! গেল। ভারতকে বিশ্বশক্তির উপযোগী করিয়া আবার সেই সনাতন চিরনুতন আদর্শকে নৃতন করিয়া! নৃতন ভাবে বুঝিতে এবং প্রচার করিতে হইবে। প্রাণ কখনও শিথিল অসাড় দেহযস্ত্রে থাকে না। আদর্শ যদি সত্য হয়,

যুগধর্ধমবিকাশে নব্য-হিন্দুত্ ১৬৯

তবে তাহা অনুভব করিতে হইলে অতীতের কল্পনার জীর্ণ অস্থির আশ্রয় লইতে হয় না, বর্তমান সতেজ সরল জীবনের নিবিড় অনুভূতিতে তাহার প্রকাশ। মনাতন হিন্দুসভ্যতার আদর্শ সত্য, তাই বর্তমান যুগের সভ্যতার নৃতন নৃতন সমস্তাগুলির সমাধানে তাহা অতি সুন্দরভাবে উপযোগী

বর্তমান সভ্যতার সর্ধপ্রধান সমস্যাগুলি “উপাসনায়” ধারাবাহিক ভাবে আলোচিত হইয়াছে এবং হিন্দুসত্যতা৷ বর্তমান যুগের এই দুরূহ প্রশ্নসমুদয়ের কি ভাবে মীমাংল! করিয়াছে, অথব! করিতে চাছে, তাহাও দেখান হইয়াছে।

হিন্দুসভ্যতার সমাজগঠনের বিশেষত্ব

মানুষের সহিত সমাজের সতবন্বস্থাপনে হিন্দুসভ্যতা৷ মানুষের ব্যক্তিত্বকে খাট করিতে দেয় নাই। পাশ্চাত্য জগতে রাষ্ট্র শিল্প প্রতিষ্ঠান লোক- সমূহের সমস্ত শক্তি কেন্দ্রীভূত করিয়া একটা বিরাটু লৌহযস্ত্ররে মত যে ব্যক্তিত্বকে পিটিয়৷ পিষিয়া পোড়াইয়া নিজের প্রয়োজনের মত গড়িয়া তুলিতেছে, তাহা হিন্দুসভ্যতার আদর্শের সম্পূর্ণ বিরোধী। রাষ্ট্র যে সর্কেসর্বা হইয়া মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের পবিত্র ক্ষেত্রে আপনার হুকুমজারি করিবে (51916 5001811507 ), ইহা প্রাচ্য ভূখণ্ডের ইতিহাসে কখনও বিধাতাপুরুষ লেখেন নাই খ্রশবরয্য লোকবল, রাষ্ট্র সমাজ- শক্তি প্রাচ্যজগতে কেন্দ্রাভিমুখী নহে; সমাজক্ষেত্রে তাহারা অবাধ ব্যাপ্তির পথ খুঁজিয়াছে। পাশ্চাত্য জগতে রাষ্ট্রীয় দলাদলি (77170 0০551100001). ), আম্লাতন্ত্র (3075990180/), অথবা লোকসংখ্যার অতানগযায়ী রাষ্ট্রীয় কার্য্যনির্বাহ (175 16176 06 01517900110 ০৮৪7 176 101707105 )--ইহাও সেই একই আদর্শের ফল, যাহা সমাজ-ন্ত্রকে খুব কার্যকুশল করিবার জন্ত মানুষের ব্যক্তিত্বকে

