ঠতা।

্রীত্ব্ণকৃমারী দেবী প্রণীত। চতুর্থ সংস্করণ।

কলিকাতা! | . অপার সার্ক্যুলার রোড, কাঁশিয়া বাগান বাগানবাটাতে “ভারতী-যন্ত্ে” উতারিলীচরণ বিশ্বাস দারা মুখ্রত প্রকাশিত।

১৩০ মাম পে মাস।

ভাই বোনকে গুধু এই হানি খুসি, কাটি দিবে জীবনের জুদীর্ঘ বেলা? শুধু এই হাহাকার,

শুধু অশ্র-বাথা_ হৃদয়ের আঁখি-পাতে রছিবে কি গাথ!? কিছুই নাহি কি আর, প্রাণ ধাহা যাঁচে 2 পরাণের কাছে।

শশী

সচীগন্র।

বিয়য় |

১। মনুষ্য জীবনের উদ্দেষ্ঠা . টু নু , ১৮ 2 রি ৩। ট্টভ কাজের সুযোগ হারাইও না". 4 ১47 প্রভাত . $ 7 + টি রি ৫| নুবুদ্ধির উপদেশ ১.৮ ৬। শান্তিনিকেতন . * রর ১৪ ৭) বীরেন সিংহের রত্ব জাত রর ,১৫ ৮) দ্বিপ্রহর , টু , টু ৯। সঙ্গদোষ ২১ ১০ ঝটিকা . , ন্‌ তত ১১। সত্য 5 ঠা & ৩৪ ১২। বাগানেতে খেলা ? ৩৮ ১৩। ক্ষমা রঃ £ ,.:৪০ ১৪। শিশুহরি . রঃ 3৫ ১৫। সার ৪৬ ১৬। বেনের ভালবাসা . ১৪ ৫১ ১৭। শ্বাস্থা . ৫২ ১৮, বিশুদ্ধ জল বাতা. ৫৪ ১৯1 পরিক্ষার পরিচ্ছন্নতা) . ৫৬ ২৭। খাদ্য নর ৫৮ ২১। ব্যায়াম রী , ৬৪ ২২। সন্ধ্যা টু নু টু রী এও ২৩। কৃতজ্ঞতু] ন্‌ রর *.:৭৪

২৪। আশা * * , +

০০৭ “গন্য” স্বাস্থ সম্বন্ধে যাহা লেখা হইয়াছে কাহ্েল মেডিঃ

কেল স্কুলের অধ্যাপক ডাক্তার শ্রীযুক্ত দেবেন্্রনাথ রা এবং ডাক্তার ব্রজেন্্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় তাহ! পড়িয়া বালঝবালিকার গাঠোপযোগী এবং বিজ্ঞান-সঙ্গত বলিয়াছেন। ইহাদের দম্বন্থীর পত্র ছুইখানি নিয়ে উদ্ধৃত করিয়া দিলাম। /

দেবের বাবুর গত্র

স্বাস্থ্য সম্বন্ধে আপনি যে প্রবন্ধটি লিখিয়াছেন তাহা 'অতি সুললিত প্রাঞ্জল ভাষায় লেখা হইয়াছে, আর তাহীতে যে বিষ গুলি বিবৃত হইয়াছে তাহা আধুনিক “ছ্লাইজিন” শাস্ত্রের সম্পূর্ণ. অন্ুমোদিত।”

ব্রজেন্ত্র বাধুর পত্র

“আমি আপনার পুস্তকের প্রুফ পাঠ করিয়! কোন পরিবর্তন বাসংশোধন আবপ্তক বিবেচনা করি না। আপনার ভাষা, যেরূপ স্ুনূর প্রাঞ্জল তাহা প্রায় অন্য গ্রন্থে দেখা যাঁয় না। পুস্তক- খানি যে স্ুপার্ত মনোরঞ্তক হইয়াছে তাহাতে বিন্দুমাত্র সংশয় নাই”

বেখুন স্কুলের সংস্কৃত অধ্যাপক পণ্ডিত শ্রীমুক্ত চন্ত্রমোহন ভট্টাচার্য্য এই পুস্তকের গ্রফ সংশোধন করিয়া! যথেষ্ট উপকার করিয়াছেন।

এই পুস্তকের দ্বিতীয়, সপ্তম, অষ্টম এই তিনটি গল্প মী হিরগনয়ী দেবীর লেখা।

গিপ্গন্ষপ্প।

মনুষ্য জীবনের উদ্দেশ্ঠ।

আমরা সকলেই জানি মনুষ্য পণ্ড হইতে শ্রেষ্ট। কিন্তু ভাবিয়া দেখ-কিসে? পণ্ুরও শরীর আছে, মান্ুষেরও শরীর আছে) মনুষ্যের আকার গঞ্জ হইতে ভিন্ন টে, কিন্তু আকারের গরভেদেই যে, কেহ শ্রেষ্ঠ হয় তাহা নহে। পশুদিগেরও সকলের ভিন্ন ভিন্ন আকার। মনুষ্যের স্যায় পণুদিগেরও ক্ষুধা, তৃষ্ণা, ক্রোধ, দ্বেষ, ন্নেহ, তাঁলবাঁসা আছে, এমন কি জস্দিগের মধ্যে বুদ্ধিরও পরিচয় পাওয়া যায়। তবে মানুষকে পণ্ড অগেক্ষা শ্রেষ্ঠ বলা যাঁয় কেন? মান্গষের এমন কতকগুলি গুণ আষ্ে, যাহা পশুতে পাওয়া যাঁয় না সেই খুণেই মানুষ বড়। পশুর যদিও বুদ্ধি আছে, কিন্ত মানুষের ন্তায় উচ্চ বুদ্ধি নাই, চিস্তা-শক্তি নাই ঃমান্ুষের মত ধর্ম ভাঁব* নাই 1 চিন্তাবলে, বুদ্ধিবলে মানুষ ভাল হইতে মন্দের গ্রতেদ বুঝিতেছে, কল কৌশল উদ্ভাবন করিতেছে, পৃথিবীতে বসিয়া সুযৌর সংবঠ& আনিতেছে। ধর্মের ভাব আছে বলিয়! মানুষ ঈশ্বরান্ুরাগী হইতেছে, কুপ্রবৃত্তিকে দমন করিতেছে এবং সমস্ত জগত্বাদ্রীকে মেই এক জগৎপিতীর সক্সান জ্ঞানে পরোপ- কারে রত হইতেছে, অন্তের মঙ্গলে নিজের মন্্ন জ্ঞান করিয়া নিযস্বার্থতার কাছে স্বার্থ জলার্জলি দিতেছে। এই সকল গুণের জন্যই মানুষ পণ্ড হইতে শ্রেষ্ট কিন্তু যাহার মকল গুণ বিক- শিত হয" নাই, যে অজ্ঞান,_যাার *ইর্শভাব নাই, পণ্ডর সহিত ভার বিশেষ গ্রভেদ নাই। ুতরাং*কেবল মান্ুষের*্শরীর

(২) হইলেই মানুষ হওয়া যায় না) জান- ধর্মে যে উন্নতি লাভ করি- য়াছে সেই প্রকৃত মনুষ্য। আহীর বিহার করিয়া পপ্তর মত জীবন ধারণ করাই মনুষ্য জীবনের উদ্দেস্ত নহে, মনুষ্য লা করিতে চেষ্টা করাই মনুষ্য জীবনের উদদেস্ত।

তুমি যদি মনুষ্য হইতে চাঁও তবে জ্ঞানের অনুশীলন কর) ক্ষমা, করুণা, সত্যান্থ্রাগ গ্রতৃতি মন্ুযর অন্তর নিহিত দদ্‌গুপ সকলের বিকাশ ক্রোধ দ্বেষ লোভ গ্রভৃতি পাঁশব প্রবৃত্তি নকলের ন্যাধ্য দমন দ্বার! যথার্থ মনুষ্য হও। ইশ্বর, যিনি আমা- দের পিতা মাতা স্ষ্টিকর্তা, ইহাই তাহার আদেশ, ইহাই তাঁহার প্রি কার্য আমাদের মঙ্গলের জন্যই তিনি আমাদিগকে তাহার এই আজ্জা পালন করিতে বলেন। তাহার এই আজ্ঞার নামই ধর্শনীতি। মনুষ্য অভিজ্ঞতা দ্বারা দেখিতে পায় এই নীতি ধাহারা পাঁলন করিয়া চলেন ত্ীহারা.যথার্থ বড় লোক, তাহারাই সহান্থা) আর যাচ্ছ ইহা অগান্ত করিয়া চলে তাহারা মন্তয্য নামের অযোগ্য

অন্তায় কর্ম করিতে যাহার তা নাম গ্রহণ করিলেও সে ঈশ্বরানরাগী নহে।* যে ঈশ্বরের প্রির কারা নাধন করে সেই যথার্থ দাঁধক। ঈশ্বর তোমাকে মানুষ করিয়া গড়িয়াছেন, তাহার প্রিয় কার্য সাধন দ্বাঝ অর্থাৎ শুভ কার্য্যের অনুষ্ঠান এবং অন্ঠায়াচরণ পরিত্যাগ পূর্বক তাহার প্রতি অনুরাগী হইয়া তোমার জীবনের উদ্দেশ্ত মফল কর। ইহাতেই তুমি যথার্থ সুখ শান্তি লাভ করিবে।

মাতার আশীর্ববাদ।

ঠোঁটের পুর হাসি যেন চির ফুটে, মুখের সরলতা যেন নাহি টুটে।

প্রাণের পবিত্রতা শুভ্র নিরমল,

করে যেন ব্যথিতের হৃদয় উজল। অঞ্রজল বহে যদি, বহে যেন তবে সাস্তনা দিবার তরে দীন হন সবে। প্রাণের বাসনা! ইহা--শুধু কথা নয়, মঙ্গল আশীষ এই শুভ আলোময়।

: ভুলে যদি যেতে চাঁও ভুলো কথা গুলি, ভোল যদি কে বলেছে তাও যেও ভুলি। আলোক শুধু যেন আঁখিপথে থাকে, পাপ তাপ হতে তোমা দুরে দূরে রাখে !

