ইন্দিৰা ঘুগলান্বীয়

বহ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

দিবঝ এগ্সারএ লিড

প্রক1শক প্রশাস্তকুমার সি

দিবুক এম্পোরিঅম লিমিটেড, ২২-১, কর্ণওঅলিস স্ট্রাট কলিকাতা "

মুদ্রাকর শ্রীকুন্দভূষণ ভাছুড়ী পরিচয় প্রেস

৮বি, দীনবন্ধু লেন, এক টাক!

বা

[ ১৮৯৩ শ্বাষ্টান্দে মত পঞ্চম সংস্করণ হউতে ]

পঞ্চম বারের বিজ্ঞাপন

ইন্দিরা ছোট ছিল- বড় হইয়াছে। ইহা যদি কেহ অপরাধ বলিয়া গণ্য করেন, তবে ইন্দিরা বিনীতভাঁবে নিবেদন করিতে পারে যে, এমন অনেক ছোঁটই বড় হইয়া থাকে। ভগবানের ইচ্ছায় নিত্যই ছোট, বড় হইতেছে রাজার ।জ এই দেখি, ছোটকে বড় করিয়া, বড়কে ছোট করেন। সমাজও দেখিতে পাই বড়কে ছোট, ছোটকে বড় করেন। আমিও যাহার অধীন, সে না হয়, আমকে ছোট দেখিরা, বড় করিল। তার আর কৈফিয়ৎ কি দিব? তবে দোষেন কাটা এই যে, বড় হইলে দূর বাঁড়ে। রাজার কৃপার বা নমাজের কৃপায় যাহারা বড় হয়েন, তীহার! বড় হইলেও আপনার আপনার দর বাড়াইয়া বসেন। এমন কি, পুলিসের জমাদার যিন এক টাকা ঘুষেই: সন্ত দারোগা হইশেহ ঠিনি ছুই টাকা চাহিয়া বসেন, কেন না, বড় হইয়া তাহার দর সাড়িরাছে। গরীৰ ইন্দিরা বলিতে পারে, আমি হঠাত বড় হইলাম, আমার কেন ! বাড়িবে না? হবে, ইন্দিরা বড় হইয়। ভাল করিয়াছে, কি মন্দ কর্ধিয়াছে, সেট! খুব সংশয়ের স্থল। সেটার বিচার আবশ্তক বটে ছোট, ছোট থাকিলেই ভাল। ছোট “লাঞ্চ বড় হইয়া কবে ভাল হইয়াছে) কিছু অনেক ছোট লোকেই তাহা স্বীকার করিবে না। ইন্দিরা কেন তাহ। স্বীকার করিবে? পাঠক বোধ হয়, হন্দিরার কলেবর বৃদ্ধির কারণ জানিতে ইচ্ছা করিতে পারেন। তাহা বুঝাইতে গেলে, আপনার পুস্তকের আপনি সমালোচনায় প্রবৃত্ত ইতে হয়। সে অবিধেয় কাধ্যে আমার প্রবৃত্তি নাই। যিনি বোদ্ধা, তিনি ছাট ইন্দিরাখানি মনঃসংযোগ দিয়া পাঠ করিলেই জানিতে পারিবেন যে, তাহাতে কি দোষ ছিল এবং এক্ষণে তাহা কি প্রকারে সংশোধিত হইয়াছে প্রন্কত পক্ষে, পুরাতন নামে এ' একখানা নৃতন গ্রন্থ নৃতন গ্রস্থ প্রণয়নে সকলেরই *র্ধিকার আছে। গ্রন্থকারের ইহাই যেষ্ট সাফাই

15761078915) ০925856 0700 90171৮ 106118174 ড/1100916 10856 0700 1866 006 100 11500 % 09) &00 01৫10 2 8190) & অ৪%7 1010106 ৪0 09) ! +]15 81100901000 20160 2),

111) 3009]1 65৪. 0158 11109 11)8 ৬17) 1798 1১01 2811) ? 7161) 076 10):9555 500. 079 1765 [008 9116 500 9 1)2170- উ1)1716 8159 10701010556 0989৮ 11 0০০ 02036 10 10990 (1799 1106, 1:৩6 006 5৮ 100 10000001 11600 110 & 00611) 107825018 111) 116 10587 0019 [07 1১10), 2008 ৮৮118 ০0109 191 016308010. রঙ চর রঙ 1]1)00 ৪70 109 9190 1116 ! 0) 00176 ! 31556 01508 170/5 10)0 10৩216 01)) 1090076 ! 19/6116%,

প্রথম পরিচ্ছেদ

আমি শ্বশুরবাড়ী যাইব

অনেক দিনের পর আমি শ্বশুর্বাড়ী যাইতেছিলাম। আমি উনিশ বৎসরে পড়িরাছিলাম, তথাপি পর্যন্ত শ্বশুরের ঘর করি নাহ তাহার কারণ, আমার পিতা ধনী, শ্বশ্তর দরিদ্র বিবাহের কিছু দিন পরেই শ্বশুর আমাকে লইতে লোক পাঠাইয়াছিলেন, কিন্তু পিতা পাঠাইলেন না; বলিলেন, “বিহাইকে বলিও বে আগে আমার জামাতা উপার্জন করিতে শিখুক--তার পর বধু লইয়া যাইবেন --এখন আমার মেয়ে লইয়া গিয়া খা ওয়াইবেন কি?” শুনিয়া আমার স্বামীর মনে বড় দ্বণা জন্মিল-_তীহার বয়স তখন কুড়ি বৎসর, তিনি প্রতিজ্ঞা করিলেন যে, স্বর, অর্থোপার্জন করিয়া পরিবার প্রতিপালন করিবেন। এই ভাবিয়া তিনি পশ্চিমাঞ্চলে যাত্রা করিলেন। তখন রেইল হয় নাই-_পশ্চিমের পগ অতি ছৃর্গম ছিল। তিনি পদক্রজে বিনা অর্থে, বিনা সহায়ে, সেই পথ অতিবাহিত করিয়া, পাঞ্জাবে গিয়া উপস্থিত হইলেন। যে ইহা পারে, সে . অর্থোপার্জন করিতেও পারে স্বামী অর্থোপার্জন করিতে লাগিলেন--বা্ঠীতে টাকা পাঠাইতে লাগিলেন-_-কিন্ঠ সাত আট বংসর বাড়ী আসিলেন না, বা আমার কোন সংবাদ লইলেন না রাগে আমার শরীর গর গর করিত টাক! চাই? পিতা মাতার উপর বড় রাগ হইত--কেন পোড়া টাকা উপাক্জনের কথা তাহারা তুলিয়াছিলেন ? টীকা কি মামার লুখের চেয়ে বড়! আমার বাণের ঘরে অনেক টাকা _আমি টাকা লইস্সা “ছিনিমিনি” খেলিতীম। মনে

ইন্দিরা মনে করিতাম, একদিন টাকা পাতিয়া শুইয়া দেখিব-কি সৎ, একদিন মাকে বণিলাম, “মা, টাকা পাতিয়া শ্তইব।” মা বলিলেন, “পাগলী কোথাকার ।" ম| কথাটা বুঝিলেন। কি কল কৌশল করিলেন বলিতে পাঁরি না, কিন্তু রে সময়ের ইতিহাস আরম্ভ করিতেছি, তাহার কিছু পূর্রে আমার স্বামী বাড়ী আপিলেন। রব উঠিল ঘে, তিনি কথিসেরিয়েটের ( কমিসেরিয়েট, বটে ত?) কম্ম করিয়৷ অতুল খশ্বর্ষের অধিপতি হহইরা আসিয়াছেন। আমার শ্বশুর আমার পিতাকে লিখিয়৷ পাঠালেন, “আপনার মাশীর্বাদে উপেন্ত্র ( আমার স্বামী নাম উপেন্ত্র--নাম ধরিলাম, প্রাচী নার। মার্জনা করিবেন, হাল আইনে তাহাকে “আমার উপেন্্র” বলিয়া ডাকাই সম্ভব,) বধুমাতাকে প্রতিপালন করিতে সক্ষম। পার্ধী বেহাঁরা পাঠাইলাম, বধ্মান্তাকে বাটাতে পাঠাইয়। দিবেন নচেৎ আজ্ঞ। করিলে পুত্রের বিবাহের আবার সম্বন্ধ করিব”

পিতা দেখিলেন, নূতন বড়মাহ্ধ বটে। পাক্ধীখীনার ভিতরে কিংখা মৌড়া,উপরে রূপার বিউ, বাটে রূপার হাঙ্গরের মুখ দাদী মাগী বে জা ছিল, সে গরদ পরিয়। আসিয়াছে, গলায় বড় মোটা সোনার দানা চারি জন কালো দাড়িওয়াল! ভোজপুরে পান্ধীর সঙ্গে আসিয়াছিল।

আমার পিতা হরমোহন দণ্ড বুনিয়াদি বড়মান্ুষ, হাসিয়া বলিলেন, “ম ইন্দিরে! আর তোমাকে রাখিতে পারি না। এখন বাও, আবার শীঘ্র লইয় আদিব। দেখ, আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ দেখিয়া হাসিও না।”

মনে মনে বাবার কগার উত্তর দিলাম। বণিলাম, “আমার প্রাণটা বুবি আম্ুল ফুলিয়৷ কলাগাছ হইল; তুমি যেন বুঝিতে পারিয়া হাসিও না।”

আমার ছোট বহিন কামিনী বুঝি তা বুঝিতে পারিয়াছিল ;_বলিল, “দি! ! আবার আদিবে কবে?” আমি তাহার গাল টিপিয়! ধরিলাম।

কামিনী বলিপ, “দিদি, শ্বশুরবাড়ী কেমন, ভাহা কিছু জানিস না?” &

আমি বলিলাম, 'জানি। সে নন্দন-বন, সেখানে রতিপতি পারিজাঁং ফুলের বাণ মারিয়া লোকের জন্ম সাথক করে! দেগানে পা দিলেই জা অগ্গরা হয়, পুরুষ ভেড়া হয়। সেখানে নিতা কোকিল ডাকে, শীতক়াযে দক্ষিণে বাতাস বয়, অমাবস্তাতেও পুর্ণচন্ত্র উঠে”

কামিনী হাসিয়া বলিল, “মরণ আর কি!”