১৭৯ তরুণ ভারত

বলি দিতে চাহিয়াছে, এবং রাষ্ট্র শিল্প-প্রতিষ্ঠানের বাহ্য মহিমা, গৌরব শ্রশ্বয্যে মুগ্ধ হইয়া সমাজের আর সমস্ত বিচিত্র শ্রেণী সমূহের ক্ষতিসাধন তাহাদের অকৃত্রিম বন্ধনগুলিকে ছিন্ন বিচ্ছিন্ন করিয়! ফেলিয়াছে। এমন কি, পারিবারিক জীবনকেও বিসর্জন দিতে আজ কুষ্টিত নহে। হিন্দুসভ্যত! পাশ্চাত্য জগৎকে ব্যক্তিসর্বস্বতা বাট শক্তির একান্ত বিনাশ সাধন করিতে বলিতেছে না, কিন্তু ইহা এই বলিতে চাহে যে, মাহুয রক্তের টানে, শ্বাভাবিক সম্থন্ধের টানে, সমান বা অনুরূপ কার্ধয, রীতি নীতি ঝা রুচির টানে যে সকল শ্রেণী, সমষ্টি, গণ বা সমূহে আবদ্ধ হয়, সেগুলিকে নষ্ট করিয়া যদি শুধু একটা! বিরাট কৃত্রিম রাষ্ট্র ৰা বৈষয়িক প্রতিষ্ঠানকে সর্ধভূক্‌ করিয় তুল! হয়, তাহা হইলে মানুষ এক- দিকে যেমন স্বাভাবিক বৃত্তিনিচয়ের বিকাশসাধনের সুযোগ না পাইয়া স্বৈরাচারী হয়, অপরদিকে রাষ্ও আবব্যোপন্তাসের দৈত্যের মত তাহার ঘাড়ে চাপিবার সুযোগ পাইয়া তাহাকে দিয়। যা ইচ্ছা করাইয়া লয়। রাষ্ট্রের হুকুম সংই হউক অসংই হউক,__সে বিচার করিবার অধিকার শক্তি তাহার থাকে ন|। ব্রাষটীয় বৈষয়িক প্রতিষ্টান ইউরোপে অধিকতর ফলোৎপাদনক্ষম হইলেও ব্যক্তির স্বাভাবিক প্রাথমিক বৃত্তিনিচয়ে বিকাশের প্রতিরোধ এবং সমূহ জীবনের মূলশক্তির বিনাশ সাধন করিয়া সর্বাঙ্গীন মানবজীবনের অভিব্যক্তির অন্তরায় হইয়াছে। ট্রাষ্ট কার্টেল অথবা সাম্রাজা কোন বিশেষ দিকে সমাজের যোগ্যতা দান করিতে পারে সত্য; কিন্তু লভ্যতার সর্ব্াঙ্গীন উন্নতির পক্ষে তাহার! যে বিষ্ন্বরূপ ইউরোপীয়গণই এখন তাহা স্বীকার করিতেছেন। হিন্দুসভাযতার সমাজ- গঠনে বিশেষত্ব এই যে, ব্যক্তি রাষ্ট্রের মধাস্থিত অসংখ্য দল, শ্রেণী বা সমূহের সে পুষ্টিবিধান করিয়াছে। গাহ্‌স্থা জীবনে গোত্র একান্নবত্বী পরিবার, সমাজজীবনে বর্ণ আশ্রম, শিল্পজীবনে জাতি, শ্রেণী সম্প্রদায় বিভাগ বায় জীবনে পঞ্চায়েৎ

যুগধশ্মুবিকাশে নব্য হিন্ুত্ব ১৭১

গ্রাম্যশালিশী সমিতির মর্যাদা হিন্দুসভাতা চিরকালই অঙ্ষু্ রাখিয়াছে।

পাশ্চাত্য বক্তিসর্বস্বতা বাবলায় শাসনযস্ত্রের সুবিধা বাহিক মহিমাহেতু সকল সভ্যতাকে গ্রাস করিয়া জগত্ময় সকল ক্ষেত্রে যে সমা- জের মাধামিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে বিধ্বস্ত করিতেছে, তাহা৷ সভ্যতার বিনিময়ের চিহ্ন, সম্মিলনের নহে। তাহা অস্বাভাবিক ধ্বংসপ্রবণ। বিশ্ব সভাতার পক্ষে তাহা অনঙ্গলদায়ক। বিধি কিছুতেই টিকিতে পারে না। প্রত্যেক সভার! তাহার বিশেষত্ব গুলি বঙ্গায় রাখিয়৷ উন্নতির পথে সম্মিলনের দ্বারা পুনগঠনের দ্বারা অগ্রসর হইবে।