(৪) রন,

গুতকার্ধ্ের স্থযোগ হারাইও না।

দ্যানি অনবদ্যানি অনিন্দিতানি কর্দাদি তানি মেবিতব্যানি নো ইতরাণি নি্দিতানি কর্তব্যানি।”

বলযাণকর যে সকল কর্দ তাহার অনুষ্ঠান করিবেক, অকন্যাণকর কর্মের নুষ্ঠান করিবেক ন|।

আজ রমেশের ছুটি। ছুটি পাইয়া! রমেশের বড়ই আনন্দ হইয়াছে। সারাদিন কত রকম খেলা করিবে তাহাই ভাবি- তেছে। এমন সময় রমেশের মা বলিলেন, “রমেশ, আজ তোমার কোন কাঁজ নাই, আমার ঘরে বইগুলি বড় বিশৃঙ্খল হইয়া আছে, যদি তুমি সেই খুলি গুছাইয়। ঘরটি পরিষ্কার কর, তবে আমার কাজের একটু স্থবিধা হয়”

এই কথা শুনিয়া রমেশ বড়ই বিরত হইয়া ভাবিল, “ভাইত! খেল ধুলা ছাড়িয়া আমি এখন মায়ের কান করিতে যাই!”

রমেশ মায়ের কথা না শুনিয়া খেলা করিতে চলিয়! 'গেল। খানিক দূর গিয়া বন্দর পুকুর ধারে নুষমাকে দেখিতে গাইল, জুষমাকে তাহার নিতান্ত বিষ বলিয়৷ মনে হইল। সুষমা বমেশের পিতৃব্যকন্তা তাহাকে রমেশ বড় ভাল বাসে, সুতরাং

তাঁহাকে বিষ দেখিয়া নিকটে আঘিয়া জিজ্ঞাসা করিল- “সুষমা

কি হইয়াছে? অমন চুপ করিয়া বষিয়া আছিস যে?” বালিকা বিষগভাবে বলিল--“আমার একটি জিনিস হারাইয়া গিয়াছে ? 7 রা রমেশ. কি জিনিস? ব্লনা-_আমি খুজি দিই। স্ু। মা বলিয়াছেন_দে জিনিস একবার হারাইবে আর

/

(৫)

খুঁজয়া পাওয়া যায় না তার প্রতি সর্বদাই নজর রাখিতে হয়।”

উভয়ের এইরূপ কথাবার্থা হইতেছে এমন সময় স্বরে

বলিল-_-“কি রমেশ, কি কথা হইতেছে?”

রমেশ সে কথায় কাণ না দিয়া একটু বিরক্তির ভাবে বালি- কাকে হঙগিল--ুমি হাজার কথা না বলা কি শু িদিদের নামটি বলিতে পার না?৯ |

বালিকা একটু থতমত খাইয়া বলিল, “আমি "সুযোগ হারাইয়াছি।” স্থরেন্র এই কথা শুনিয়া হাসিয়া বলিল, “হা হাঁ হাঁ-_বাস্ত-

বিক জ্ুযোগ হারান বড় কষ্ট। আমি কিন্তু সে বিষয়ে বড়ই সাবধান। আজ সকালে আমার পড়া হয় নাই বিয়া ছুপরু বেলা বাবা আমাকে পড়িতে বলিলেন, বাব! যতক্ষণ বাড়ীতে ছিলেন ততক্ষণ কাজেকাজেই গড়িতে হইল। কিন্তু যেই বাবা বাহিরে গিয়াছেন অমনি আমি পলাইয়া আদিয়াছি_ এমন স্থযোগ আমি হারাই !”

সুষমা বলিল, “এ বুঝি সুযোগ ! মন্দ কাছ করিতে যে সময় পাওয়া যায় মা তাকে “কুযোগ” বলেন। সেত হারানই তাল। তুমি যে তোমার বাবার কথা শুনিলে না তুমিও একটি জ্যোগ হারাইলে--তবে আবার অত জীক করিতেছ কেন?”

স্ঘমার কথ! রমেশেরও বড় ভাল লাঙ্গল না--কারপ'সেও মায়ের কথা শোনে নাই। বলিল, "ও কথা যাক, তুমি 'কিসের সুযোগ হারাইয়াছ?

বার্মা বিল, সামি যে দিনার বাড়ী গিলাছিলম, দেদিন দিদিমা আমাকে. একটি টাকা দিয়াছিলেন। মাত্রা দে বলিলেন, 'আরে স্ুুষি, তুই টাবাপেয়েছিন,” বেশ!

(৬)

ইহাতে 'কতকাঁজ হয়, কত গরীব ছুঃশীর উপকার করাঘায়, এমন সুযোগ যেন হারাস নে।' কিন্তু খানিক বাদেই আমি সেই টাকাটি দিয়া একটি মোমের পুতুল কিনিয়া ফেলিলাম। এখনি.একজন ভিক্ষুক আমার কাছে ভিক্ষা চাহিতে আসিয়াছিল। আহা বেচারা সমস্ত দিন কিছুই খায় নাই। আমি যদি সে টাকা হইতে-তাহাকে কিছু পর্নসাও দিতে ,পারিতাম তাহার কত খাবার হইত-_কিন্তৃ"্আমি সে স্থুযৌগ হারাইয়াছি।”

এই বলিয়া! বালিকা কাদ কাদ হইল। রমেশ আর থাকিতে গাঁরিল না, অনুতপ্ত হৃদয়ে বলিল,*পস্থষমা, আমিও আজ একটি নুধোগ হারাইয়াছি; আমি আজ মায়ের কাজ করিতে পারি- 'তাম__তাহা করি নাই

মা বলিল, “তবে দেখিতেছি . আমরা শু স্থযোগ হারাইয়াছি। কেবল স্থরেন্্ই লা করিয়াছে”

ইহা শুনিয়া স্থরেন্্র একটু লজ্জিত হইয়া! বলিল, “মা, আমাকে ক্ষমা কর। এখন আমি বুঝিতেছি আমিও আুঁঘোগ হারাইয়াছি। আমি পিতাকে -সম্ব্ট করিতে গারিভাম ভাহা করি নাই, নিজের বিদ্যাশিক্ষায় সময় দিতে পারিতাম তাহা দিই নাই, আমি তোমাদের সকলের অপেক্ষা অধিক হারাইয়াছি।”

সুরেন্্ অন্ৃতপ্ত ইয়া ভবিধ্যতে সুযোগের সদ্যবহার করিবে বলিয়! মন্কল্প করিল। সুষমা নিজে সুযোগ হারাইয়া এতক্ষণ যদিও বিষ হইয়া পড়িয়াছিল_কিন্তু অন্য ছুই জনকে তাহীর- কথার জ্ঞান লাভ করিতে (দেখিয়া তাহারও যে কষ্ট প্রধিকক্ষণ রহিল না। -

গ্রভাত।

অরুণ-মুকুট শিরে, অধরে উ্ার-হাঁসি,

পদতলে ফুটে ওঠে শত শত ফুলরাশি !

শুভ্র পরিমল-বাঁসে উথলিত তনুখানি,

ধরায় চরণদান“করিছে প্রভাতরাণী !

আননের কোলাহলে চারিদিক নিমগন,

পাখী গায় আগমনী, হাসে বন উপবন। কম্পিত মরসী হিয়া, মৃদু ঝুরু ঝুরু বায়,

কমল কোমল আঁখি সুধীরে খুলিয়া চায়। 'উপকূলে থরে থরে বামুভল্প ছুলি ছুলি

হরষে সরসে মুখ দেখিতেছে তরুগুলি।

. এসেছে তুলিতে ফুল বালিকা সাঁজিটি হাতে, ভূলে গেছে ফুল তোলা চেয়ে আছে নভ-পাতে। শুত্র অভ্র জ্যোতির্ময়,অরুণ কিরণ মাখা, পাহিয়া উড়িছে পাখী বিছাঁয়ে পেলব পাখা বাঁলিক! দেখিছে চেয়ে, ফুল তোল! গেছে ভুলে, প্রতিধ্বনি গাহিতেছে সগ্ধমে লহরু! তুল্.। কোমল, অমৃত সুরে বিভূ নামে উঠে তান। প্রভাত আনন্দ-মগ্ন সে গীত করিয়ে পান!

( ৮)

বুদ্ধির উপদেশ

যস্ত নিঃশ্রেয়সং বাক্যং মোহান্ন প্রতিপদ্যতে। দীর্ঘসৃত্রো হীনার্ঘঃ পশ্চাত্তপেন যুজাতে। | যেব্যক্তি মোহহেতু হিতবাক্য গ্রহণ না কনে সে দীর্ঘসৃত্রী হইয়া! মুয্যতব হইতে ষ্ট হয় এবং পশ্চাৎ সন্তপে পতিত হয়।

মন্ুয্যের ছুইরূপ বুদ্ধি আছে বুদ্ধি 'ও কুবুদ্ধি। যে বুদ্ধি আর্মাদিগকে গুভ কর্মে উত্তেজিত অন্ঠায় কর্ণ হইতে বিরত যাখে তাহাই স্ববুদ্ধি, আর যে বুদ্ধির দ্বারা আমরা অন্যায় কাজ করি তাহাই কুবুদ্ধি। কুনুদ্ধির পরামর্শ শুনিয়া চলিলে তুমি পণ্ডর মত হইয়া পড়িবে, স্ুবুদ্ধির পরামর্শ শুনিলে তোমার ধর্ম- ভাব ফুটিয়া উঠিবে, তুমি মনুষ্যত্ব লাভ করিবে। স্থৃতরাং সাব- ধানে কুবুদ্ধিকে পরিত্যাগ করিয়া স্ুবুদ্ধির অনুমরণ করিও।

একটি সুন্দর বাগানে লাবণ্য বসিয়া আছে। চারিদিকে কত রকম ফুল ফুটিয়াছে, কত ফোয়ারা! ছুটিতেছে, স্থন্দর সুন্দর পাথরের তুর মাজান রহিয়াছে। কিন্তু লাবণ্যর দে দব কোন দিকেই মন নাই, তাহার হাতের একটি পুতুল লইয়াই সে ব্য্ত। মে কখনও তাঁহাকে কাপড় পরাইতেছে, কখনও আদর করি- তেছে, কখনও তাহার সহিত কথা কহিতেছে। এমন সময় সহসা যেন আকাশের একটা দিক অত্যন্ত লাল হইয়া উঠিল।' লাবণ্য আশ্চর্য হইয়া সেই দিকে. চাহিল অমনি লাল মেঘের মধ্য হইতে যেন একটি পরী নামিয়! আঁসয়া তাহার কাছে দীড়াইলেন।

(৯)

লাবণ্য * আরও আশ্চু্য হইয়া স্থিরদৃষ্টে পরীর মুখের প্রতি চাহিয়া! রহিল। ক্রমে তাহার চক্ষে সকলি মিলাইয়া যাইতে