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

স্বশুরবাড়ী চলিলাম

ভগিনীর এই আশীর্বাদ লইয়া আমি শ্বশুরবাড়ীইযাইতেছিলাম। আমার ্বশুরবাড়ী মনোহরপুর। আমার পিত্রীলয় মহেশপুর উর গ্রামের মধ্যে দশ (ক্রাশ পথ, স্থতরাং প্রাতে আহার করিয়া যাত্রা করিয়াছিলাম, পৌছিতে পাচ সাত দণ্ড রাত্রি হইবে, জানিতাম | *

তাই চক্ষে একটু একটু জল আসিয়াছিল। (রোত্রিতে আমি ভাল করিয়া দেখিতে পাইব না, তিনি কেমন। রাত্রিতে-ত তিনি ভাল করিয়া দেখিতে পাইবেন না, আমি কেমন। মা! বহু যন্রে চুল বাধিয়া দিয়াছিলেন-_দশ ক্রোশ ,পণ বাইতে বাইতে খোপা খদিয়া যাইবে, ঢল সব স্থানচ্যুত হইয়া যাইবে। পান্ধীর ভিতর থামিয়। বিশ্রী! হইয়৷ বাইব। ভৃষ্ণায় মুখের তাঘুলরাগ শুকাইয়া উঠিবে, শ্রান্তিতে শরীর হতগ্রী হইয়া যাইবে তোমরা হাসিতেছ ? আমার মাথার দিবা হাপিও না, আমি ভরা যোবনে প্রথম শ্বশ্তরবাড়ী যাইতেছিলাম 1)

পথে কালাদীঘি নামে এক বৃহৎ দীথিকা আছে। তাহার জল গ্রায় অর্ধ কোশ। পাড় পর্ধতের স্ঠায় উচ্চ। তাহার ভিতর দিয়া পথ। চারি পার্্ে বটগাছ। তাহার ছায়৷ শীতল, দীঘির জল নীল মেঘের মত, দৃশ্য অতি মনোহর শথায় মন্থৃষ্যের সমাগম বিরল। ঘাটের উপরে একখানি দোকান, আছে মাত্র। নিকটে যে গ্রাম আছে, তাহারও নাম কালাদীঘি। |

এই দীঘিতে লোকে একা মআদিতে তয় করিত। দস্থাতার ভয়ে এখানে দলবদ্ধ না হইয়া (লাক মাসিত না। এই জন্য লোকে ্ডাকাতে কালা দীঘি? বলিত। দৌকানদারকে লোকে দন্াদিগের সহায় বলিত। আমার সে সকল ভয় ছিল না। মামার সঙ্গে অনেক লোক-যোল জন বাহক, চারি জন দ্বারবান, এবং অন্ঠান্য লোক ছিল।

খন আমর! এইখানে পৌছিলাম, তখন বেলা আড়াই প্রহর। বাহকেরা বলিল যে, “মরা কিছু জল-টল না খাইলে আর যাইতে পারি না।” দ্বারবানেরা বারণ করিল__বলিল, "এ স্ান ভাল নয় ।" বাহকেরা উত্তর করিল, দম্থামরা

ইন্দিরা

এত লোক আছি -আমাদিগের ভয় কি?" আমার সঙ্গের লোকজন ততক্ষণ কেই কিছু খার নাই | শেষে সকলেই বাতকদিগের অতে মত করিল। "দীঘির ঘাটে -বটভলার আমার পা্ধী নামাইগ আমি হাড়ে জলিয়া গেলাম। কোথার, কেবল ঠাকুর দেবতার কাছে মানিতেছি, শীদ্র পৌছি- কে।থার বেখারা পার্পী নামাইয় হ্বাটু করিয়া ময়লা গামছা ঘুধাইরা বাতাস খাইতে লাগিল! কিন্তু ছি! ভ্ত্রীজাতি বড় আপনার. বুঝে ! আমি বাইতেছি কাধে, তাভারা কাদে মামাকে বহিভেছে ; আমি যাইতেছি 'ভরা বৌবনে স্বামিসন্দশনে_-তাঁরা বাইতেছে খুলি পেটে এক মূঠা ভাতের সন্ধানে? তাঁরা একটু ময়লা গামছা খুরাইয়া বাতাস গাইতোছে বলিয়া কি আমার রাগ হইল ! ধিক্‌ ভরা যৌবনে এই ভাবিতে ভাবিতে আমি ক্ষণেক পরে, অনুভবে বুঝিলাম বে, লোকজন তফাৎ গিয়াছে। আমি তথন সাহস পাইয়া অগ্ দার খুলির! দীঘি দেখিতে লাগিলাম। দেখিলাম, বাঙকেরা মকলে দোকানের সম্খখে এক বটরক্ষতলে বসিয়া জলপান খাইতেছে পেই স্থান আমার নিকট হইছে প্রার দেড় বিঘা দেখিলাম বে, সন্ুগে অত নিবি অথের গার শিখা পাথকা বিভৃত বহিঘ্ধাছে, চারি পার্শে পব্বভশেণাবং উচ্চ মণ সুকোমণ হ্রামল ডুাবরণশোভিত “পাহাড়” পাহাড় এবং জলের মধো বিঠ৩ উমিতে দীর্ঘ বটবৃক্ষশেণী : পাহাড়ে অনেক গোবংদ চবিভছে মু সু ভরঙগঠিলে।নে গ্াটিক ভঙ্গ হানে : ক্ষান্রোন্ি প্রতিঘাতে কর্দাচিৎ জলজ পুষ্পপএ্র এবং নৈবাপ ছলিতেছে | দেখিতে পাইলাম বে, আমার ঘ্বারবানের।, অল নামা আশ করিতেন তাহাদের অঙ্গ»।লনে ভাড়িত ভইয়া শ্ত/মসলিলে শ্বেত মঞ্জাভার বিহ্সিপ হইতেছে আকাশ পানে চাহিয়া দেখিপাম, কি সুন্দর নীলিমা! কি সুন্দর শ্বেত

মেথের শুরপরম্পরের ম্দিবেচিরা কিবা নতভস্তলে উড্ডীন ক্ষুদ্র পক্ষী সকালের নীলিমামধো বিকান কষাপন্দনিবত্রণা শোভা! মনে মনে হহপ, এমন কোন বিগা নাই কি 715 মানব পাখী হইতে পারে? পাখী হহীতে পারিলে আমি এখনই উড়িয়া চিরবাঞ্িভের নিকট পৌছিতাম !

. আবার সরোবর, প্রতি চাহিয়া দেখিলাম-এবার একটু ভীত হইলাম, ধঙ্িলাম থে, বাহকেরা ভিন্ন আমার সঙ্গের লোক সকলেই এককালে ক্সানে সু সঙ্গে ছুই জন জ্লীলোক-_একজন শ্বশুরবাড়ীর, একজন বাপের

417৭ ঈন্দ ৮৮ 74

বাড়ীর, উভয়েই ভ্রলে। আমার মান একটু ভয় হইল-_কেহ নিকটে নাই. স্থান মন্দ, ভাল করে নাই। কি করি, আমি কুলবধূ, সথ ফুটিয়া কাঁাকে ডাকিতে পারিলাম না।

এমত সময়ে পাল্ধীর অপর পার্থখে কি একটা শব হইল। ধেন উপরিস্থ বটবৃক্ষের শাখা হইতে কিছু গুরু পদাথ পড়িন। আমি সে ধিকের কপাঁট অল্প খুলিয়া দেখিলাম দেখিলাম বে, একজন কষবণণ বিক্টীকার মন্! ওরে দ্বার বন্ধ করিলাম) কিন্ট শগণই বঝিলাম নে, মরে দান গুপিয়া রাখাই ভাল। কিন্ত আমি পুনণ্চ দার খুলিবার পূর্োই আর একডন আম গাছের উপর হইতে লাফাইর। পড়িল দেখিতে দিখিহ আর একজন, আপন একগন। এইরূপ চারি জন গ্রার এবকালেই গাছ হইতে গাফাইয়া পাড়ুছ। পাকা কাধে করিয়া উঠাইল। উঠাইয়া উদ্ধশ্বাসে ছুটিল।

দেখিতে পাইয়া আমার দ্বারবানেরা "কোন, হায় রে! কোন্‌ হায় রে!” রব তুলিয়া জল হইতে দৌড়িল। রর

তখন বুঝিলাম যে, আমি দস্থ্যহন্তে পড়িরাছি। তখন আর লঙ্জায় কি করে? পাল্গীর উভয় দ্বার নুক্ত করিগাম, কিন্ত দেখিলাম নি, আমার সঙ্গের সকল লোক অত্যন্ত কোলাহল করিরা পাঙ্থীর পিছনে দোড়িল। অতএব ভরসা হইল। কিন্ শীঘ্ঘই মে ভরগা দূর হহল। তথন পিকটগ্ত অন্যান্ঠ বৃক্ষ হইতে লাফাইয়া পড়িয়ী বনুপূখাক দন্স্য দেখা দিতে লাগিল আমি বলিয়াছি, ভলের ধারে বটবৃক্ষের শেণা সেই নক বুক্ষের নীচে দিয়া দারা পান্ধী লইয়া বাইতেছিল সেই সকল রুক্ষ তইতে মগ লাফাইরা পঠিতে লাখিন। আহাদের কাহারও হাতে বানের লাঠি, কাভারও হাতে গাছের ভালু

লোকসংখা। অধিক দেখিয়া আমার সঙ্গের লোকেরা পিছ্রাইয়া পড়িতে লাগিল। খন আমি নিতান্ত হতাশ্বা্স হইয়া মনে করিলাম, লাফাহর়া পড়ি। কিন্ত বাহকেরা যেরূপ দ্রতবেগে মাইভেছিল-ভাহাহে পাক্কা হতে নামিলো" আঘাত প্রাপ্তির মস্থাবনা। বিশেষতঃ একজন দ্য ভামা,ক লাঠি দেখাইয়া বলিল যে, “নামিবি মাথা ভাঙ্গিয়া দিব ।” শ্ুভরাং আমি নিরন্ত হইলাম

আমি দেখিতে লাগিলাম বে, একজন ছা।রবান অগ্রসর হইয়া জাসিয়! পান্ধী ধরিল, তখন একজন দু তাহাকে লাঠির আঘাত করিল (সে অচেতন হইয়া