ভবিষ্যৎ ক্রমবিকাশ

ভারতীয় সভ্যতার ভবিষ্যৎক্রমবিকাশে বাক্তি-সর্বস্বত। গ্রশ্রয় পাইবে না। ভারতীয় সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী বা সমুহগুলি নৃতন জীবনে উপযোগী হইয়া নৃতন দায়িত্ব বরণ করিয়া লইবে। রাষ্ট্রীয় সংগঠনে মণ্ডল, সার্দার, মুখা, বারিক, দিয়ান, পর্যায়ে, সমিতি সভা তাহাদের নৃতন যুগের নূতন দায়িত্ব না পাইলে বা বুঝিলে আমরা বিদেশীয় ডিমোক্রেসির অনুষ্ঠান লইয়া মিথ্যা আড়ম্বর করিবমাত্র। বর্ণবিভাগ, জাতিবিভাগ, আশ্রম সম্প্রদায়বিভাগ সবই থাকিবে, কিন্তু তাহাদের জীর্ণ বেদনাদায়ক কষ্কালগুলা নহে, প্রাণ পরিপূর্ণ হইরা বাক্তির স্বাভাবিক শক্তি যোগ্যতা অনুসারে তাহার! পরিপূর্ণ ব্যক্তিত্ববিকাশের স্থযোগ বিধান করিয়া দিবে। শিল্পক্ষেত্রে ব্যক্তির অবাধ প্রতিযোগিতার দ্বারা নহে, ভারতবর্ষের বিচিত্র কৃষক শিল্পীর ক্ষুত্র ক্ষুদ্র জাতি শ্রেণী, দল, সমিতিগুলির বিরাট সমবায়দ্থার৷ বৈষয়িক উন্নতি সাধিত হুইবে। পাশ্চাত্য জগতের শিল্পানু- ্টানের যে বিষময় ফল, অর্থের তারতম্য সমগ্র সমাজকে হীনবল বিপর্যাস্ত করিয়। ফেলিয়াছে, তাহ! নিবারণ করিবার একমাত্র উপায় সমবায়!

১২ তরুণ ভারত

বিদেশের রপ্তানি রেফাইজনের আংশিক সমবায় নহে। যে সর্বাীন সসাম্রস্তপূর্ণ সমবায়-পদ্ধতিতে ভারতবর্ষের গ্রাম্যসমাজে কৃষি শিল্পকার্ধ্য প্রণালী যুগপরম্পরায় অনুষ্ঠিত হইয়! আগিয়াছে, তাহা পুনর্জীবিত করিয়া, _বাম্প, গ্যাস্‌ অথবা তেলের ছোট এপ্রিনের বা তাড়িতের সাহায্যে আধুনিক বাণিজ্য ব্যবসায় প্রণালীর প্রতিন্বীরূপে গড়িয়া তুলিয়া। কৃষিকর্ম, দ্রব্যোৎপাদন, ক্রয়বিক্রয় বাণিজ্য প্রত্যেক ক্ষেত্রে সমবায়ের প্রচলন বৈষগ্রিক জীবন অর্থের অনৈকাকে শ্বীকার করিয়া এবং অর্থের অত্যাচারকে নিবারণ করিয়া একই সঙ্গে ইউরোপীয় সমাজতন্ত্রবার্দের আশা পুরণ মামুলী ধর্ম্বিজ্ঞানের আশঙ্কা দূর করিবে। সকল ক্ষেত্রে সমুহ- গুলি নৃতন বুগ্বের নৃতন অভাব পূরণের উপযোগী হইবে। সমাজ-বাবস্থায় সমূহগুলির সমবায়ে তাহাদের অবাধ পুষ্টিসাধনের সুযোগলাভ, এবং শাসন শোষণের সুযোগ হইতে বঞ্চিত হওয়। যেমন সমাজের সর্বাঙ্গীন উন্নতির সহায় পরিচায়ক, তেমনি ব্যক্কি-মানবেরও ব্যক্তিত্বের পরিপূর্ণ বিকাশ বিস্তৃতি চন! করে।