গল, গাই পাঁতী, ফুল, ফোয়ারা, সকলি মিলাইয়া গেল, পৃথিবী আকাশ সমস্ত সরিয়া পড়িল )-_কেবল সেই পরীর প্রতিমাখানি ভিন্ন আর কিছুই সে দেখিতে পাইল না। কিন্তু আবার কি? পরীমৃত্তিও যে অদৃশ্ত হই! পড়িল! তখন তাহার আবার চমক তাঙ্গিল, সবিশ্বয়ে সে চারিদিকে চাহিয়া দেখিল,__সে পরী নাই, সে বাগান নাই-_সে কিছুই আর নাই, তাহ! অপেক্ষা উৎরুষ্টতর আর একটি বাগানে সে একাকী আসিয়া পড়িয়াছে। কি.চমখ- কার বাগান! এমন বার্গীন সে জন্মে কখনও দেখে নাই। কি নন্দন কানন? দিদিমার কাছে লাবণ্য স্বর্গের যে নন্দন কান- নের গল্প শুনিয়াছে, কি সেই কাঁনন! বাগান আলো! করিয়া গান্ছে গাছে কি সুন্দর ফুলফুটিয়া আছে! গুলি কি গারিজাত? অমন চমতকার ফুল লাবণ্য জীবনে কখনো দেখে নাই ! কি শোন্ডা! কি সুবাস! সরোবর তীরে আবার ক্রিরূপ বন? যে ফুলের বন? ফুলে ফুলে দর্জে দলে ঘেঁসাঘেষি করিয়। মিলিয়। মিশিয়া এঁক হইয়া রহিয়াছে! এত ফুল ওখানে কে ফুটাইল? সরোবরের পন্নপত্রে রাঙ্গ! পাখীগুলি__কি পাখী? ময়ূর না হাস? না উহারা মযুরও নহে_হীসও গৃহে, উহারা যে গান করিতেছে! কি মধুর সঙ্গীত কাননের কোকিল' এমন স্বদার দেখিতে! তাহারা পম্মপত্রে ভানিয়া গান গাহিয়া বেড়ায়! নাবণা টুল্লাসে উৎুল্ হইয়া পুতুলটিকে বন্ধে লইয়া বাগানে ঘুরিযা বেড়াইতে লাগিল। বেড়াইতে (বড়াহীতে দেখিলু বাগানের এই নান) রকঙ সুগন্ধ সুৃষ্ত অপরিচিত পুশ একা একট

* ঠা ০2

১৯) টা

গোলাপের গাছ, সেই গাছে একটি স্বন্দর প্রন্ফটিত গোলাপ লাবণ্য মেই গোলাপটি তুলিতে হাত বাড়াইল ! এই সময় সহসা কোথা হইতে পূর্বেকার পরীটি আসিয়া! বলিলেন, “ইহা তুও না, দেখ কত ধৈরধ্য ফুল ফুটিয়া রহিয়াছে__উহার একটি তোল, গোলাপ অপেক্ষা দেখ ফুলগুলি কত সুনার। গোলাপ তু তোমাদের বাগানে অনেক আছে। , ধৈর্ধাফুল একটি তুলিয়া লইয়া যাও, উহা! মর্ত্যলোকে পাইবে না, ফুল তোমাদের বাগানে রাখিলে বাগান শোভা করিয়া চিরদিন নবীন ভাবে ফুটিয়! থাকিবে। উহা নন্দন কাননের ফুল, পৃথিবীর ফুলের মত শুকা- ইয়া যায় না। আর গোলাপের গাছ পৃথিবী হইতে আনিয়া কাননে রোপণ কর! হইয়াছে, তুলিতে না! তুলিতে শুকাইবে ।+ কিন্তু লাবণ্য তখন গেৌঁলাপ তুলিতে হাত বাড়াইয়াছে__ হাতের ফুল ফেলিয়া কে আবার তখন দূরে যায়, সে বলিল__ “অত দূরে আমি আর যাইতে পারি না”-_-বলিয়া তাড়াতাড়ি গোলাপটি ছিড়িয়া লইল,__তীঁড়াতাড়িতে গোলাপের কাঁটায় বিধিয়! তাহার হাত হইতে বিন্দু িপ্দু রক্ত পড়িতে লাগিল, তখন সে গোলাপটি ফেলিয়া দিয়া কাদিতে আরম্ভ করিল। ' পরী বলি- লেন “দেখ আমার কথা শুনিলে তোমাকে এই কষ্টভোগ করিতে হইতনাতী যে ধৈর্ম্যফুল দেখিতেছ উহার কীটা নাই। ভাল কথা না শুনিয়া কাঁজ করিলে দেখ কি রূপ বিপদে.পড়িতে হয--৮ .. পরীর এই উপদেশে লাবণ্য আরো! রাগিয়া গেল, সে কাহারে! উপদেশ শুনিতে ভাল বাদিত না। লাবণ্য রাগ করিয়! সেখান হইতে, চলিয়া গেরী। ফিছু দূর গিয়া. একবার ফিরিয়া, দেখল-ূ্র বাগানের আর চিত নাই, তাহা হইতে আনেক

63১১)

দূরে সে টলিযা আসিয়াছে তাহার বড়:কষ্ট হইল এই সময় মে নিকট দিয়া একটি বালককে চলিয়া যাইতে দেখিয়া বলিল “ভাই, খৃ এত৭ বড় একটি কু বাগানে খেল! করিতেছিলাম__ রাগ করিয়া চলিয়া আসিয়া ভাল করি নাই, আমাকে গথ দেখাইয়া! সেখানে আবাঁর লইয়া যাইতে পার ?” বালক বলিল “আমানের এখানে কোন বাগান নাই_- কোথায় লইয়। যাইব?” বালিকা আবার রাগ করিয়া বঙ্িল “নাই বই কি? আমি এই মাত্র সেখান হইতে আঁসিতেছি। সেখানে ফুল তুলিতে গিয়া এই দেখ আমার হাতে কাটা বিধিয়া গিয়াছে”. বালক বলিল--“পরী তৌমাকে এত বারণ করিলেন, তু কেন ফুল তুলিতে গেলে? তিনি ত'তোমার ভালর জন্তই বারণ করিয়াছিলেন, তাহার কথা শুনিলেই না__আবার রাগ করিয়া. চলিয়া আসিলে__এ জন্য তোমার নিতান্ত লজ্জা পাওয়া উচিত ।” কষিত্ত লঙ্দিত হইবার পরিবর্তে লাবণ্য তাহার কথায় কুদ্ধ বিরক্ত হা সেখান হইতে চলিয়া গেল। পঞ্থে তাহার আর একটি বালিকার সহিত সাক্ষাৎ হইল-_বালিকা তাহার হাতের ' পুতুলটি দেখিয়া সিজ্াসা করিল_-“ভাই তোমার হাতে ওটিকি?” লাবণ্য বলিল__“আমার পুতুল” & বা। ওটি আমাকে দিবে? লা। না। বাণিকা বলিল--না বই কি” বলিয়া জোর করিয়া লাব- পরার হাত হইত" তুলি কাধ ইল, লা নহারজোরে াক্টি না পুতি হারাই তাহার বড় ইষ্ট গুইা-সে য়

(১২)

ফেলিল। চকু দিয়া জল গড়িবা মাত্র অমনি তাহার আঁর একটি ঘটনা মনে গড়িয়া! গেল, এতক্ষণ সে কথা এক মুহূর্তের জন্যও তাহার মনে হয নাই। লাবখোযরমনে পড়িল-_পতুলটি তাহ নহে, তাহার ছোট বোন মালতীর। মালতী প্রথম ভাগ শেষ করিয়াছে তাই মা আহ্লাদ করিয়া এই পুডুলটি আজ সকালে তাহাকে পুরফ্ার দিয়াছেন। লাবণ্য তাহা দেখিয়া মায়ের কাছে তখনি পুতুল চাহে_মাঁ বলেন_“বাছ। তোমাকেও আমি তোঁমার প্রথম ভাগ শেষ হইলে এইরূপ একটি পুতুল দিয়াঙ্ছি। আঁবার দ্বিতীয় ভাগ শেষ হইলে আর একটি দিব, তুমি যন করিয়া বইখানি শেষ কর দেখি”

কিন্তু দ্বিতীয় ভাগ শেষ করা পর্য্যন্ত অতদিন ধৈর্য সহকারে পুতুলের জন্য অপেক্ষা করা লাবণ্যের কাজ নহে) সে সেইদিনই জোঁর করিয়া মালতীর পৃতুলটি কাঁড়িয়া লইল। বেচারা মালতী তাঁহার সহিত পারিল না, কাদিয়া নিরস্ত হইল। লাবণ্য আরো বলিল-_“্যদি মাকে কথা বলিষ্‌ তোকে মারিব।” মালতী তাঁই ভয়ে ভয়েসে কথা মাঁকেও বলিল না।

সকালের এই:ঘটনা এখন লাবণ্যের সমস্ত মনে গাঁ়ীয়া গেল। পুতুল কাড়িয়া লওয়ায় মালতীর কৃত কষ্ট হইয়]ছিল লাবণ্য তাহা এখন বুঝিতে পাটিল, তাহার বড়ই অনুতাপ হইতে লাগিল, : পুতুর্টটি বোনকে ফিরাইয়া দিতে সে ব্যগ্র হইয়া উঠিল__কিন্ত পৃতুর্লটি এখন মে কোথায় পাইবে--তাহা আর এখন লাবণ্যের নহে, আর একজন কাড়িয়া লইয়াছে। এই মময় দেই পরী লট হালে করিয়া ভাহার নিট আসি দীডাইবেন। লাবপা তখন ফদিতে কীদির্তেপরীর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করিয়া বোনকে

সি,

টি, ফিরাইা দিবার ইচ্ছায় তাহার নিকট তাহা চহিয় নইন। 75595 কৌধায় বা গরী কোথায় বা বাগান, পুতুলটিকে কোনে করিয়া যেধানে দে ইয়া গড়িয়াছির--সেইখানেই শুইয়া আছে। লাবগা জাগিযা তাড়াতাড়ি উঠিল, উন! গতুনটি নই তখনি মানতীকে ফিরাইয়া দিল, এবং সেই গর্ত জার মে ভাই বোনকে কীদাইয়া তাহাদের কোন ধেলেনা গন্ধ লইত না, ধৈরযাদহকারে ভান সময়ের অন্য অপেক্ষা করিয়া থাকিত।

আমরা পূর্বেই বলিয়া, যে বুষ্ধি আমাদিগকে শুত কর্মে চালিত ন্তায় কর্ণ হইতে বিরত করে তাহাই স্ববদধি।