: ইন্দির

মৃত্তিকাতে পড়িল। তাহাকে আর উঠিতে দেখিলাম না। বোধ হয়, দে আর উঠিল না। ইহা| দেখিয়া অবশিষ্ট রক্ষিগণ নিরম্ত হইল। বাহকেরা আমাকে নিবিবিদ্বে লইয়। গেল। রাত্রি এক প্রহর পর্য্যন্ত তাহারা এইরূপ বহন করিয়া পরিশেষে পাস্থী নামাইল। দেখিলাম, যেখানে নামাইল, সে স্থান নিবিড় বন__অন্ধকার। দন্্যরা একটা মশাল জালিল। তখন আমাকে কহিল, “তোমার যাহ! কিছু আছে, দাও--নইলে প্রাণে মারিব” আমার অলঙ্কার বস্াদি সকল. দিলাম__ অঙ্গের অলম্কারও খুলিয়া দিলাম। কেৰল হাঁতের বালা খুলিয়৷ দিই নাই-_ তাহারা কাড়িয়া লইল। তাহার! একখানি মলিন, জীর্ণ বন্তজর দিল, তাহা পরিয়া পরিধানের বহুমূল্য বস্ত্র ছাড়িয়া দিলাম। দস্থ্যুরা আমার সর্বস্ব লইয়া 'পান্ধী ভাঙ্গিয়! রূপ! খুলিয়া লইল | পরিশেয়ে অগ্নি জালিয়া ভগ্ন শিবিকা দাহ করিয়া দ্ধ্যতার চিহ্নমাত্র লোপ করিল।

তখন তাহারাও চলিয় যায়, সেই নিবিড় অরণ্যে অন্ধকাঁর রাত্রিতে আমাকে বগ্ঠ পশুিগের মুখে সমর্পণ করিয়া যায় দেখিয়া! আমি কীদিয়া উঠিলাম। আমি কহিলাম, “তোমাদের পায়ে পড়ি, আমাকে সঙ্গে লইয়া চল।” দস্থার সংসর্ণ৪ আমার স্পৃহণীয় হইল।

এক প্রাচীন দস্থ্য সকরুণ ভাবে বলিল, “বাছা, অমন রাঙ্গা মেয়ে আমর! কোথায় লইয়া যাইব? ডাকাতির এখনই সোহরৎ হইবে_-তোমার মত

রাঙ্গা সুয়ে আমাদের সঙ্গে দেখিলেই আমাদের ধরিবে |” না কহিল, "আমি ইহাকে লইয়া ফাটকে যাই, সেও ভাল, তবু ছাড়িতে পারি না।” সে আর যাহ! বলিল, তাহ! লিখিতে পারি না।__ এখন মনেও আনিতে পারি না। সেই প্রাচীন দস্থ্য দলের সর্দার। সে যুবাকে লাঠি দেখাইয়া কহিল, “এই লাঠির বাঁড়িতে এইখানেই তোর মাথা ভাঙ্গিয়া রাখিয়া বাইব। সকল পাপ কি আমাদের সয়?” তাহারা! চলিয়া! গেল।

শ্বশুরবাড়ী যাওয়ার স্থথ

এমনও কি কখনও হয়? এত বিপদ্‌, এত ছুঃখ কাহারও কখনও ঘটিয়াছে? কোখায় প্রথম স্বামিপন্দশনে যাইতেছিলাম-সব্বাঙ্গে রত্বালঙ্কার পরিয়া, কত সাধে চুল বাধিয়া, সাধের সাজা গানে অকলুধিত ওষ্ঠাধর রগ্সিত করিয়া, সুগন্ধে এই কোমারগ্রফু্র দেহ আমোদিত করিয়া এই উনিশ বংসর লইয়া, গ্রথম . স্বামিসন্র্শনে ঘাইতেছিলাম, কি বলিয়া এই অমূল্য রত্র তাহার পাদপন্মে উপহার দিব, তাই ভাবিতে ভাবিতে মাইতেছিলাম ;--অকম্মাৎ তাহাতে কি বজ্জাঘাত ! পৰ্বালঙ্কার কাড়িয়া লইয়াছে,-লউক) জীণ মলিন দুর্গন্ধ বস্ত্র পরাইয়াছে,_ পরাক্‌; বাঘ-ভালুকের মুখে সমর্পণ করিয়া গির়াছে,-যাক্‌; ক্ষুধাতৃষ্ণায় প্রাণ যাইন্তেছে,_-তা ঘাক্‌--প্রাণ আর চাহি না, £খন গেলেই ভাল; কিন্তু যদি প্রাণ না যায়, ঘদি বাচি, তবে কোথায় ঘাইব? মার তাঁকে দেখা হইল না বাপ মাকেও বুঝি দেখিতে পাইৰ ন!! কীদিলে কান। ফুরায় না।

তাই কাদিব না বলিয়া স্থির করিতোছিলাম। চক্ষুর জল কিছুতেই থামিতে ছিল না, তবু চেষ্টা করিতেছিলাম_-এমন সময়ে কি একটা বিকট গর্জন হইল। . মনে করিলাম, বাঘ। মনে একটু আহ্লাদ হইল। বাগে গাইলে সকল জালা জুড়ায়। হাঁড় গোড় ভাঙ্গিয়া, রক্ত শুষিয়া খাইবে, ভাবিলাম, তাও সহ করিব) শরীরের কষ্ট বৈত না মরিতে পাইব, সেই পরম সুখ অভএব কানা বদ্ধ করিয়া, একটু প্রফুল হইয়া, স্িরভাবে রহিলাম, বাঁথের প্রতীক্ষা করিতে লাগিলাম। পাতার বার ঘস্‌ ঘস্‌ শব্দ হয়, তত বার মনে করি, সর্বদঃঘহর প্রাণকিগ্ধকর বাঘ আপিতেছে। কিন্য অনেক রাত্রি হইল, তবুও বাঘ আসিল না। হাশ হইলাম। তখন মনে হইল-নেখানে বড় বৌপ জঙ্গল, সেইখানে সাপ গাকিতে পারে। সাপের ঘাড়ে পা দিবার আশায় (সেই জঙ্গলের ভিতৰ প্রবেশ করিলাম, তাহার ভিতরে কত বেড়াইলাম। হাঁয়! মন্নম্য দেখিলে সকলেই পলায় _ বনমধ্যে কত সর্‌ সর্‌ ঝট পট্‌ শন্দ শুনিলাম, কিন্ত সাপের ঘাড়ে পা পড়িল না; মামার পায়ে অনেক কীটা দুটিল, অনেক বিঢুটি লাগিল, কিন্ত কৈ? .. সাঁপে ;

ইন্দিরা

কামড়াইল না। আবার হতাশ হইয়া ফিরিয়া আঁসিলাম, ক্ষুধা তৃষ্টায় ক্লান্ত হইয়াছিলাম--আর বেড়াইতে পারিলাম না। একটা পরিষ্কার স্থান দেখিয়া বসিলাম। সহসা সম্মুথে এক ভন্লুক উপস্থিত হইল-__মনে করিলাম, ভালুকের হাতেই মরিব। ভাঁলুকটাকে তাড়া করিয়া মারিতে গেলাম। কিন্তু হায়! তালুকটা আনায় কিছু বলিল না। সেগিয়া এক বৃক্ষের উপর উঠিল। বৃক্ষের উপর হইতে কিছু পরে ঝন্‌ করিয়া সহস্র মক্ষিকার শব্ধ হইল। বুঝিলাম, এই বৃক্ষে মৌচাক আছে, ভালুক জানিত; মধু লুটিবার লোভে আমাকে ত্যাগ করিল।

শেষ রাত্রিতে একটু নিদ্রা আমিল- -বসিয়া বসিয়৷ গাছে ভেলান দিয়া আমি ঘুমাইয়া পড়িলাম।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ এখন যাই কোথায়?

যখন আমার ঘুম ভাঙ্গিল, তখন কাক কোকিল ডাকিতেছে--বাশের পাতার ভিতর দিয়া টুকরা! টুক্রা রৌদ্র আদিয়া পৃথিবীকে মণিমুক্তায় মাজাইয়াছে। আলোতে প্রথমেই দেখিলাম, আমার হাতে কিছু নাই, দস্থ্যর৷ প্রকোষ্ঠালস্কার সকল কাড়িয়। লইয়া বিধবা সাঙজাইয়াছে। বা হাতে এক টুকরা লোহা আছে__ কিন্তু দাহিন হাতে কিছু নাই। কীদিতে কাদিতে একটু লতা ছি'ড়িরা দাহিন হাঁতে বাধিলাম।

তায় পর চারি দিক, চাহিয়া দেখিতে দেখিতে, দেখিতে পাইলাম যে, আমি যেখানে বসিয়৷ ছিলাম, তাহার নিকট অনেকগুলি গাছের ডাল কাটা; কোন .গাছ সমূলে ছিন্ন, কেবল শিকড় পড়িয়া আছে। ভাবিলাম, এখানে কাঠুরিয়ারা আসিয়। থাকে তবে গ্রামে যাইবার পথ আছে। দিবার আলোক দেখিয়া আ'বার বাচিবার ইচ্ছা হইয়াছিল-- আবার আশার উদয় হইয়াছিল ;-উনিশ বৎসর বৈ বয়স নয়! সন্ধ্যন করিতে করিতে একটা অতি অম্পষ্ট পথের রেখা

ইন্দিরা

দেখিতে পাইলাম। তাই ধরিয়া চলিলাম। যাইতে বাইতে পথের রেখা আরও স্পষ্ট হইল। ভরসা হইল গ্রাম পাইৰ।

তখন আর এক বিপদ্‌ মনে হইল-গ্রামে যাওয়া হইবে না। যেছেড়া সুড়া কাপড়টুকু ডাকাইতেরা৷ আমাকে পরাইয়া দিয়া গিয়াছিল, তাহাতে কোন মতে কোমর হইতে আঁটু পধ্যন্ত ঢাকা গড়ে আমার বুকে কাপড় নাই। কেমন করিরা লোকালয়ে কালামুখ দেখাইব? যাওয়া হইবে নাঁ_এইখানে মত্নিতে হইবে। ইহাই স্থির করিলাম

কিন্তু পৃথিবীকে রবিরশ্বিপ্রভাসিত দেখিয়া, পক্ষিগণের কলকুজন শুনিয়া, লতায় লতায় পুষ্পরাশি ছুলিতে দেখিয়া আবার বাচিবার ইচ্ছা প্রবল হইল। খন গাছ হহতে কতক গুলা পা ছিড়িয়া ছোটা দিয়। গাথিয়া, তাহা কোমরে গলায় ছোট দির! বাধিলাম। এক রকম লঙ্জ। নিবারণ হইল, কিন্ পাগলের মত দেখাইভে লাগিল তখন সেই পথ ধরিয়া চলিলাম। যাইতে যাইতে. গরুর ডাক শুনিতে পাইলাম বুঝিলাম, গ্রাম নিকট।