হিন্দুর সর্ক্বেশ্বরবাদ

ভারতবর্ষের সমূহ-তন্ত্রের সত্য সতাই বিশিষ্টতা এই যে, ইউরোপীয় সমাজক্ষেত্রের রাষ্ট্র অথবা শিক্পানুষ্ঠানের মত কোন একটি সমূহ সর্কেসর্কা হইয়া অন্য প্রাথমিক সমূহগুলির বা ব্যক্তির স্বাধীনত। নষ্ট করিয়া আপনাকে পুষ্ট করে না। প্রত্যেক সমূহ স্বাধীনভাবে পূর্ণ বিকাশের স্থযোগ পায় এবং ব্যক্তি মকল সমূহের জীবনের মধ্যে আপনার জীবন বিসর্জন করিয়া স্বীক়্ বাক্তিত্বের বিস্তৃতি পরিণতি সাধন করে।

অন্তজ্জীবনে হিন্দু কখনও একটা শৃন্ত বস্ততত্ত্হীন একেশ্বর বাদকে প্রশ্রয় দেয় নাই। হিন্দুর একেশ্বরবাদ বুকে ত্যাগ করিয়া নহে, বুকে আশ্রয় করিয়া প্রকৃতির বিচিত্র খণ্ডরূপে, মানবজীবনের বিচিত্র সম্বন্ধে

যুগধর্ঘাবিকাশে নব্য-হিন্দত্ ১৭৩

সেই একেরই প্রকাশ হিন্দু অনুভব করিয়াছে। সমাজজীবনেও তেমনি হিন্দু একমাত্র সর্কেসর্বা সর্বভূক্‌ প্রতিষ্ঠানের স্থষ্ট করে নাই। নানা বিচিত্র প্রাথমিক সমূহের স্বাধীনতা গৌরব হিন্দুসমাজে অক্ষুন্ন আছে, হিন্দুর সমূহতন্ত্র সমাজগঠনে সেই এক রীতিরই প্রকাশ, যাহা অস্তজ্জীবনে বেদাস্ত- বাদে বৈষ্ণব বা তান্ত্রিক লীলাতত্বে প্রকৃতির বা মানবজীবনের বিচিত্র খেলায় সেই একেরই লীলা দেখিয়াছে। হিন্দু ভগবানের বিশ্বরূপ দেখিয়াছে বলিরাই সে রূপেও ভতগ্বানকে দেখিয়াছে। তথাকথিত একেশ্বরবাদীর ভগবদুপলব্ধি বস্ততন্ত্রহীন বলিয়া সে ভগবানের অনন্ত রূপও দেখিতে পায় না, খণ্ড রূপও পায়না ভারতের “বন্স্তাম” সেই অমোঘ- বাণী হিন্দুর সমাজব্যবস্থায় বন্থসমূহের সৃষ্টি বিকাশে দেখা গিয়াছে। অধ্যাত্ম জীবনে হিন্দু থণ্তরূপ হইতে বিভিন্ন সাধনমার্গের দ্বার! অনন্ত বিশ্বরূপে পধ্যাযক্রমে পৌছায়, তেমনি সমাজ জীবনেও বিভিন্ন সমূহের ভিতর দিয়া আপনার ব্যক্তিত্বের এক একটি দিক্‌ ফুটাইয়া তুলিতে তুলিতে সে বিশ্বজীবন উপলব্ধির প্রয়্াসা।

- সমূহ-তন্ত

সমাজক্ষেত্রে বিশ্ববস্র ভ্ান বাক্তির নিকট সহজে সতাভাবে পৌছিয়! দিবার জনা, ব্যক্তির সহিত বিশ্বের বস্ততন্্ব যোগাযোগ স্থাপনের জন্য হিন্দুসমাজপরিবার, জাতি, সম্প্রদায়, গোষ্ঠী, গোত্র প্রড়ৃতি নানাবিধ সমূহ বা মাধ্যমিক প্রতিষ্টানের স্থ্টি করিয়াছে। পরম্পরের সমবায়ে সমাজ- জীবনের পূর্ণতা মাধন ব্যক্তিত্বের চরম উন্নতি। ব্যক্তি সমাজের এক একটি সমূহের ভিতর দিয়া আপনার ব্যক্তিত্ব বিকাশের সুযোগ