লাবণোর নুবুদধির উদ্রেক হওয়াতেই লাবণ্য এই স্বপ্ন দেক্লিছিন, এবং এই বুদ্ধির অনুমরণ করিয়াই লাবণ্য পরে ভাল হইল। নাবগার মত সকর্ণেরি সুবুদ্ধির মা করিয়া চঙ্গা কর্ব্য। *

(১৪) শান্তি নিকেতন

সঙ্গীত কি লুন্দর নিকেতন, নেহারিয়! পুর্ণ মন স্বত উচ্ছ,সিয়া উঠে, তোম! পানে, জগত-জীবন তোমারি মঙ্গল গাথা, গাহিছে প্রক্কৃতি হেথা, তোমারি মঙ্গল ভাব, পাতিয়াছে হেথায় আসন। তোমার শান্তির হাঁস, চারি দিকে পরকাঁশ, তাহারি বিমল ছায়ে, ঘুমাইছে ক্সিগ্ধ উপবন। যে দিকে ফিরাই আঁখি, শান্তির স্থুষমা দেখি, তোমার ন্নেহের ভাবে, অভিভূত হুদি প্রাণ মন। হেথায় প্রভেদ নাই, নভঃ পৃর্থী এক ঠাই তব প্রেমামৃত পিয়ে, আনন্দে করিতে আলিঙ্গন। সে প্রেম উছলি আসি, হৃদয় মন্দিরে পশি সঞ্চরে তাপিত প্রাণে, শ্ঁভূ ওহে নূতন জীবন সুরভি লহরী তুলি, বিজনে পরাণ খুলি, তোমারি মহিম! গায়, দিবস রজনী সমীরণ। চারি দিকে তরুলতা, হরষে নোয়ায়ে মাথা সমভাবে এক মনে, ধ্যেয়াইছে তোমারি চরণ। এমনি পুণ্য স্থান, সংশ্রবে পবিত্র প্রাণ, পৃথিবীর ছুঃখ জ্বালা, করে ভয়ে দূরে পলায়ন পিতু! গো আজি কে তাই, এসেছি এপ্পুপ্য ঠাই, জুড়াও তূপিত হৃদি, করি শাস্তি স্থধা বরিষণ।

(১৫)

বীরেন্ত্র সিংহের রত্ব লাভ।

সতামেব ব্রতং যন্ত দয়াদীনেষু সর্বদা কামক্রোধৌ বশে যন্ত তেন লোকত্রয়ং জিতম্‌।

তাই ধাহার ব্রত, সর্বদা! দীনে যীহার দয়া, কাম ক্রোধ যাহার বশীতৃত লোকব্রয় জয় করিতে তিনিই সমর্থ

₹সারে ধন একটি প্রধান প্রয়োজনীয় বন্তু। কেননা ধনে আমাদের অনেক অভাব মোচন হয়, ধন ব্যবহার করিতে জানিলে ইহা দ্বার! জগতের অনেক উপকার সাধিত হয়, সুতরাং নকলেরি ্তায়পথে থাকিয়া ধন উপার্জনে যদ্রবানি হওয়া উচিত। কিন্তু তাই বলিয়! যিনি মনে করেন ধনেই বড় লোক হওয়া যায়__ তিনি বড় ভূল বুঝেন। দেখ রাবণ কত বড় ধনী ছিলেন। তাহার লঙ্কাপুরী স্বর্ময়ী--দেবতাগর্ণ তাহার দাসত্ব করিতেন, কিন্ত তাহাকে কেহ বড় লোক মনে করে না। কেন করে না? আমরা পূর্বেই বলিয়াছি অন্ঠায় কর্মের পরিত্যাগেই লোকে যথার্থ বড়লোক হয়, অন্াঁয় কর্মা করিয়া! কেহ বড়লোক হয় না। রাঁবণ অধন্মাচারী ছিলেন সেইজন্য অতুল ব্য ক্ষমতার অধি- কারী হইয়াও তিনি বড় লোক নহেন। কথা কিন্ত রকলে বোঝে না; মনে করে ধনবান, ক্ষমতাবান হইলেই বড় লোক হওয়া যায়। পুরাকালে দাক্ষিণাত্যের এক রাজসভায় বীরেন সিংহ নামে এক রাজমন্ত্রী ছিলেন_-তিনিও ইহা! বুঝিতেন না। তাহার বড় লৌক হইবার বড় লাধ ছিল, তিনি মনে করিতেন রাজক্ষমত্তা, রাজধন পাইলেই তিনি বড় লোক হইবেন। এই লোভের বশবর্তীদ্ছইযা তিনি অর্ঠায় র্নক তাহাহ্রভুর সিংহা- সন ভ্যধিকার করিয় স্বয়ং রাজা হইলেন

(১৬)

বীরের সিংহ বড় মৃগয়াপ্রিয় ছিলেন এক দিন তান সৈন্ত- সভাসদগণের সহিত মুগয়ায় গমন করিলেন, সহস্র সহস্্ অশ্বপদদর্পে প্রান্তরপথ কম্পিত করিয়া মৃগয়াক্ষেত্রে আসি! উপনীত হইলেন। ক্ষেত্রের গ্রান্ত সীম! হইতে একটা হরিণশীবক ভয়-বিহ্বল-নেত্রে অশ্বীরোহীদিগের প্রতি একবার চাহিয়া দেখিয়া সহস! দ্রুতবেগে পলায়ন করিল, মহাবাজ সঙ্গিবর্গকে পশ্চাতে ফেলিয়! তাহার অনুসরণ করিলেন। -

বেলা দ্বিগ্রহর হইয়াছে, সুর্য্যের গ্রথর কিরণে চারিদিক বা ঝা করিতেছে, উত্তপ্ত বাযু আতে উত্তপ্ত ধূলিকণার তরঙ্গ উঠি- তেছে, চারিদিক নিস্তব/_ দিগন্ত-শূন্য বিশাল প্রান্তরে মৃগশিশুটি বিদ্যুতের মত এক একবার মহারাঁজকে দেখা দিয়া মাঝে মাঝে উন্নত অসমতৃমি, ক্ষুদ্র ঝৌপবাপ তুপস্তপের অন্তরালে আবার অনৃপ্ঠ হইয়া পড়িতেছে। আর লোক নাই আর পণ্ড নাই-- অগ্নিময় প্রান্তর যেন জীব-শৃন্ত। অতিরিক্ত পরিশ্রমে মহারাজের শরীর শ্রান্ত ক্লান্ত, মূগয়ার উৎসাহে তথাপি তিনি শ্রান্তি অগ্নুভব করিতেছেন না, অবিশ্রান্ত অবারিত বেশে মৃগের অনুসরণ করি- তেছেন। দেখিতে দেখিতে মৃগশিশুটা প্রান্তর ছাড়াইল, তিনিও প্রান্তর ছাড়াইলেন, মুগ এক অনিবিড় বন মধ্যে প্রবেশ করিল, তিনিও প্রবেশ করিলেন) বন মধ্যে একটা মনির, তথায়*মুগ- শিপু প্রাণপণ গতিতে আশ্রয় গ্রহণ করিল, রাজা! হতাশ হইয়া! মন্দিরের দ্বারে আসিয়! দীঁড়াইলেন, বুঝিলেন তাহা মন্দিরের গ্রতিপালিত মৃগ-_ সুতরাং অবধ্য।

নিরাশ আুব্সন্ন রাজা শাস্তি করিতে হরে আন গ্রহণ করিধধেন। পুরোহিতের আতিথ্য-সৎকারে গতম হইয়া কিম"

(১৭)

“ক্ষণ ক্র তিনি দেব, চরণে প্রণাম করিতে গমন করিলেন। অপরাহ্থের নিস্তেজ নুর্য্যরশ্মি মন্দির ভেদ করিয়া শিবমৃত্তি উজ্জল রিতে অক্ষম,-_শিবের গাত্রজড়িত একটি সর্পের মন্তকস্থিত ষ্র দীপালোকে তাহার মৃত্তি বিভাদিত দেখিলেন। প্রণাম করিয়া উঠিবার সময় মহারাজের দৃষ্টি প্রদীপে আ্ষ্ট হইল--কি আশ্চর্য! দেখিলেন প্রশন্প তৈলশূন্য অথচ তাহার সমুজ্জল দী্তির কিছুমাত্র হা নাই। মহারাজকে বিস্মিত দেখিয়া পুরো হিত বলিলেন “মহারাজ বিস্মিত হইবেন না, ইহার নাম ইচ্ছাদীপ্ত প্রদীপ। এই প্রদীপের নিম্ন ভূমিতে মহাদেব একটি দেবরত্ব রাখিয়া ইহা জালাইয়া রাখিয়াছেন। যদি কেহ এই রদ্বুটি গ্রহণ করিতে সমর্থ হয় তবেই এই প্রদীপ নিভিবে নতুবা! ইহার নির্বাণ নাই”। মহারাজ অতি আগ্রহের সহিত জিজ্ঞ'সা করিলেন “সে রত্টি কি?” পুরোহিত বলিলেন “জগতের সার রত্ব। উহা লাভ করিলে মানুষের দেবত্ব হয়”। মহারাজের লোলুপ হৃদয় তাহা লাত করিতে উৎস্থক হইল) তিনি বলিলেন “উহা কিনধপে লাভ কর! যায়? পুরোহিত বলিলেন “ইছ! লাভ করিতে হইলে পৃথিবীজয়ী হইতে হইবে, পৃথিবীজয়ী না হইলে লাভের আশা বৃথা |” মহারাজ তাহা লাভ করিতে কৃতসঙ্কল্প হইলেন। যাইবার ঈময় পুরোহিত তাহার হস্তে একটা কুশাঙুষ্ঠুীয় পরাইয়! তাহাতে দেবপ্রদীপের কালী মাখাইয়া বলিলেন “যে দিন দেখিবে এই কালীর দাগ মুছিয়া গিয়াছে সেই দিন বুবিও তুমিও পৃথিবীজয়ী হইয়া এইু রদ্ধ লাভের অধিকারী হইয়াছ-_দীপ নিভিয়াছে।” রাজা বাড়ী, ফিরিয়া আঙ্িলেন' *দিখিজয়ের সমস্ত বন্দবস্ত হইল মহাব্লাজ দিশ্বিজয়ে গমন করিলেন তখন গার

(১৮)