কিন্তু আর চলিতে পারি না। কখনও চলা অভ্যাস নাই। ভার পর সমস্ত রাত্রি জাগরণ, রাত্রির সেই অদহ্‌ মানসিক শারীরিক ক; কুধা তৃষা। আমি অবসন্ন হইয়া পথিপার্স্থ এক বুক্ষভলে শুইয়া পড়িলাম। শুইবা মাত্র নিদ্রাভিভূত হইলাম

নিদায় স্বপ্ন দেখিলাম বে, মেঘের উপর বসি ইন্দ্রাণয়ে শ্বশুরবাড়ী গিয়াছি। স্বয়ং রতিপতি যেন আমার স্বামী--রতিদেবী আমার সপতী--পারিজাত লইরা তাহার সঙ্গে কোনদল করিতেছি এমন সময়ে কাহারও স্পর্শে ঘুম ভাঙ্গিল। দেখিলাম, একজন বুবা পুরুষ, দেখিয়া (বাধ হইল, ইতর অগ্তযজ জাতীয়, কুলী মজুরের মত, আমার হাত ধরিয়া টানিতেছে সৌভাগরক্রমে একখানা কাঠ সেখানে পড়িয়াছিল। ভাহা তুলিয়া লহ দুরাইয়া সেই পাপিষ্ঠের মাথায় মান্দিলাম। কোথায় জোর পাইলাম জানি না, সে ব্যক্তি মাথায় হাত দিয়া উ্ধৃস্বাসে পলাইল।

কাঠথানা আর ফেলিলাম না; ভাহার উপর ভর করিরা চলিলাম। অনেক পথ হাটিয়া, একজন বৃদ্ধা ক্ত্রীলোকের সাক্ষাৎ পাইলাম্দ। সে একটা গাই তাড়াইয়া লইয়া যাইতেছিল।

তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলাম দে, মভেশপুর কোথান্ন? মনোহরপুরই বা

১০ ইন্দিয়া কোথায়? প্রাচীন! বলিল, “মা, তুমি কে? অমন সুন্দর মেয়ে কি পথে থাটে একা বেরুতে আছে? আহা মরি, মরি, কি রূপ গা! তুমি আমার ঘরে আইদ।” তাহার ঘরে গেলাম। সে আমাকে ক্ষুধাতুরা দেখিয়া গাইটি ছুইয়া একটু ছুধ খাইতে দিল। সে মতেশপুর চিনিত। তাহাকে আমি বলিলাম যে, তোমাকে টাক! দেওয়াইব_তুমি আমাকে সেখাঁডন রাখিয়া আইস। তাহাতে দে কহিল যে, আমার ঘর সংসার ফেলিয়া যাইব কি প্রকারে? খন সে যে পথ বলিয়া দিল, আমি দেই পথে গেলাম। সন্ধ্যা পর্যন্ত পথ হাটিলাম- তাহাতে অত্যন্ত শ্রান্তি বোধ হইল। এক জনু পথিককে জিজ্ঞাসা করিলাম, “হা গা, মহেশপুর এখান হইতে কত দূর?” দে আমাকে দেখিয়া স্তস্তিতের মত রহিল অনেকক্ষণ চিন্তা করিয়া কহিল, “তুমি কোথা হইতে আসিয়াছ?” যে গ্রামে প্রাচীনা আমাকে পথ বলিয়া দিয়াছিল, জামি সেই গ্রামের নাম করিলাম। তাহাতে পথিক কহিল যে, "তুমি পথ তুলিয়াছ, বরাবর উল্টা আসিয়াছ। মহেশপুর এখান হইতে এক দিনের পথ।”

আমার মাথা ঘুরিয়া গেল। আমি তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলাম, “তুমি কোঁথায় যাইবে?” সে বলিল; “আমি এই নিকটে গৌরীগ্রামে বাইব।” আমি অগত্যা তাহার পশ্চাৎ পশ্চাৎ চলিলাম।

গ্রামমধ্যে প্রবেশ করিয়া সে আমাকে জিজ্ঞাসা করিল, “তুমি এখানে কাহার বাড়ী যাইবে?” . আমি কহিলাম, “আমি এখীনে কাহাকেও চিনি না। একটা গাছ লয় শয়ন করিয়া থাকিব” পু

পথিক কহিল, “তুমি কি জাতি?”

আমি কহিলাম, “আমি কায়স্থ।”

সে কহিল, “আমি ত্রাঙ্ষণ। তুমি আমার সঙ্গে আইল। তোমার ময়লা মোটা কাপড় বটে, কিন্তু তুমি বড় ঘরের মেয়ে। ছোট ঘরে এমন রূপ হয় না।”

ছাই রূপ! রণ, রূপ শুনিয়। আমি জালাতন হইয়া উঠিয়াছিলাম, কিন্ত এ্রাঙ্গণ প্রীচীন, আমি তাহার সঙ্গে গেলাম।

আমি সে রাত্রে ব্রাহ্মণের গৃহে ছুই দিনের পর একটু বিশ্রাম লাভ করিলাম এই দদ্ালু বৃদ্ধ ব্রাহ্মণ যাজক, পৌরোহিত্য করেন। আমার বঙ্তের অবস্থা

ইন্দিরা ১১

দেখিয়া বিন্মিত হইয়! জিজ্ঞাপা করিলেন, “মা, তোমার কাপড়ের এমন দশা কেন? . তোমার কাপড় কি কেহ কাঁড়িয়া লইয়াছে?” আমি বলিলাম, "আজ্ঞা হা।” তিনি যজমানদিগের নিকট অনেক কাপড় পাইতেন-__ছুইখানা খাটো বহরের চৌড়া। রাঙ্গাপেড়ে দাড়ী আমাকে পরিতে দ্িলেন। শশীকার কড়ও তার ঘরে ছিল, তাঁহাও চাহিয়া! লইয়া পন্ধিাম।

সকল কাঁ্য সমাঁধা করিলাম__অতি কষ্টে। শরীর ভাঙ্গিয়া পড়িতেছিল। ব্রাহ্মণ ঠাকুরাণী ছুটি ভাত দিলেন_খাইলাম। একটা মাছুর দিলেন, পাতিয়৷ শুইলাম কিন্তু এত কষ্টেও ঘুমাইলাম না। আমি যে জন্মের মত গিয়াছি-_আমার যে মরাই ভাল ছিল, কেবল তাহাই মনে পড়িতে লাগিল। ঘুম হইল না।

প্রভাতে একটু ঘুম আসিল। আবার একটা স্বপ্ন দেখিলাম। দেখিলাম সম্বথে অন্ধকারময় যমমৃদ্ধি, বিকট দংগ্বারাশি প্রকটিত করিয়া হাসিতেছে। আর ঘুমাইলাম না| পরদিন পরাতে উঠিয়া দেখিলাম যে, আমার অত্যন্ত গা বেদনা হইয়াছে | পা ফুলিয়া উঠিয়াছে, বসিবার শক্তি নাই।

যত দিন ন! গায়ের বেদনা! আরাম হইল, ভতদিন আমাকে কাজে কাজেই ব্রাহ্মণের গুহে থাকিতে হইল। ব্রাহ্মণ তাহার গৃহিণী আমাকে যত করিয়া রাখিলেন। কিন্তু মহেশপুর যাইবার কোন উপায় দেখিলাম না। কোন জীলোকই পথ চিনিত না, অথবা যাইতে স্বীকার করিল না। পুরুষে অনেকেই স্বীকৃত হইল--কিন্ত তাহাদিগের সঙ্গে একাকিনী যাইতে ভয় করিতে লাগিল। ্রাঙ্মণও নিষেধ করিলেন, “উহাদিগের চরিত্র ভাল নহে, উহাদিগের সঙ্গে যাইও না। উহাদের কি মতলব বলা যায় না। আঁমি ভদ্রসস্তান হইয়া তোমার তায় সুন্বরীকে পুরুষের সঙ্গে কোথাও পাঠাইতে পারি না।” নুদ্তরাং আমি নিরস্ত হইলাম।

এক দিন শুনিলাম যে, গ্রামের কৃষ্ণদাস বন্গু নামক একজন ভদ্রলোক সপরিবারে কলিকাতায় যাইবেন। শুনিয়া আমি উত্তম স্ুযৌগ বিবেচন! করিলাম। কলিকাতা হইতে আমার পিত্রালয় শ্বশুরালয় অনেক দূর.বটে, কিন্তু সেখানে আমার জ্ঞাতি খুল্লতাত বিষয়কম্মোপলক্ষে বাস করিতেন আমি ভাবিলাম যে, কলিকাতায় গেলে অবস্ঠ খুল্লতাতের দন্ধান পাইৰ। তিদি অবস্ঠ আমাকে পিত্লয়ে পাঠাইয়৷ দিবেন। নাহয় আমার মিভারেলানা দিবেন।

১২ ইন্দিরা

আমি এই কথা ত্রাহ্মণকে জানাইলাম। ত্রাঙ্গণ বলিলেন, “এ উত্তম বিবেচনা করিয়াছ। কৃষ্ণদাস বাধু আমার যজমাঁন। সঙ্গে করিয়া লইয়৷ বলিয়া দিয়া আনিব। তিনি প্রাচীন, আ'র বড় ভাল মানুষ”

ব্রাঙ্গণ আমাকে কৃষ্ণনাস বাবুর কাছে লইম্- গেলেন। ত্রীন্মণ কহিলেন, “এটি ভদ্রলোকের কন্তা, বিপাকে পড়িয়া পথ হারাইয়া দেশে আসিয়া পড়িয়াছে আপনি যদি ইহাকে সঙ্গে করিয়া কলিকাতায় লইয়া! যান, তবে অনাথা আপন পিরালয়ে পহুছিতে পারে।” কৃষ্দাঁস বাবু সম্মত হইলেন। আমি তাহার অন্তঃপুরে গেলাম। পরদিন তাহার পরিবারস্থ স্্রীলোকদিগের সঙ্গে, বন্্ মহাশয়ের পরিবার কর্তৃক অনাদৃত হইয়াও, কলিকাতায় ঘাত্রা করিলাম। প্রথম দিন, চারি পাচ ক্রোশ হাটিয়া পঙ্গাতীরে আসিতে হইল। পরদিন নৌকায় উঠিলাম।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ

* বাজিয়ে াব মল

আমি গঙ্গা কখনও দেখি নাই। এখন গঙ্গা দেখিয়া, আহলাদে প্রাণ ভরিয়া গেল। আমার এত ছুঃখ মুহূর্ত জন্য সব ভূলিলাম। গঙ্গার এশস্ত হৃদয় ! তাহাতে ছোট ছোট ঢেউ-ছ্বোট ঢেউর উপর রৌদ্র চিকিমিকি-বত দূর চক্ষ বার তত- দূর জল জলিতে জলিতে ছুটিয়াছে-_তীরে কুঞ্জের মত সাজান বৃক্ষের অনন্ত শ্রেণী) জলে কত রকমের কত নৌকা; জলের উপর দীড়ের শব্দ, জলের উপর কোলাহল, তীরে ঘাটে ঘাটে কোলাহল; কত রকমের লৌক, কত রকমে ন্নান করিতেছে আবার কোথাও সাদা! মেঘের মনত অনীম সৈকত ভূমি তাতে কত প্রকারের পক্ষী কত শব্দ করিতেছে। গঙ্গা যথার্থ পুণাময়ী। অতৃণ নয়নে কয় দিল দেখিতে দেখিতে আসিলাম।

যে দিন কলিকাতায় পৌছিব, তাহার পূর্ববদিন, সন্ধ্যার কিছু পূর্বে জোয়ার আদিল। (নীকা' আর গেল না। একখানা ভদ্র গ্রামের একটা বাধা ঘাটের

ইন্দিরা ১৬ নিকট আমাদের নৌকা লাগাইয়া রাখিল। কত স্থুনর জিনিস দেখিলাম ) জেলেরা মোচার খোলার মত ডিঙ্গীতে মাছ ধরিতেছে, দেখিলাম ত্রাঙ্গণ পণ্ডিত ঘাটের রাণাঁর বপিয়। শীন্ত্রীর বিচার করিতেছেন, দেখিলাম। কত সুন্দরী, বেশভূষা করিয়া জল লইতে আসিল। কেহ জল ফেলে, কেহ কলসী পুরে, কেহ আবার ঢালে, আবার পুরে, আর হাসে, গল্প করে, আবার “ফলে, আবার কলসী ভরে। দেখিয়া আমার প্রাচীন গীতটি মনে পড়িল,

(একা কীকে কুস্ত করি, কলসীতে জল ভরি, জলের ভিতর শ্ঠামরাঁয় ! কণসীতে দিতে ঢেউ, আর না'দেখিণাম কেউ,

পুন কান জলেতে লুকায়।) সেই দিন সেইখানে ছুইটি মেয়ে দেখিয়াছিণাম, তাহাদের বপন ভুলিব না। নেয়ে ছইটির বরন সাত অটি বংসর / (েখিতে বেশ, তবে পরম ুন্দরীও নয়। কিন্ত সাজিয়াছিণ ভাল কানে হুল, হাতে আর গলার এক এরুখান! গহনা | ফুণ দিয় খোপা বেড়িয়াছে রঙ্গ করা শিউলাফুলে ডোবান, ছুহপাশি কাঁলা- পেড়ে কাপড় পরিয়াছে। পারে চারি গাছি করিয়। মণ আছে। কাকালে চটি ছোট দুইটি কশসা আছে | তাহারা ঘাটের রাণায় নামিবার সময়ে জৌরাবের জলের একট। গান গাহিঠে গাহিতে নামিল। গানটি মনে আছে, মিষ্ট লাগিয়াছিল, ভাই এখানে লিখিলাম। এক র্ন এক এক পদ গায়, আর এক জন দ্রিতীর পদ পায়। তাদের নাম শুনিগাম, অমলা আর নিশ্মলা। প্রথমে গাযিল, অমণ। পানের শেতে ঢেউ উঠেছে, বাশ ভপাতে জল মার আর সই, জল আনিগে, জল আনিগে চল নিশ্মলা ঘাটটি জুড়ে, গাছটি বেড়ে, ফুটল ফুলের দল।

১৪

ইন্দিরা আর আয় সই, জল আনিগে, জল আনিয়ে চল মলা বিনোদ বেশে মুচকে হেসে, খুলব হাসির কল। কলমী ধরে গরব করে বাজিয়ে বাব মল। আর আর সই, জল আনিগে জব মানিগে চল॥ নিম্মল! গহণা গায়ে আপতা পারে, কক্কাদার অ/চল। টিমে ঢাণে, তালে তালে, বাজিয়ে যাব মল। আঁর আয় সই, জল আনিগে, জল আঁনিগে চল। অমলা থত ছেলে, খেলা ফেলে, ফিরচে দলে দলে কত বুড়ী, জুজতুবড়ী ধরবে'কত জল, আমরা মুচকে হেসে, বিনোদ বেশে বাজিয়ে যাৰ মল! আমরা বাজিয়ে যাব মল, সই বাজিয়ে যাব মল ছুই জনে আয় আয় ই, জল আনিগে, জল আনিগে চল।

বাবিকাপিঞিত হনে, জীবন কিছু শীতন হইল। আমি বি

ইন্দিরা ১৫

অই গান শুনিতেছি, দেখিয়া বনজ মহাশয়ের সহধশ্মিণী আমাকে জিজ্ঞাস! করিলেন, “ও ছাই গান আবার হা করিয়া শুনচ কেন?” আমি বলিলাম, “ক্ষতি কি?”

বন্থজপত্বী। ছুঁড়ীদের মরণ আর কি? মল বাজানর আবার গান !

আমি। (ষোল বছরের মেয়ের মুখে তাল শুনাইত না বটে, সাত বছরের মেয়ের মুখে বেশ শুনায়। জৌয়ান মিন্ষের হাতের চড় চাপড় জিনিস তাল নহে বটে, কিন্ত তিন বছরের ছেলের হাতের চড় চাপড় বড় মিষ্ট)

বস্থজপত্রী আর কিছু না বলিয়া, ভারি হইয়া বসিয়া রহিলেন। আমি ভাবিতে লাগিলাম। (ভাবিলাম, প্রভেদ_কেন হয় টি এক জিনিস ছু রকম লাগে কেন? যে দীন দরিদ্রকে দিলে পুণ পুণ্য হয়, তাহা বড়মানুষকে দিলে খোধামোদ বলিয়া গণ্য হয় কেন? বে সত্য ধন্মের প্রধান, অবস্থাবিশেষ তাহা আত্মন্ীঘা বা পরনিন্দা পাপ হয় কেন? যে ক্ষমা পরমধন্ম, হুক্ধতকারীর প্রতি প্রযুক্ত হইলে, তাহা মহাপাপ কেন? সত্য সতাই কেহ জ্ীকে বনে দিয়া আসিলে লোকে াহাকে মহাপাপী বলে; কিন্তু রামচন্ত্র সীতাকে বনে দিয়াছিলেন, তাহাকে কেহ মহাপাপী বলে না কেন 9

ঠিক করিলাম, অবস্থাভেদে সকল হয়। কথাটা আমার মনে রহিল। আশমি-ু্হার পর এক দিন বে নিলঞ্জ কাজের কথা বলিব, তাহা এই কথা রর করিয়া করিয়াছিলাম। তাই গানটা এখানে লিখিলাম। রর

নৌকাপথে কলিকাতা আসিতে দূর হইতে কপিকাতা দেখিয়া, বিশ্মিত ভীত হইলাম। অট্রালিকার পর অদ্রালিকা, বাড়ীর গায়ে বাড়ী, বাড়ীর পিঠে বাড়ী, তার পিঠে বাড়ী, অট্রালিকার সমুদ্র ;-তাহার অন্ত নাই, সংখা নাই, সীমা নাই। জাহাজের মান্তলের অরণ্য দেখিয়া জ্ঞান বুদ্ধি বিপধ্যস্ত হইয়৷ গেল। 'নোকার অসংখ!, অনন্ত শ্রেণী দেখিয়া মনে হইল, এত নৌকা মানুষে গড়িল কি প্রকারে ?* নিকটে আসিয়া দেখিলাম, তীরবর্তী রাজপথে গাড়ি পাকী পিপড়ের সারির মত চলিয়াছে---ঘাহারা হাটিয়া বাইতেছে, তাহাদের স্খ্যার কথাই নাই। তখন মনে হইল, হহীর ভিতর খুড়াকে খুঁজি বাহির করিব কি প্রকারে? নদদীনৈকতের বালুকারাশির ভিতর হইতে, চেনা বা খুিয়া বাহির করিব কি প্রকারে £ চি

কনিকাতার এসবে নৌকার মখা পুর্ববার শঠাংশও নাই 1

ষঠ পরিচ্ছেদ

সুবো কষ্ণপাদ বাণু কণিকাহার কালীঘাটে পূজ1 দিতে আসিয়[ছিলেন। ভবানীপুরে বাসা করিলেন। ম্বামাকে দ্রিজ্ঞান। কাঁরলেন, “তোমার খুড়ার বাড়ী কোথায়? কলিকাতায় না ভবানীপুরে ?” তাহা আমি জানিভাম না। . জিজ্ঞাসা করিলেন, “কলিকাতায় কোন্‌ জায়গায় তাহার বাসা ?” তাহা আমি কিছুই জানিতাম না--আম জানিতাম, যেমন মহেশপুর একণানি গঞ্তগ্রাম। কলিকাতা তেমনই একগানি গণ্যগ্রাম মাত্র। এক জন .ন্দপোকের নাম করিলেই পেকে বলিষ্কা। দিবে এখন দেখিলাম যে, কলিকাতা অনস্ত অট্রাপিকার দমুদ্রবিশেষ আগার জ্ঞাতি খুড়াকে সন্ধান করিবার কোন উপায় দেখিলাম না কুঞ্চদাঁস বাবু আমার হইয়া অনেক সন্ধান করিলেন, কিন্ত কলিক।হার এক গন সামান্য গম লোকের ওরূপ সন্ধান কৰ্ষিলে কি ভবে? কুষণদাস বাবু কালীর পুজা দিয় কাশা যাইবেন, কল্পনা ছিল। পুভা। দেওর। হহল, এক্ষণে সপরিবারে কাধ যাইবার উদ্ভোগ করিতে লাগিলেন তাহার পত্থী কহিলেন, “তুমি আমার, কথা শুন। এখন কাহারও বাড়ীতে দাসীপনা কর। আজ মুবী আসিবার কথা আছে, তাঁকে বলিয়া দিব, বাড়ীতে তোমায় চাঁকরাণী রাধিবে ।” আমি শুনিয়া! আছড়াইয়া পড়িয়! উচ্চৈঃস্বরে, কীদিতে লাগিলাম। “শেষ কি কপালে দাসীপনা ছিল!" আমার ঠোট কাটিয়া রক্ত পড়িতেছিল। কুষ্গদাস যাবুর দয়া হইল সনোহ নাই, কিন্তু তিনি বলিলেন, “আমি কি করিব?” সে কথা সত্য ;--তিনি কি করিবেন? আমার কপাল! আমি একটা থরের ভিতর গিয়া একটা কোণে পড়িয়া কীদিতে লাগিলাম সন্ধার অল্প পুর্ব কৃষ্ণদান বাবুর গিব্লী আমাকে ডাকিলেন। আমি বাছির হইয়া তাহার কাছে গেলাম! তিনি বলিলেন, “এই স্ুবো এয়েছে। তুদি রদ ওধের বাড়ী নি থাক, তবে বলিয়া দিই |"