জয় করিতে গারিলেই আপনাকে পৃথিবীজয়ী জ্ঞান করিতেন। বীরেন্ত্র সিংহ সমস্ত ভারতবর্ষ জয় করিয়া দেশে প্রত্যাবর্তন করি- লেন। আহ্লাদে হৃদয় উন্মত্ত, তিনি মানব হইয়া বয় ক্ষমতায় দে রত্বলাভ করিবেন, পর্য্যন্ত ধরাধামে এরূপ সৌভাগ্য কাহারও ঘটে নাই ;_কিস্তু সহসা তাঁহার মে আহ্লাদ দুর হইল, পুরোহিত কুশাঙ্থুরীয় পরাইয়৷ যে কথা বলিয়াছিলেন তাহা মনে পড়িল, হস্তের দিকে চাহিয়৷ দেখিলেন অস্কুরীয়কের কালীর চিহ্ব যেমন তেমনি রহিয়াছে মহারাজ নিরাশ হৃদয়ে মহামহোপাধ্যায় শান্তজ্ঞ পণ্ডিতদিগকে আহ্বান করিলেন মন্দিরের বৃত্তান্ত তাহা- দিগকে বলিয়া সম্বন্ধে তাহাদের পরামর্শ জিজ্ঞাসা করিলেন। গণ্ডিতগণ বলিলেন “পুরোহিতের কথানুরূপ আপনি পৃথিবী জয় করিলেন কিন্তু তাহীতেও' যখন অস্কুরীয়কের কালী মুছিল না, তখন পুরোহিতের কথার যথার্থ অর্থ তাহা নহে। পৃথিবীর রক্ত- পাতে যথার্থ পৃথিবী জন্ব হয় না। যখন আপনি পৃথিবীর হৃদয় জয় করিতে পারিবেন তখনই যথার্থ পৃথিবীজয়ী হইবেন। জগ্গতের লোক ভযৃষ্টিতে আপনাকে মন্য্যহস্তা বলিয়া না দেখিয়া যখন ভালবাসার চক্ষে, ভক্তির চক্ষে দেখিবে, যখন জগতের হৃদয় অধি- কার করিবেন তখনি আপনি পৃথিবী জয়ী হইতে পারিবেন”

মহারাজ এই কঞ% সত্য বলিয়া বুঝিলেন ) রাজ্যের এক প্রান্ত হইতে অপর প্রান্ত পর্য্যন্ত ধন রত্ব ঢালিয়া দিতে লাগিলেন, যশে জগত ধ্বনিত হইল, কিন্তু হাঁয়! রাজা ব্যথিত হৃদয়ে দেখলেন তাহার অন্থুরীয়ক এখনও কালীময়। শাস্ত্র পণ্ডিতদিগের কথাও ব্যর্থ দেখিয়া কালী মুছিবার উদয় জানিতে ডনহদয়ে আবার তিনিই দবযন্দিরের পুরোহিতের নিকট যাত্রা! করিলেন

[

&

(১৯)

যাইবার সময় পথে, একজন সন্ন্যাসী তাঁহাকে ম্লান দেখিয়া তাহার কারণ জিজ্ঞাসা করিলেন। সবিশেষ শুনিয়া সঙ্গেহে “বত্ম, রক্তপাত করিয়া, কিন্বা যশের কামনা-পরবশ হইয়া পৃথিবীজয়ী নামের আশা করিও না তাহাতে সে প্রদীপ নিভিবে না। যদি আত্মজয় করিতে গার তাহা হইলেই তুমি যথার্থ পৃথিবী জয়ী হইঝেও তাহা হইলেই তুমি সেই দেবরের অধিকারী” সন্্যাসীর কথায় মহারাজের চৈতন্য হইল। তিনি মন্দিরে ন! গিয়া পথ হইতে বাটা ফিরিয়া আসিলেন। ভন্থায়রূপে যে সকল রাজত্ব কাড়িয়া লইয়াছিলেন তাহা ফিরাইয়া দিলেন, .নিজের ছুপ্রবৃত্তি সকল দমন করিয়া নিঃস্বার্থ ভাবে পরোগপকারে কৃত- স্বল্প হইলেন। আস্তরিক প্রার্থনায় ঈশ্বর তাহার সহায় হইলেন-_ ক্রমে লোভ, ঈর্ষা, অহঙ্কার সকলি তাহাঁকে পরিত্যাগ করিল-_ তিনি ঈশ্বরে আত্ম সমর্পণ করিতে সমর্থ হইলেন। তখন তাহার হস্তে কালী মুছিয়া গেল, কিন্তু তখন আর কোন রত্ধ লাভে তাহার বারননা রহিল না, তিনি বাসনাহীন হৃদয়ে পুরোহিতকে ধনযাবাদ দিবার নিমিত্ত সেই মন্দিরে গিয়! দেখিলেন, প্রদীপ নিভিয়া গিয়াছে। পুরোহিত বলিলেন_তুমি যে রুদ্ধ লইতে আদিয়াছ তাহা ইতিপুর্কেই তোমার হইয়াছে__এই ঞেঁধ দীপ নির্বাপিত। এখন তুমি কেবল মাত্র পৃথিবীজয়ী নহ-_ত্রেলোক্য জয়ী”

_ বালকবালিকাগণ, তোমরা কি বুঝিয়াছ এই গল্পটির গুঢার্থকি? দুশ্রবৃততি গনুয্যহৃদয়ে সর্পস্বরূপ মে গুণজ্যোতি হরণ করিয়া মে নিজে পরতিদুত হয় কিন্তু মনুষ্যকে নিস্তেজ রযূ্রাখে ] সেইপ্স্েরর ধ্বংস দ্বারাই মনুষ্য তাহার মনুষ্য ফিরিয়া গায়।

২৯ ) র্‌

দ্বি-প্রহর |

নিস্তন্ধ নিধুম দিক, শ্রাস্তিভরে অনিমিথ বসন্তের দ্বিপ্রহর বেলা!

রবির অনল কর্‌, শীতলিতে কলেবর সরোবরে করিতেছে খেল! !

বায়ু বহে সন সন, বিকম্পিত উপবন, ঘু ঘু ডাকে সকরুণ ডাক।

মাঝে মাঝে থেকে থেকে, কোথা হতে উঠে ডেকে কঠোর গম্ভীর স্বরে কাক।

নীল নীলিমার গায়, শাদা মেঘ ভেসে যায়, চিল উড়ে পাতার সমান

চাতক সে ক্ষুদ্র পাখী, সকরুণ কণ্ঠে ডাকি মেঘে চায় ভুবাইতে প্রাণ।

মুকুলিত আত্ম শাখে, পল্লবিত তরু থাকে কুহু কুহু কোকিল কুহরে।

হিল্লোলিত সরো-কায়া, ঘুমায় গাছের ছায়া, গাভী নামি জল পান করে।

এলো চুলে খেয়ে গুলি, কলস কোমরে তুলি স্নান করি গৃহে ফিরে যায় !

একটি রাখাল ছেলে, দুর মাঠে গরু ফেলে কু বনে বানী বাজায়।

7

টি ছি

(২১)

* সঙ্গদোষ

মোহজালস্ত যোনি মূঢ়েরেব মমাগমঃ অহন্যহনি ধর্মস্য যোনিঃ মাধুমমাগম:4

ব্যক্তিদিগের মহবামে সমূহ মোহের উৎপত্তি হয়, এবং প্রতিদিন দাধু সংসর্গে নিশ্চিত ধর্মের উৎপত্তি হয়।

্ববুদ্ধির পরামর্শে আস্বর! যেরূপ ভাল লোক হইতে পারি__ এবং কুবুদ্ধির পরামর্শে যেমন মন্দ লোক হইয়! পড়ি-_সেইরূপ “মদ লোকের সহবাদে আমরা মন্দ হয়! যাই__সাধু সঙ্গে আমা- দের সাধুত৷ বৃদ্ধি পায়। সেই জন্য সাধু ঙ্গ যেমন প্রার্থনীয় মন্দ ঙ্গও তেমনি পরিত্যজা। ভাল লোক মন্দ সঙ্গে পড়িয়া মন্দ হইয়া গিয়াছে এমন অনেক গল্প গুনা যায় -আমি তাহার একটি তোমাদিগকে বলিতেছি।

আজ আশিন মাসের সপ্তমী, বনগ্রামের চট্টোপাধ্যায় মহাশয়ের বাড়ী' মা আদিয়াছেন! প্রাতঃকালের সুমক্গল-ধ্বনি,_শঙ, ঘণ্টা, ঢাক) ঢোল, সানাইয়ের উত্তেজনাপূর্ণ মধুর গল্ভীর-তান সমস্ত গ্রামখানির-হৃদয় তক্তিআোতে তরঙ্গিত করিয়াছে। , সন্ংসর-কাল বিষাদে যাহার হৃদয় পুড়িয়াছে এই ভক্তির প্রভাবে তাহার হৃদয়েও আজ আননা, সম্ঘইসর যাহার চোখের জল শুকায় নাই আজ তাহীরও মুখে হাদি ফুটিয়াছে,_মা আসিয়াছেন_এমন আননোর দিনে সাংসারিক দুঃখ আজ কে না তুলির ? আজ যে না হাসিবে তান্থা্র জীবনে হাদিবার দিন আর আসিবে না

ভাজ কাল হইতে বনগ্রামের রাস্তার দত ফিরিয়া গিয়াছে,

(২২) 2

গ্রামে এমন লোক নাই যে সাজ সজ্জা ন' করিয়াছে, একখানি নূতন কাপড় না পরিয়াছে। গাঁয়ের বৌঝিগণ-_যাহার যে তাল কাপড়খানি, "যে গহনাগুলি আছে তাহাপরিয়া, আলতা পায়ে দিয়া, ঘোমট! টানিয়! বৃদ্ধাদিগের সঙ্গে সঙ্গে ঠাকরুণ প্রণামে চলিয়াছে। বালক বালিকাগণ নৃতন পরিচ্ছদে সাজিয়া মন্ত লোকের চালে_ গম্ভীর ভাবে চাবিদিকে দৃষ্টিপাত করিতে করিতে, হাস্থপূর্ণ উল্লাফিত উৎসাহিত যুবকমণ্ডলী এবং হরিনামের মালা হস্ত, প্রীতি গদগদ চিত্ত বৃদ্ধগণের সহিত একত্রে পুজাগৃহে গমন করিতেছে বিশ্বজননীর আগমনে আজ গ্রাম ক্ৃতার্ঘ, পবিভ্র, শৌভাময়, আনন্দবিভামিত। .

এইরূপে প্রাতঃকাল কাটিয়া গেল, ক্রমে দ্বিগ্রহরের বলি- দানের সময় আসিয়া পড়িল,__পূজার দালানের সন্মুখের উঠানে বলিদানের আয়োজন হইয়াছে গ্রামের যত ছেলেরা মনভরা আনন্দ, মুখভরা হাসি লইয়া একযুগ আগে হইতে এখানে আসিয়া উপস্থিত হইয়াছে কেবল দীননাথ এখানে নাই, দীননাথ ঠাক- কুণ প্রণাম করিয়া সেই যে সকালে ঘরে গিয়াছে দেই অবধি আর তাহার দেখা নাই। ছুই প্রহর অতীত হুইয়া যায় তথাপি দীননাথকে গৃহে দেখিয়া তাহার মা আশ্চর্য্য হইয়া বলিলেন__ পট রে দীন্ু, বেল" ছুপর হইল এখনি বলিদান হইবে,_-সব ছেলেরা এতক্ষণ পৃঁজা বাড়ীতে, আর তুই যে এখনো! ঘরে 1”

দীননাথ বলিল__“না। ম| বেলা আমি আর পুজা-বাড়ীতে যাইব না। হরি, কানাই, হাম, কি কেহ আসিলে, অ'মি বাড়ী আছি--এক্ষ"! তুমি কাহাকেও বলিও না। বলিলে রঃ তাহা" দের-হাঁত ছাড়াইনতে গারিব না”

(২৩)

তাহীর ম| এই কণ্ায় একটু ব্যস্ত হইয়া দীননাথের কগালে হাত দিয়া বলিলেন__“কেনরে বাছা পূজা! দেখিতে যাইবিনে কেন? অন্ুখ করে নাই ত?” দীননাথ বলিল “না মা অন্ুথ করে নাই, এখনি পূজা বাড়ীতে পাঁটা বলি হইবে, আমি

বলি দেখিতে পারি না৷ তাই বেলা যাইব না”__ দীননাথ আর বেশী কণা কহিবার সময় পাইল না। তাহার কথা শেষ হইতে না হইতে “দীন কোথা-দীন কোথা? বলিয়া! চীৎকার করিতে করিতে একদল ছেলে হুড় মুড় করিয়া ঘরের মধ্যে আসিয়া! পড়িল। আর এড়াইবার সাধ্য কি-_তাহাদের সঙ্গে সঙ্গে বলিদানের পাঠার মতই দীননাঁথ পুজাবাড়ীর উঠানে আগিয়া দাড়াইল। তাহারা উঠানে গ] দিতে না দিতে বলিদানের শঙ্গ ঘণ্টা প্রভৃতি বাজনা বাজিয়া! উঠিল, ধূপ ধূনার গন্ধে উঠান ভরিয়া গেল, পুরোহিত দালানে ছাগশিশু উৎসর্গ করিয়! বন্ধন করিয়া রাখিয়াছিলেন, একজন ত্রাঙ্মণ সেই চন্দন সিন্দুর শোভিত, মাল্য*ভূষিত ছাগ আনিতে গেল, পুরোহিত হাঁড়কাঠ পুজা করিয়া খ্জী, মন্্পূত করিতে লাগিলেন। ব্রাহ্মণ ছাগক্রোড়ে নিকটে আসিয়া ঠাড়াইল--ছাগশিশু তাহার ক্রোড় হইতে পলা- য়ন করিবার জন্ত ছটফট করিতে করিতে চতুর্দিকে আকুলনয়নে দৃষ্টিপাত করিয়া মর্ােদী স্বরে ডাকিতে লার্জিল, যেন সে তাহার আসন্নকাল বুঝিতে পারিয়া কাতর কণ্ঠে অব্যক্ত ভাষায় বলিতে লাগিল-_“আমি পণ্ড, তোমরা! মানব, আমি ক্ষুদ্র তোমরা মহান। বুদ্ধিতে ভোমরা সাগর উনলতঘন করিয়া, আকাশ ভেদ করিয়াছ, দেবতাদের সমকমমহইযাছ। তবে তোমাদের ভু কাঁটাখুরৎ যে আমি, আমার কু জীবন আনে *ন্ষুদ্র করিয়া

(২৪)

তোমাদের কিপের এত উৎসব ? তবে £কন তোমাদের মানস- জননীকে রাক্ষসী অনুমান করিয়া তাহাকে তাহার সন্তানের রক্তপাতে প্রসন্ন করিবার প্রয়াসী হইয়াছ? ওগো! চুলের বল, অসহায়ের সহায় কে আছ হেথা-_ষথার্থ মানব কে আছ র্ধানে, এই দুর্বল অসহাঁয়কে রক্ষা কর-_আমার এই ক্ষুদ্র জীবন যাহা তোমাদের কাছে কিছুই-নহে কিন্ত আয়ার নিকট অমূল্য, অসময়ে তাহার শেষ করিও না”। ছাগশিশুর সেই অন্ক,ট ভাষা দীননাথ যেন বুঝিতে পারিল। সেই কাতর প্রার্থনা সেই আকুল হৃদয়ের বিলাপ তাহার প্রাণে গিয়া যেন আঘাত করিল। তাহার হৃদয় ফাটিয়া চক্ষে জল আসিতে লাগিল

পুরোহিত থঙ্জা ছাগের গলায় ছু'য়াইয়া কামারকে দিলেন। ছাগের গলা হাড়কাটে দেওয়া হইলে কর্মকার সেই ভীষণ খক্ঠা উত্তোলিত করিল। তাহার পর দীন আর কিছু দেখিতে পাইল না, তাহার মাথা ঘুরিয়া আসিল, চোখ মুদিয়া সে বসিয়া গড়িল। যখন চক্ষু খুলিয়া আবার দাড়াইল-_দেখিল তখন আর-পাঁঠা সেখানে নাই, বলিদানের স্থান রক্তপ্লাবিত। দেখিয়া সে বুঝিল বলিদান হইয়া গিয়াছে। |

(২)

সেই দিন হই্ডে দীননাথের নিন ওিহাডীরি ছেলেরা তাহাকে দেখিলেই উপহাস করিতে থাকে একজন তাহাকে দাঁড়ি পরাইয়া মেয়ে সাজাইতে চাহে, আর একজন অমনি গম্ভীর ভাবে বলিয়া উঠে“হা হা এমনে! কথা! ইনি আমাদের সিপাই পুরু, ইহাকে গ্রামের দীমনায দাড় করাইয়া রদ আর যোন,ভাবনাই থাকিবে নার এজনিয

(২৫)

উঠেন-হ| বীর বই,কি--তা আবার বলিতে, সে দিন পাটা বলি দেখিয়া মৃচ্ছণ গিয়াছিলেন। বীরের হাতে গোটা কতক পাঁকা- প্টার লাঠী আনিয়া দাও ।” রঃ ইরূপে গ্রাম-শুদ্ধ ছেলের! দীনর প্রাণান্ত করিয়া তুলিয়াছে, উপহাসের জালায় দে অস্থির। দীন বেচারা অস্থির হইয়া, কিসে যে তাহাদের হাত হইতে »উদ্ধার পাইবে ভাহা ভাবিয়া পায় না। কিসে তাহারা তাহাকে ভাল বলিবে প্রাণপণে তাহার চেষ্টা করে। ছেলেরা পাখীর ছানা পাড়িতে গেলে দীন উমেদার হইয়া তাহার সঙ্গে যায়, আগেভাগে তাড়াতাড়ি গাছে উঠিয়া আপনার পুরুষত্ব বজায় রাখিবার চেষ্টা করে। এরূপ কাজ যদিও তাহার একেবারেই ভাল লাগে না, তথাপি সে লজ্জার খাতিরে উপহাসের ভয়ে তাহা করিে গ্রস্ত দীন বড় দুর্বল, সে তাহার সঙ্গীদিগের উপহাস কোন মতেই সহিতে পারে না। বরঞ্চ সে পাখীর ছান! পাড়িয়া_নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজ করিষ্মা__মনে মনে কষ্ট সহিতে পারে, তথাপি বন্ধুদের হাসিবার কাজ করিয়! উপহাসের পাত্র ইইতে চাহে না। ছেলেরা-_দড়িতে টিগ বীধিয়াঁ তাহা ছু'ডিয়া পাখী মারে,_দীন আগে কখনও তাহ! করিত না কিন্তু দেই ঘটনার পর হইতে সে নিজেই অগ্রসর হইয়াটিল ছু'ড়ে। এইরূপে নানা প্রকাষ্টম আপনার বীরত্ব দেখাইয়া সঙ্গীদের মন হইতে সেই দিনকাঁর ঘটনাটা মুছিয়া ফেলিতে চায়। একদিন গ্রামের ছুই চারিজন বালক পাখী মারিতে যাইবে স্থির করিয়া দীনঙ্গাথের বাড়ীর্তে আসিয়া উপস্তিভ্্ুইল। তাহা- দেরঞ্চদবিষ্া দীর্ বুঝিল তাহারা তাহাকে" কিতে জীটিনছে।

( ২৬) রি পর্য্যন্ত দে কেবল গাছের ডাল পাতা লক্ষ্য করিয়া টিল ছু'ড়িত, কখনও জীবহত্যা করে নাই। সেই জন্য উহাদিগকে দেখিবামাত্র তাহার মুখ শুকাইয়া গেল। একজন বালক বলিল _ও্দীননাথ__এইবার তোমার সাহসের পরিচয়টা দেও, 'গাজ কটা পাখী মারিবে বলদেখি” ?

দীন বলিতে যাইতেছিল--“আজ ,শরীরটা| বড় ভাল নাই,__ মা তাই কোথাও যেতে দেবেন না ।”

কিন্তু সে কথা কহিবার আগেই আর একজন উগহাঁস করিয়া কহিল-“দীন্থুসিংহ টা পাখী মারিবে_তা। আর জিজ্ঞাসা করিতে? অসংখ্য [?