ইন্দিরা ১৭

ঝি থাকিব না, না থাইয়া৷ মরিব, সে কথা স্থির করিয়াছি ;_কিস্ত এখনকার সে কথা নহে--এখন একবার স্থবোকে দেখিয়া লইলাম। পস্ুবো” . শুনিয়া আমি ভাবিয়া রাখিয়াছিলাম যে “সাহেব স্থুবো” দরের একটা কি জিনিস _আমি তখন পাড়াগীয়ে মেয়ে। দেখিলাম, তা! নয়__একটি জীলোৌক-_ দেখিবার মত সামগ্রী। অনেক দিন এমন ভাল সামগ্রী কিছু দেখি নাই। মানুষটি আমারই বয়লী হইবে রঙ আমা অপেক্ষা যে ফরসা! তাও নয়। বেশতৃষা এমন কিছু নয়, কানে গোটাকতক মাকড়ি, হাতে বালা, গলায় চীক, একখানা কালাপেড়ে কাপড় পরা তাতেই দেখিবার সামগ্রী। এমন মুখ দেখি নাই। যেন পদ্মটি ফুটিয়! আছে-_চারি দিক্‌ হইতে সাপের মত কৌকড়া টুলগুলা ফণা উুলিয়া পদ্মটা থেরিয়াছে। খুব বড় বড় চোখ-কখন স্থির, কখন হাসিতেছে। ঠোট ছুইথানি পাতলা রাঙ্গা টুকটুকে ফুলের পাপড়ির মত উপ্টান, মুখখানি ছোট, মবশ্তদ্ধ যেন একটি ফুটন্ত ছুল। গড়ন পিটন কি রকম, তাহা ধরিতে পারিলাম না। আমগাছের যে ডাল কচিয়া যায়, দে ডাল যেমন বাতাসে খেলে, সেই রকম তাহীর সর্বাঙ্গ খেলিতে লাগিল--যেমন নদীতে ঢেউ থেলে, তাহার শরীরে তেমনই. কি এতটা খেলিতে লাগিল--আমি কিছু ধরিতে পারিলাম না, তাঁর মুখে কি একটা যেন মাথান ছিল, তাহাতে আমাকে যাছু করিয়া ফেলিল। পাঠককে স্রণ করিয়া দিতে হইবে না যে, আমি পুরুষ মানুষ 'নহি_-মেয়ে মাহৃয-_নিজেও এক দিন একটু লৌনর্মাগবিকি্তা ছিলাম স্থবোর সঙ্গে একটি তিন বছরেয় ছেলে, _েটিও তেমনি একাটি আধদুটন্ত ছুল। উঠিতেছে, পড়িতেছে, বসিতেছে,/ খেলিতেছে, হেলিতেছে, ছুলিতেছে, দৌড়াইতেছে, হাসিতেছে, বকিতেছে,: মারিতেছে, সকলকে আদর করিতেছে 01৮ খু /

আমি অনিমেষলোচনে হুবোকে 'হার ছেলেকে দেখিতেছি দেখিয়া, রুষদাস বাবুর গৃহিণী চটিয়া উঠিয়। বলিলেন, “কথার উত্তর দাও ঘেভাব কি?”

আমি জিজ্ঞাসা করিলাম, “উনি কে ?”

গৃহিণী ঠাকুরাণী ধমকাইয়া বলিলেন, “তাঁও কি বলিয়া! দিতে হইবে? ম্ুবো, আর কে ?”

তখন স্থবো একটু হাসিয়। বলিল, “তা মাীমা, একটু বলিয়। দিতে হয় বৈ ক? উনি নূতন লোক, আমায় চেনেন না।” এই বলিয়া স্থবো আমার মুখ

৬৬---২

১৮ ইন্দিরা

পানে চাহিয়া বলিল, “মামার নাম স্ুভাষিণা গো-ইনি আমার মাসীমা, আমাধে ছেলেবেণ। থেকে ওরা সুবো বলেন ।”

ভার পর কার হুত্রটা গৃহিণী নিজ হস্তে তুলিয়া লইলেন। বলিলেন “কলিকাভার রামরাম দণ্ডের ছেলের সঙ্গে ওর বিয়ে হয়েছে তারা বড় মানুষ ছেলেনেল। থেকে শ্বশুরবাড়ীই থাকে --আমরা কখন দেখিতে পাই না আজি -কাণিথাটে এপেছি শুনে আমাকে একবার দেখা দিতে এসেছে ওরা বড় মানুষ বড় মনুযের বাড়ী মি কাজকন্ম করিতে পারিবে ?”

আমি হরমোহন দণ্ডের মেয়ে, টাকার গদিতে শুইতে চাহিয়াছিলীম--আ . বড় মানুষের বাড়ী কাঁজ করিতে পার়িব ত? আমার চোখে জলও আদিল. মুখে হাসিও আমিল। |

তাহা আর কেহ দেখিল না স্ুজীষিণী দেখিল। গৃহিণীকে বলিল, “আমি একটু আড়ালে গে মকল কথা শুকে বলি গে। যদি উনি রাজি হন, তবে সঙ্গে করিয়া লইয়া যাইব” এই বলিয়া! সভাধিণী আমার হাত ধরিয়া টানিয় একটা থরের ভিতর লইয়। গেল। সেখানে কেহ ছিল না। কেবল ছেলেটি মার সঙ্গে সঙ্গে দৌড়াইয়া গেল। একখানা তক্তপোষ পাতা ছিল। স্ুভাষিণী তাহাতে বসিল--আমাকে হাত ধরিয়া! টানিয়া বসাইল। বলিল, “আমার নাম না জিগ্ঞাসা করিতে বপিয়াছি। তোমার নাম কি ভাই?”

“ভাই!” ঘদি দাসীপনা করিতে পারি, তবে ইহার কাছে পারি, মনে মনে ইহা ভাবিয়াই উত্তর করিলাম, “আমার ছুইটি নাম--একটি চলিত, একটি অগ্রচলিত। ঘেটি অপ্রচলিত, তাহাই ইহাদিগকে বলিয়াছি ; কাজেহ আপনার কাছে এখন তাতাই বলিব। আমার নাম কুমুদিনী ।”

ছেলে বলিল, “কুন্ডিনী”

স্ুভাষিণী বলিল, “মার নাম এখন নাই শুনিলাম, জাতি কায়স্থ বটে?”

হাপিয়৷ বলিলাম, “আমরা কাযস্থ।”

সুভাধিণী ধলিল, “কার মেয়ে, কার বউ, কোথায় বাড়ী, তাহা এখন জিজ্ঞাসা করিব না। এখন যাহা বলিব, তাহা শুন। তুমি বড় মানুষের মেয়ে, তাহা আছি জানিতে পারিয়াছি--(তামার হাতে গলা, গহনার কালি আজিও রহিয়াছে: তোমাকে দীসীপনা করিতে বলিব না-তুমি কিছু কিছু রাধিতে ভান না কি ?"

আমি বলিলাম, “জানি রান্নার আমি পিত্রালয়ে বশস্বিনী ছিলাম |”:

্‌ ইন্দিরা ১৯

গ্বভাষিণী বলিল, “আমাদের বাড়ীতে আমরা সকলেই রাধি (মাঝখান থেকে ছেলে বূলিল, “মা, আমি দীদি”) তবু, কলিকাতাঁর রেওয়াজমত একটা পাচিকাও আছে। সে মাগিটা বাড়ী, যাইবে। (ছেলে বলিল, “ত মা বালী দাই” ) এখন মাকে বলিয়া তোমাকে তার জায়গায় রাখাইয়া দিব। তোমাকে রাধুনীর মত রীধিতে হইবে না। আমরা সকলেই রাধিব, তাঁরই সঞ্ে তৃমি ছুই এক দিন রীধিবে। কেমন রাজি ?”

ছেলে বলিল, “আজি? আজি?”

মা বলিল, “তুই পাজি ।”

ছেলে বলিল, “আমি বাবু বাবা পাজি।”

“অমন কথা বলতে নেই বাবা!” এই কথা ছেলেকে বলিয়া আমীর মুখ পানে চাহিয়া হাদিয়া স্থভাষিণী বলিল, “নিত্যই বলে।” আমি বলিলাম, “আপনার কাছে আমি দাসীপনা করিতেও রাজি ।”

“আপনি কেন বল ভাই? বল তমাকে বলিও। সেই মাকে লইয়া একটু গোল আছে। তিনি একটু থিটুথিটে-তাকে বশ করিয়া লইতে হইবে। তা তুমি পারিবে-_আমি মান্ধুয চিনি। কেমন রাজি 1”

আমি বলিলাম, “রাজি না হইয়া কি করি? আমার আর উপায় নাই।” আমার চক্ষুতে আবার জল আসিল।

সে বলিল, “উপায় নাই কেন? রও ভাই, আমি আসল কথা ভুলিয়া গিয়াছি। আমি আদিতেছি।”

স্ভাষিণী ঠো করিয়া ছুটিয়া মাসীর কাছে গেল-_বলিল, “হা গা ইনি তোমাদের কে গা?”