এই কথায় মহা হাস্য কোলাহল পড়িয়া গেল, দীন ইহাতে অত্যন্ত লজ্জিত এবং ব্যথিত হইয়। মনে মনে বলিল--“হা ভগবান--কেন তুমি আমাকে এমন দুর্বল স্ত্রীলোকের প্রাণ দিয়া গড়িয়াছিলে? আমার কি বাস্তবিক একটুও পুরুষত্ব নাই? প্রতি পদে পর্দে আমি সকলের নিকট উপহাসাম্পদ হইব ?৮

দীন নিজের হুর্ধলতা জয় করিতে দৃঢ় সংকল্প করিল। হায়! পুরুষত্ব নিষ্টুরতার মধ্যে যে অনেক প্রভেদ তাহা সে বুঝিল না। দীন উত্তেজিতন্বরে বলিল--”কবে ছেলেবেলায় কি করিয়াছি_-তার জ; কি চিরকালই জশমাঁকে ঠীট্রা করিবে? তোমাদের সকলের আগেই আজ আমি পাখী মারিব”-_

কালকেরা দীনর কথা শুনিয়া সন্তষ্ট চিত্তে সকলে মিলিয়া পাখী মারিতে যাত্রা করিল। গ্রথমেই যে পাখীটি দেখিতে পাইল সেইাটকে দেখাইয়া একজন বাঁণক বলিল, "পৰলোয়ানজি, এই- বার৮-এইবার”_, - ৯)

+ 1)

" এই বাঙ্গোজি শুনিনেই দীনর গা! জলিয়া যাইত। যদিই বা .সে পাখী মারিতে একটু ইতন্ততঃ করিত, কিন্তু এই মর্শাস্তিক উপহাস বাক্যে আর কথাটি না কহিয়! উত্তেজিত মনে গাখীটিকে

লক্ষী করিয়া চিল ছুঁড়িল। বৃত্তচ্যুত কুস্থমের সায় পাখীটী ভূমিতে পড়িয়া ছট ফট করিতে লাগিল, তাহার আহত স্থান হইতে ছুই এক বিন্দু শোগিতও মাটিতে পড়িল।

্রাণীহতযাকার্ধে দীনর এই প্রথম হাতে খড়ি, ইহার পূর্বে সে নিজে রক্তপাত করিয়া তাহী কখনও দেখ নাই। দীনর প্রাণের ভিতর হইতে অস্রঙ্জল উলিয়া উঠিতে লাগিল। কিন্ত পাছে অন্ঠান্ত বালকের! তাহা! বুঝিতে পারে, এই ভয়ে প্রাণপণে তাহা সম্বরণ করিয়া লইল। বালকেরা পাখীটি হস্তগত হইয়াছে দেখিয়া আহলাদে চীৎকার করিয়া উঠিল, এবং দীনকে প্রশংস| করিতে করিতে অন্য পাখীর চেষ্টায় ঘুরিতে লাগিল।

টহার পর চারি পাচ বৎসর চলিয়া গিয়াছে এখন বনগ্রামের এমন পরিবর্তন ঘটিয়াছে বে* এখন আর উহাকে দেই গ্রাম বলিয়াই ঠেঁনা যায় না। পূর্বেকার ভন্রপন্লী গ্রাম্য কুটারের স্থলে এখন নূতন বড়মানুষদিগের এবং নীলকর সাহেবের বড় বড় বাড়ী ধপধপ করিতেছে। তখনকার অন্ম্রে লোক এখন গ্রাম ত্যাগ করিয়া গিয়াছে, বালকমগ্ডলী এখন যুবা হইয়া উঠিয়াছে। কত নূতন লোকের আবির্ভাব, কৃত পুরাতন লোকের তিরো- তাব হইয়াছে।

আজ আবার সেই সপ্তমী গুজা। কিন্ত চাটুযোদের বাড়ী এখন আপু হয়, মকদামায় তাহারা ৮৪৮ হইনীপঘছে।

(২৮) রঃ | নীলকরের দাওয়ান নবীন ঘোষের বাঁড়ী আজ পূজার বড় ধূম। কিন্তু সে পূজায় আবাল বৃদ্ধ বনিতা যত সখী হইত, এপুজায় যেন. তাহাদের তত সুখ হয়না। উঠানে বালক যুবকেরা দীড়াইয়া আছে, এখনই বলিদান হইবে) এই মকল আয়োজন দোখয়! যুবক্দিগের মনে সেই ছেলেবেলার কথা৷ জাগিয়া উঠিতেছে। চাটুয্যে মহাশর কেমন ভাল লোক ছিলেন, তাঁহার জোষ্ঠ পৃত্র কেমন সকলের সহিত প্রিয়-সম্ভাষণ পূর্বক কথাবার্তা কহিতেন। অমন বনিয়েদি ঘর-_একেবারে উৎসন্ন গেল! আর এই নবীন ঘোষ দুদিন আগে লাঙ্গল ধরিতে ধরিতে যাহার প্রাণ গিয়াছে__তিনি আজ বাবু হইয়া কাহারও প্রতি চাহিয়া 'একটি কথা কহেন না!

ুর্বরবৎ অনুষ্ঠান শেষ হইলে ছাগ শিশু হাড়িকাঠে বদ্ধ হইল, কামার খড়ী উঠাইতে উদ্যত হইয়াছে, এমন সময একটা কোলাহল গড়িয়া গেল। পুরোহিত বলিলেন, “নব কামার, তুমি থাম_থাম”।

হারুর মা! ছুটিয়া আসিয়া বলিল, "ঠাকুরমহাশয়, নব কামার, যেন এবার পাঁটা বলি না দেয়, কর্তামা রাগ করিতেছেন। আর বারে দে এক কোপে কাটিতে পারে নাই__সেই অমঙলে আমাদের দাদাবাবুর খোকাটি মারা গেল-_এবার যেন নব খাঁড়া হাতে না করে।” অক্লিম্বে রামার মা স্তামার মা দৌড়িয! আসিয়া & একই কথা বলিতে লাগিল। স্বয়ং বাড়ীর কর্তা নবীন ঘোষ দৌড়িয়! আসিয়া বলিলেন-_“ঠাকুরমহাশয় নব কামারকে খাঁড়া ছুঁইতে দিবেন না-_তাহা হইলে মা! এবার রক্ষা রাখিবেন্‌ না”।

উঠানে একটা গোলমাল বাধিধা গেল, সকলে,বলিয়া উঠিল__

“কেনে বালদান করিবে ? আর একজন কামার ঢাকিয!আন”।

( ২৯ )

এই মময় ভিড়ের মধ্য হইতে একজন ছুটির আসিয়া নব কামারের হাত হইতে খড়া কাড়ি লইয়া বলিল-£ভায়, খাড়া ধরা কি তোমার কাজ, দাও আমাকে দাও”__ পুরোহিত বলিলেন-“এম বাপু দীন কামার, তোমার বড় ডাক নাম-মা প্রন হউন”__ যে দীননাথ একদিন পাটা বলি দেখিয়া মাথা ঘুরয়া পড়া গিয়াছিল-আজ দে হাসিতে হাসিতে সঙ্গীদের উল্লাসধধনির মধ্যে স্বহন্তে বলিদান করিল। খড়া উঠাইয়া ছাগের কণ্চ্ছেদ করি- বার মময় আজ তাহার হাত একবার কীপিল না-স্ায় একটুও ব্যধিত হইল না। নে যখন বলিান করিয়া ফিরিয়া আপিন তখনও তাহার মুখে হাসির রেখা বিলীন হয় নাই। এত পরিবর্তন তাহার কিমে ? কেবল মঙ্গদোষে।

৩০ 9 ঝটিক।। মেঘে মেছ্ে মেঘে, ছেয়েছে আকাশ, দেখা নাহি যায় চাদিয়া আর»

নদীর উরসে ঢেউ সাথে ঢলি থেলে না জোছনা রজত ধার

মুহছুল পবন বহেনাক আর গাছের একটি পাতা না নড়ে, বহে কি না বহে তটিনী কে জানে ঢেউ একটি-নাহিক পড়ে

আধার আকাশ স্তম্ভিত ধরণী মন্ত্স্তব্ধ যেন চারিটি ধার !

কি বিপ্লব কথ নীরবে কহিছে থাকে ন। কুঝি বা জগৎ আর

কুলে কুড়ে ঘরখানি দ্বারের বাহিরে জেলেনী, জেলে-_ ভয়াকুল প্রাণে আছে ঈীড়াইযে, কুটারের নিগ্ধ আলোক ফেলে

সখা হইতে ঝটকার বর্ণনা অংশ গৃহীর্ত।

| ৫৩১) সহসা অশনি কড় মড় কড় ঘোবিল ভেদিয়া আধার নিশি! নিবিড় জলদ ভীম গরজনে সঘনে কাপায়ে তুলিল দিশি !

বীর পরাক্রমে এদিকে ওদিকে মাতিয়ে বহিল পবন রাশি, ধাধিয়ে দিগন্ত বেড়াইছে ছুটে জুবিকট দামিনী হাসি।

নাহি সে তটিনী প্রশাস্ত মুরতি ভীষণ সংহাব্র-মুরতি তাব্র !

সফেণ তুফানে আক্রমিছে বেল! ছুর্দাড় ভাঙ্গিয়ে ফেলেছে পাড় !

সহসা উঠিল করুণ ক্রন্দন ! তরী একখানি ষেন রে ডোবে ! কাপিয়ে উঠিল ধীবর দম্পতি হৃদয় দহিল দাক্ুপ ক্ষোভে

বলিল জেলিনী “ত্র শুন আহা! কোন অভাগার জীবন যায় !” ততক্ষণ ছুটি, খুলি দিয়েশ্ধুটি কক্মণ ধীবর উঠিল “নায়

৩২)

কালনিশায় নাহি ভুরুক্ষেপি বপ ঝপ শ্রী চলিল তরী

আকুল পরাণে তীরে দীড়াইয়ে কর জোড়ে সতী স্মরিল হরি

কত রজনীতে কত ঝটিকায় সাহসী দয়ার সোয়ামী তার, কত মরণেরে করেছে বারণ কতই বিপদ করিয়ে সার

সমুখে জাগিল সেই সব ছবি পরাণ ভরিম্ণ গাহিল জয়» পরাণ ভরিয়া ডাকিল হরিরে “তার” বিপদে করুণাময়"

চলিল তরণী তুফংণে তুফাণে কত পড়ে পুনঃ উঠিছে কভু» অটল হৃদয় সাহসী ধীবর, . কোন ভয় ভর নাহিক তবু।-

মনে তার শুধু জাগে সে রোদন

ঝটিকা তুফানে চেয়ে না চাক্স»

কেবলি হ্বীকিছে_“কোথাম্ন রে তোরা ভয় নেই আর-_নে ঘাৰ আয় (৮

€& ৩৩)

তবুও উ্ন্তর নাহি দিল কেহ, রোদনও আর শোনা না যায়, অধীর হৃদয়ে বাহি চলে জেলে ঝটিকা তরী রাখাও দায়।

তুফাণের পক্প উঠিছে তুফাণ গেল গেল তরী নাহিক আঁশ, নাহি ভুরুক্ষেপ সে দিকে তাহার জলে চেয়ে দেখে চুলের রাশ

ঝাঁপাইয়ে পড়ি চোখের নিমিষে পিঠের উপর দেহটি তুলে, তরঙ্গের সাথে যুঝিয়। যুঝিয়া প্রাণ পণে জেলে উঠিল কুলে

জেলেনী দাড়ায়ে*স্তম্তিত মূর্তি নামাইল দেহ তাহার কাছে, অবসন্ন প্রাণ কুদ্ধশ্বাস-দেহ আপনি লুটিয়ে পড়িল পাছে

(৩৪ )

মত্য।

নাস্তিসত্যসমোধর্মো সত্যাৎ বিদ্যতে পরমূ। নহি তীব্রতরং কিঞ্ধদিনৃতাদিহ বিদ্যতে॥

সত্যের সমান ধর্ম নাই সত্য অপেক্ষা শ্রেষ্ঠও আর কিছু নাই, এবং মিথ্যা অপেক্ষা ঘোর অনিষ্টকর পদার্থ জগতে লক্ষিত হয় না।

মতানিষ্ঠা সর্বশেষ ধর্শনীতি, কারণ যাহা স্তায় তাহাই সত্য, যাহা পুণ্য তাহাই মত্য, আর যাহ! অন্যায় যাহা! পাপ তাহাই মিথ্যা। পূর্বকালে ভারতবর্ষীয়গণের সত্যের প্রতি গাঢ় অনুরাগ ছিল বলিয়া তাহারা বড় লোকও হ্ইয়াছিলেন। দশর্থ সত্য বক্ষার জন্য তাহার প্রাণাধিক পুত্র রামকে বনবাস দিয়াছিলেন। আমরা বড় লোক হইতে ইচ্ছা করি কিন্ত যতদিন আমাদের নত্যের প্রতি প্রবল অন্গ্রাগ হইবে--ততদিন আমাদের সে আশা বৃথা। তুমি যদি বড় লোক হইতে চাও কখনো মিথা! বলিও না। দৈবাৎ অন্যায় কার্ধ্য করিলে পিতা মাতার ভয়ে মিথ্যা বলিয়া তাহা লুকাইবাঁর চেষ্টা কারও না। যাহার সত্য বলিবার সাহস আছে-_পিতামাতা তাহাকে ক্ষমা করেন। যাই বা! ক্ষমা না করিয়া তোমার দোষের জন্য তোমার পিতামাতা তোমাকে ' ততসনা বা অন্য 2্গোনরূপ শাস্তি গ্রদান করেন তাহা হইলেও তোমার সত্য বলিতে বিরত হওয়া উচিত নহে। কারণ সন্তানের মঙ্গল কামন! করিয়াই অর্থাৎযাহাতে সে ভবিষ্যতে খ্ররূপ গঠিত কার্ধ্য পুনরায় না করে এই অভিগ্রায়েই পিতামাতা সন্তানকে দও বিধান করেন, স্ৃতুরাং দণডভয়ে ভীতনা হইয়া তাহা সহা করাই দেই দযরাই তোমার ন্যারান্যায়! বাধ জম্মিবে এবং

( ৩৫)

কর্তবযাবর্তব্য শিক্ষা হইবে; সেই সামান্য কষ্ট সহ করিয়া ভুমি মান্গুষ নামের যোগ্য হইবে; ইহী হইতে সুখের বিষয় আর কি জাছে। একটি বালক কিরপ স্থলে সত্য পালন করিয়া জগতের পুজনীয় হইয়াছেন তাহা শুনিবে?

একদা একদল মুসলমান্ধু যাত্রী বোগদাদ নগরে যাইতেছিল। মন্ধ্যা হইয়া পড়িয়াছে এখনো তাহারা প্রান্তর পথ উত্বীর্ণ হইতে পারে নাই, দারুণ শীতে তাহাদের শোণিত যেন বরফের মত জমাট বাঁধিয়া আসিতেছে; নিকটে বসতির চিহ্ন মাত্র নাই) সুদুরে কোন দীপের ক্ষীণালোকও দেখিতে পাওয়া যাইতেছে মাঁযে তাহা দেখিয়া তাহাদের নৈরাশ্য পূর্ণ হৃদয়ে বথঞ্চিৎ আশার উদ্রেক হয়, তথাপি তাহার লক্ষাহীন, নিরাশ হৃদয়ে অগ্রসর হইতেছে। সহসা তাহারা চমকিয়া উঠিল, একদল দস্থ্ ভীষণ চীৎকার করিয়া তাহাদের নিকটবর্তী হইল। দেখিতে দেখিতে দস্ত্যদল কর্তৃক তাহারা আক্রান্ত পরাভূত হইল। প্রান্তের সীমানায় ক্ষুদ্র পাহাড়ের অস্তরালো্থ্যরিগের বসতি,__ যাত্রীদিগকে বন্দী করিয়। তাহারা সেইখানে লইয়া গেল, শরবং

£ তাহাদিগের সর্বস্ব কাড়িয়া লইল। যাত্রীদিগের মধ্যে একটি

বালক ছিল, কেবল তাহার নিকটে দন্থযঞ্গী এক বপর্দকও পাইল ন!। তাহার বস্ত্রাদি উত্তমরূপ অনুসন্ধান করিবার পর এক- জনদস্গ্ু তাহাকে:জিজ্ঞাসা করিল--“তোমার কাছে কিছুই নাই ?

বালক্বলিল_“আছে।” ৯৯

দা ভাবিল ঝলক উপহাস রিতেছে। সেক্ঘ্ঘি্ি--“কি আছে?

(৩৬)

বালক বলিল-_-“৪০টি মুদ্রা আমার কাপড়ের ভিতর আছে ? দস্থা বালকের কাপড় বেশ করিয়া দেখিয়াছিল, সুতরাং এই কথাক় হামিতে লাগিল। আর একজন বলিল-_“ঠাষ্টা করিতেছিম্‌?”

বালক বলিল-_“ঠাট্রা নয়, আমি বলিলাম-_আমার কাছে ৪০টি মুদ্রা আছে”

এই সময় তাহাদের দলপতি আসিয়া উপস্থিত হইল। সে শুনিল বালকের কাছে কিছু পাওয়া যায় নাই। মে আবার বালককে জিন্তাসা করিল--“তোর কাছে কিছুই নাই” ?

বালক। আছে।

দস্থ্যপতি। কি আছে?

বালক। ৪০টিমুদ্রা।

দলপতি। কোথায় আছে? বালক আমার কাপড়ের মধ্যে সেলাই করা আছে

দস্থাপতি তাহার কাপড়ের ফেলাই খুলিয়া দেখিল সত্যই ৪০টি মুদ্রা আছে। মে তখন আশ্র্য্য হুইয়া বলিল_'“তুমি নির্ধোধের ন্যায় কেন বলিলে তোমার কাছে মুদ্রা আছে? মুদ্রা যেরূপে লুকান 'ছিল-_তুঁমি না বলিতে কেহ তাহার সন্ধান গাইত না। বলিবে এত যত্ধে তাহা কাপড়ের মধ্যে লুকাইয়া রাখিবার কি দরকার ছিল?”

বালক বলিল “মা আমাকে বনিয়্াছেন কথনে। মিথ্যা বলিও না”

এই কথায় হঠাৎ দন্থাগতির মনের ভাব পরিবর্থিতি হইল, দে বুন্লির*হায় এই কষুত্র বালক তাহার মাতার আজ! এর্্ধপে পাঁলন* করিতে শিখিয়াছে_-আর 'আর্মি-শ্বুন হইয়া

6৪৮3

গেলাঁম* এখনও পরম পিতা ঈশ্বরের আভা গালন করিতে শিথিলাম না”

দস্থ্যপতি অনুতপ্ত হৃদয়ে বালকের হাত ধরিয়া বলিল-_ “আঁম তোমার হাত ধরিয়া এই শপথ 'করিতেছি আর কখনো ঈশ্বরের আজ্ঞা অমান্য করিব না”।

তাঁহার সঙ্গিগণ এতক্ষা অবাক হইয়া সমস্ত শুনিতেছিল__ এখন সকলে দস্থ্াপতির নিকট অগ্রসর হইয়া বলিল, €গ্রতু এই বালকের কথায় আমাদেরও চৈতন্য হইয়াছে। আমরাও পাপ- পথ ত্যাগ করিব। আপনি পাগপথে আমাদের নেতা ছিলেন পুণ্য পথেও আমাদের নেতা হউন”

সেই দিন হইতে দস্থাগণ তাহাদের অধর্শলধ ধনরত্ব সকল দীন দরিদুরদিগকে বিতরণ করিয়া সাধুবীবন অবলম্বন করিল।

এই বালকের নাম আবছুল কাদির। পারন্তইতিহাসের ইনি একজন বিখ্যাত ব্যক্তি

(৩৮)

বাগানেতে খেলা বাগানে ফুটেছে ফুল, কত বরণের আহা! - কিস্ুন্দর সাজিয়াছে, বলিতে ন! পারি তাহা।

কেউ শাদা ধবধবে কেউ রাঙ্গা টুকটুক ! কেউ বা শতেক রং, কারো বা সোণার মুখ! বীরে ধীরে বহে বাধ, ধীরে মেঘ খেলিতেছে। গাছের আড়ালে হোথা, চাদ উ'কি মারিতেছে। বালক বালিকা ছটি, খেলিছে মনের স্থখে,

_ করিতেছে ছুটাছুটি, হাঁসি ন! ধরিছে যুখে। “আয় হেথা আয় বোন, দেখ হেখ। দেখ চেয়ে, বকুলের ফুলে আহা তলাটি ফেলেছে ছেয়ে”

“আমি দাদা এক ছড়া নাথি ভাই জু'ই মালা, তোমারে পরায়ে দিয়ে, আবার করিব খেল। 1৮

«ওই দ্দিক পানে চেয়ে একবাঁর দেখ বোন ! গোলাপ একটি ফুটি রূপে আলো করি বন”

“আহা কি সুন্দর ফুল, দাওনা আমারে পাড়ি, মাকে গিয়ে দিব আমি যখন ষাইৰ বাড়ী ।৮

মদনে টাদ হোঁথা, ২খলিতেছে লুকৌচুরী রণ বাধিকা, খেলিতে সাধ, ডাকিল আদা; করি."

(৩৯),

- এস চাদ মে সনে শুধু লুকোচুরি খেলো, খেলিবে মোদের মাথে কত খেল! আরে! ভাল

“মিছে ডেকে কাজ নাই, আসিবে না, বোন! শশী;