এটুকু পথ্যন্ত মামি শুনিতে পাইলাম। তার মাপী কি বলিলেন, তাহা শুনিতে পাইলাম না। বোধ হয়, তিনি যতটুকু জানিতেন, তাহাই বলিলেন। বলা বাহুল্য, তিনি কিছুই জানিতেন না) পুরোহিতের কাছে যতটুকু শুনিয়া- ছিলেন, ততটুকু পধ্যন্ত। ছেলেটি এবার মার সঙ্গে যায় নাই--আমার হাত লইয়া খেলা করিতেছিল। আমি তাহার সঙ্গে কথা কহিতেছিলাম। স্থৃভাষিণী ফিরিয়া আদিল।

ছেলে বলিল, “মা, আঙ্গা হাত দেখ,।”

স্ভাষিণী হাসিয়া বলিল, “আমি তা অনেকক্ষণ দেখিয়াছি ”' আমাকে

ইন্দিরা বলিল' “চল গাড়ি তৈয়ার। না যাও, আমি ধরিয়া লইয়া! যাইব কিন্তু যে কথাটা বলিয়াছি--মাকে বশ করিতে হইবে”

সুভাষিণী আমাকে টানিয়া লইয়া গাড়িতে তুলিল। পুরোহিত মহাশয়ের দেওয়া রাঙ্গাপেড়ে কাপড় ছুইখানির মধ্যে নি আমি পরিয়াছিলাম-__ আর একখানি দড়িতে শুকাইতেছিল-_তাহা লইয়া যাইতে সময় দিল না তাহার পরিবর্তে আমি স্ুভাষিণীর পুত্রকে কোলে লইয়া ুখম্বন করিতে করিতে চলিলাম।

সপ্তম পরিচ্ছেদ

কালির বোতল

মা-_সুভাঁষিণীর শীশুড়ী। তাহাকে বশ করিতে হইবে__স্থুতরাং গিয়াই তাহাকে প্রণাম করিয়া পায়ের ধুলা লইলাম, তার পর এক নজর দেখিয়' লইলাম, গান্ুষটা কি রকম। তিনি তখন ছাদের উপর অন্ধকারে, একট পাটা পাতিয়া, তাকিয়! মাথায় দিয়! শুইয়া পড়িয়া আছেন, একটা ঝি পা টিপিয় দিতেছে আমার বোধ হইল, একটা লম্বা কালির বোতল গলায় গলায় কাকি ভরা, পাটার উপর কাঁত হইয়া পড়িয়। গিয়াছে। পাকা চুলগুলি বোতলটির টিনের ঢাঁকনির * মত শোভা পাইতেছে। অন্ধকারটা বাড়াইয়া তুলিয়াছে।

আমাকে দেখিয়া গৃহিণী ঠাকুরাণী বধূকে জিজ্ঞাসা করিলেন, “এটি কে?”

বধূ বলিল, “তুমি একটি রাঁধুনী খু'জিতেছিলে, তাই্‌ একে নিয়া এসেছি ।”

গুৃহিণী। কোথায় পেলে ?

বধূ। মামীমা দিয়াছেন গু বামন না কায়েখ।

ব। কায়েখ।

(0551৩,

শীত শশী ভিত টিশোিতিশীশীশশিত 2 পা শী তিশস্পিীেীশি পাপী আপা

ইন্দিরা ২১

1 গৃ। আচ তোমার মাসীমার গোড়া কপাল | কায়েতের মেয়ে কি হবে? টি দিতে হলে কি দিব?

ব। রোজ আর বামনকে ভাত দিতে হবে না_যে কয় দিন চলে চলুক-_ তার পর বামনী পেলে রাখা যাবে-_তা! বামনের মেয়ের ঠ্যাকার বড়__আমরা তাদের রান্নাঘরে গেলে হীড়িকুড়ি ফেলিয়া দেন--আবার পাতের প্রসাদ দিতে আসেন! কেন, আমরা কি মুচি!

আমি মনে মনে স্থভাষিণীকে ভূয়পী প্রশংসা করিলাম__কালিভরা লম্বা বোতলটাকে সে মুঠোর ভিতর আনিতে' জানে দেখিলাম। গৃহিণা বণিলেন, “তা সত্যি বটে মা__ছোট লোকের এত মহম্কার সওয়া বায় না। তা এখন দিন কতক কায়েতের মেয়েই রেখে দেখি মাইনে কভ বলেছে ?”

ব। তা আমার সঙ্গে কোন কথ! হয় নাই।

গৃ। হায় রে, কলিকালের মেয়ে! লোক রাখতে নিয়ে এসেছ, তার মাইনের কথা কও নাই?

আমাকে গৃহিণী জিজ্ঞাসা করিলেন, “কি নেবে তুমি ?”

আমি বলিলাম, “বখন আপনাদের আশ্রয় নিতে এয়েছি, তখন যা দিবেন তাই নিব।”

থু। তা বামনের মেয়েকে কিছু বেশী দিতে হয় বটে, কিন্ত তুমি কায়েতের মেয়ে--তোমায় তিন টাকা মাসে আর খোরাক চার দিব

আমার একটু আশ্রয় পাইলেই যথেষ্ট-স্থতরাং তাহাতে সম্মত হই কঃ [বলা বাহুল্য যে, মাহিয়ানা লইতে হইবে শনিয়াই রা কীদিয়া উঠিল। বলিলাম, “তাই দিবেন ।” মনে করিলাম, গোল মিটিল__কিন্থ চাহা নহে। লম্বা বোতলটা় কালি | মনেক। তিনি বলিলেন, “তোমার বয়দ কি গ11 অন্ধকারে বয়স ঠাওর 'পাইতেছি না-কিন্তু গলসটটা ছেলেমান্ষের মত বোধ হইতেছে 1”

বলিলাম, “বয়স এই উনিশ কুড়ি। ণী। তবে বাছা, অন্যত্র কাজের চেষ্টা দেখ গিয়া বাও। আমি সমস্ত লোক রাখি না। মাঝে হইতে বলিল, “কেন মা, সমন্ত লোক কি কাজ কর্ম পারে না?”

২২ ইন্দিরা

' গৃ। দূর বেটা পাগলের মেয়ে। দমত্ত লোক কি লোক তাল হয়?

স্থ। সেকিমা! দেশশুদ্ধ সব সমত্ত লোক কি মন্দ?

গু তা নাই হলো--তবে ছোট লোক যারা খেটে খায় তারা কি.ভাগ?

এবার কানন! রাখিতে পারিলাম না। কাদিয়া উঠিয়া গেলাম। কালির বোঁতলটা! পুত্রবধূকে জিজ্ঞাসা করিল, “ছুঁড়ী চললো! না! কি?”

স্ুভাষিণী বলিল, “বৌধ হয়।”

গ। তা যাক গে।

সু। কিন্তু গৃহস্থ বাড়ী থেকে না থেয়ে যাবে? উহাকে কিছু খাঁওয়াইয়া বিদায় করিতেছি

এই বলিয়া সভাষিণী আমার পিছু পিছু উঠিয়া আসিল। আমাকে ধরিয়া আপনার শয়নগৃহে লইয়া গেল। আমি বলিলাম, আর ধরিয়া রাখিতেছ কেন? পেটের দায়ে, কি প্রাণের দায়ে, আমি এমন সব কথা! শুনিবার জন্য থাকিতে পারিব না।”

সুভীষিণী বলিল, “থাকিয়া কাজ নাই। কিন্তু আমার অনুরোধে আঙ্তিকার রাত্রি! থাক।”

কোথায় যাইব? কাজেই চক্ষু মুছিয়া সে রাত্রিটা থাকিতে সম্মত হইলীম। কথা! কথার পর স্থভাষিণী জিজ্ঞাসা করিল, “এখানে যদি না থাক, তবে যাবে কোথায় ?”

আমি বলিলাম, “গঞ্গীয়।”

এবার স্থভাষিণীও একটু চক্ষু মুছিল। বলিল, “গঙ্গায় যাইতে হইবে না, আমিকি করিতা একটুখানি বসিয়া দেখ। গোলযোগ উপস্থিত করিও না-_ আমার কথা শুনিও।” |

এই বলিয়৷ স্থুভাষিণী হারাণী বলিয়া ঝিকে ডাকিল। হারাণী স্থৃতাষিণীর খাদ ঝি। হারাণী আদিল। মোটা সোটা কুচকুচে, চালিশ পার, হাসি মুখে ধরে না, সকলতাতেই হাসি। একটু তিরবিরে। স্ুুভাষিণী বলিল, “একবার তাঁকে ডেকে পাঠা ।”

হারাণী বলিল, “এখন অসময়ে আসিবেন কি? আমি ডাকিয়া পাঠাই বাকি করিয়া?”

সুভাষিণী ভ্রতঙ্গ করিল, "যেমন করে পারিস্‌-_-ডীক গে যা।”

ইন্দিরা ২৩

হারাণী হাসিতে হাসিতে চলিয়া গেল। আমি স্ুভাষিণীকে জিজ্ঞাসা করিলাম, “ডাকিতে পাঠাইলে কাকে? তোমার স্বামীকে?”

স্ু। নাত কি পাড়ার মুদি মিন্ষেকে এই রাত্রে ডাকিতে পাঠাইব?

আমি বলিলাম, “বলি, আমায় উঠিয়া যাইতে হইবে কিনা, তাই জিজ্ঞ'দা করিতেছিলাম।”

স্থভষিণী বলিল, “না এইখানে বসিয়া. থাক ।”

স্ভাষিণীর স্বামী আসিলেন। বেশ সুন্দর পুরুষ। তিনি আপিম।ই নূলিলেন, “তলব কেন?” তার পর আমাকে দেখিয়া বলিলেন, “ইনি কে?"

স্থভাষিণী বলিল, “গর জন্যই তোমাকে ডেকেচ্ছি। আমাদের রাধুনী বাড়ী ঘাবে, তাই গুঁকে তার জায়গায় রাখিবার জন্ট আমি মাসীর কাছ হইতে এনেছি কিন্তু মা গুকে রাখিতে চান না।”

তীর স্বামী বলিলেন, “কেন চান না?”

স্থ। সমস্ত বয়স।

সভার স্বামী একটু হাসিলেন। বলিলেন, “তা আমায় কি করিতে হইবে?”

স্থ। ওঁকে রাখিয়ে দিতে হবে।

স্বামী। কেন?

স্থৃতাষিণী, তাহার নিকট গিয়া, মামি না শুনিতে পাই, এমন স্বরে বলিলেন, 'আমার হুকুম |”

কিন্ত আমি শুনিতে পাইলাম তার স্বামীও 2েমনই স্বরে বলিলেন, 'যে আজ্ঞা!”

স্থভা। কখন পারিবে?

স্বামী। খাওয়ার সময়।

তিনি গেলে আমি বলিলাম, “উনি বেন রাখাইলেন, কিন এমন কটু সয়ে আমি থাকি কি প্রকারে ?”

সুভাষিণী। সে পরের কথা পরে হবে। গঙ্গা আর এক দিনে বুজিয়ে যাইবে না।

রাত্রি নয়টার সময়, স্তাষিণীর স্বামী ( তার নাম রমণ বাবু ) আহার করিতে আমিলেন। তার মা কাছে গিয়া বসিল। ন্রভামিণা আমাকে টানিয়া লইয়া চলিল, বলিল “কি হয় দেখি গে চল।”

২৪ ইন্দির!

আমরা আড়াল হইতে দেবিলাম, নানাবিধ ব্যঞ্জন রান্না হইয়াছে, কিন্তু রমণ বাবু একবার একটু করিয়। মুখে দিলেন, আর সরাইয়া রাখিলেন। কিছুই থাইলেন লা। তাঁর মা জিজ্ঞাসা করিলেন, “কিছুই খেলি না বাবা !”

পুত্র বলিল, “ও রান্ন। ভূত প্রেতে খেতে পারে না। বামন ঠাকুরাণীর রান্না খেয়ে খেয়ে অরুচি জন্মে গেছে। মনে করেছি কাল থেকে পিসীমার বাড়ী গিয়ে খেয়ে আসব ।”

তখন গৃহিণী ছোট হয়ে গেলেন। বলিলেন, “তা করতে হবে না যাছু! আমি আর রাধুনী আনাইতেছি।”

বাবু হাত ধুইয়া উঠিয়া গেল্নে। দেখিয়া স্ভাষিণী বলিল, “আমাদের জন্য ভাই তুর খাওয়া হইল না। তা না হোক-_কাজটা। হইলে হয়।”

আমি অগ্রতিভ হইয়া কি বলিছেছিলাম, এমন সময়ে হারাণী আসিয়া স্ুভাষিণীকে বলিল, “তোমার শাশুড়ী ডাঁকিতেছেন।” এই বলিয়া সে খাঁনথা আমার দিকে চাহিয়া একটু হাঁসিল। আমি বুঝিয়াছিলাম, হাসি তার রোগ, স্থভীধিণী শাশুড়ীর কাছে গেল, আমি আড়াল হইতে শুনিতে লাগিলাম।

সুভাষিণীর শাশুড়ী বলিতে লাগিল, “সে কায়েৎ ছু'ড়ীটে চলে গেছে কি?”

স্ুভা। নাঁতার এখনও খাওয়া হয় নাই বলিয়া, যাইতে দিই নাই।

গৃহিণী বলিলেন, “সে রাধে কেমন?”

সুভা। তাজানি না।

গৃ। “আজ না হয় সেনাই গেল। কাল তাকে দিয়া দুই একখানা বাধিয়ে দেখিতে হইবে

স্থভা। তবে তাকে রাখি গে।

এই বলয়! স্ুভাষিণী আমার কাছে আগিয়! জিজ্ঞাস! করিল, “তাই, তুমি রাধিতে জান ত?”

আমি বলিলাম, “জানি। তা! বলেছি।”

স্থভা। ভাল রাধিতে পার ত?

আমি। কাল খেয়ে দেয়ে বুঝিতে পারিবে

_ স্ুভা। যদি অভ্যাস না থাকে তবে বল, আমি কাছে বসিয়া শিখিয়ে দিব। আমি হাসিলাম। বলিলাম, “পরের কথা পরে হবে ।”

খাড টা সিল ১২৯৩ 681৫. 48৪ অষ্টম পরিচ্ছেদ বিৰি পাণ্ডৰ পরদিন রাধিলীম। স্ভাষিণা দেখাইয়া দ্রিতে আসিয়াছিল, আমি ইচ্ছা করিয়া সেই সময়ে লঙ্কা ফোড়ন দিলাম_সে কাশিতে কাশিতে উঠিয়া গেল, “মরণ আর কি!” রান্না হইলে, বালকবালিকারা৷ প্রথমে গাইল। ম্ুুভাষিণীর ছেলে অন্ন ব্যঞ্জন বড় খায় না, কিন্তু স্থভাষিণীর পাচ বংসরের একটি মেয়ে ছিল। সুভাধিণা তাহাকে জিজ্ঞাসা করিল, “কেমন হয়েছে, হেমা ?” (স বলিল, “বেশ ! বেশ গো বেখ ?” মেয়েটি বড় প্লাক বলিতে উ।ণবাসিত, সে আবার বলিল,৬“বেশ গো বেশ, রাধ বেশ, বাধ কেশ, বকুল ফুলের মালা। রাঙ্গা সাড়ী, হাতে হাড়ী, রাধছে গোর়ালার বালা এমন সময়, বাজল বাশী, কদন্বের তলে। কাদিয়ে ছেলে, রান্না ফেলে, রাধুনি ছোটে জলে /” মা ধমকাইল, “নে শ্লোক রাখ,। তখন মেয়ে চুপ করিল। তার পর রমণ বাবু খাইতে বদিলেন। সাড়াল হইতে দেখিতে লাগিলাম। দেখিলাম, তিনি সমস্ত ব্যগ্চনগুলি কুড়াইয়া থাইলেন।. গ্ৃহিণার মুপে হাসি ধরে না। রমণ বাবু জিজ্ঞাসা করিলেন, “মাজ কে রেধেছে মা?” গৃহিনী বলিলেন, “একটি নূতন লোক আসিয়াছে।” রমণ বাবু বলিলেন, “রাধে ভাল ।” এই বলিয়া তিনি হাত ধুইয়া উঠিয়া গেলেন।

২৬ ইন্দিরা

তার পর কর্ঠ। খাইতে বদিলেন। সেখানে আমি যাইতে পারিলাম নাঁ_ গুহিণীর আদেশমত বুড়া বামন ঠাকুরাণী কর্তার "ভাত লইয়া! গেলেন। এখন বুঝিলাম, গৃহিণীর কোথায় ব্যথা, কেন তিনি দমর্থবয়স্থা। স্ত্রীলোক রাখিতে পারেন না। প্রতিজ্ঞা করিলাম, যত দিন এখানে থাকি, সে দিক্‌ মাড়াইব না]

আমি সময়ান্তরে লোকজনের কাছে সংবাদ লইয়াছিলাম, কর্তার কেমন চরিত্র। সকলেই জানিত, তিনি অতি ভদ্র লোক-_জিতেন্ত্রিয়। তবে কালির বোতলটার গলায় গলায় কালি।

বামন ঠাকুরাণী ফিরিয়া আসিলে তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলাম যে, “কর্তা রান্না খেয়ে ক্রি বললেন ?”

বামনী চটিয়া লাল? চেঁচাইয়া উঠিম্বা বলিল, “ও গো, বেশ রেঁধেছ। আমরাও রণধিতে জানি , তা বুড়ো! হলে কি আর দর হয়! এখন রাঁধিতে

গেল রূপ যৌবন চাই।”

বুঝিলাম, কর্তা খাইয়া! ভাল বলিয়াছেন কিন্তু বামনীকে নিয়া একটু রঙ্গ করিতে মাধ হইল। বলিলাম, “তা রূপ যৌবন চাই বই কি” বামন দিদি! , বুড়ীকে দেখিলে কার খেতে রোঁচে ?%. দাত বাহির করিয়া অতি কর্কশ কণ্ঠে বাষ্তী বলিল, “তে তামারই বুঝি রূপ ' যৌবন থাকিবে? মুখে পোকা পড়বে না?”

এই বলিয়! রাগের মাথায় একটা হীড়ি চড়াইতে গিয়া পাচিকা দেবী হাঁড়িটা ভাঙ্গিয়া ফেলিলেন। আমি বলিলাম, “দেখিলে দিদি! রূপযৌবন না খাঁকিলে হাতের ছাড়ি ফাটে" ,. তখন ব্াহ্গণী ঠাকুরাণী অর্ধনগ্রাবস্থায় বেড়ী নিয়া আমাকে তাড়া করিয়া মারিতে আদিলেন। বয়োদোষে কাণে একটু খাট, বোধ হয় আমার সকল . কথা শুনিতে পান নাই। বড় করর্য্য প্রতাত্তর করিলেন। আমারও রঙ্গ চড়িল। আমি বলিলাম, “দিদি, থামো। বেড়ী হাতে থাকিলেই ভাল ।”

এই সময়ে সুভাষিণী সেই ঘরের ভিতর প্রবেশ করিল। বামনী রাগে তাহাকে দেখিতে পাইল না। আমাকে আকার তাড়িয়৷ আসিয়া! বলিল, “হারাম- জাদী! যা মুখে আসে তাই বলিবি! বেড়ী আমার হাতে থাকিবে না কি পায়ে দেবে নাকি? আমি পাগল!”

ইন্দিরা ২৭

তখন স্ভাষিণী দ্রভঙ্গ করিয়া তাহাকে বলিল, “আমি লোক এনেছি, তৃমি হারামজাদী বলবার কে? তুমি বেরোও আমার বাড়ী থেকে।

তখন পাচিকা শশব্যন্তে বেড়ী ফেলিয়া দিয়া কাদ কাদ হইয়া বলিল, “ও মাসেকি কথা গো! আমি কখন্‌ হারামজাঁদী বল্লেম। এমন কথা আমি কখন মুখেও আনি নে। তোমরা আশ্চর্য করিলে মা!”

শুনিয়া স্থতাষিণী খিল্‌ থিল্‌ করিয়া হাসিয়া উঠিল। বামন ঠাকুরাণী তখন ডাক ছাড়িয়া কাদিতে আরম্ভ করিলেন,_বলিলেন, “আমি যদি হারামজাদী বলে থাকি, তবে আমি যেন গোলায় যাই--”

(আমি বলিলাম, “বালাই ! ষাট. !”)

“আমি যেন ঘমের বাড়ী যাই--,"

(মামি। সেকি দিদি) এত সকাল সকাল! ছি দিদি! মার ছুদিন থাক না।)

“আমার যেন নরকেও ঠাই হয় না"

এবার আমিঞ্বলিলম, “ওটি বলিও না, দিদি! নরকের পোক বদি তোমার রান্না না খেলে, তবে নরক আবার কি?

ঝুড়ী কাদিয়া স্ুভাষিণীর কাছে নালিশ করিল, “আমাকে বা মুখে আসিবে, তাই বলিবে, আর তুমি কিছু বলিবে না? আমি চল্লে গিন্নীর কাছে।” সভা